অযাচিত ভাবনা…

“প্রাণের বাংলাদেশ”

বাংলাদেশ , আমাদের প্রাণের অধিক প্রিয় মাতৃভূমি। প্রায় ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের এই দেশটি আয়তনে ছোট হলেও জনসংখ্যায় পৃথিবীতে অষ্টম। বিশাল এই জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রুপান্তর করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নিরলস কাজ করে চলেছেন। এর সুফল আমরা এর মধ্যে পাওয়া শুরু করেছি। মাথাপিছু আয় ১৬০০ মার্কিন ডলার পার হয়েছে। দারিদ্র্যের হার দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। প্রায় প্রত্যেক বাড়ীতেই ছেলেমেয়েরা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে। একটা সময় ছিল যখন আমরা অন্যদের অনুসরণ করতাম। কিন্তু বর্তমানে অনেকেই আমাদের অনুসরণ করছে!

“প্রিয় শহর কক্সবাজার”

বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের প্রাকৃতিক নৈসর্গিক জেলা কক্সবাজার। অন্যান্য জেলার চেয়ে এটি সম্পূর্ণ আলাদা কারণ তার রয়েছে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত। একটা সময় ছিল যখন শুধুই সৈকতের বুকে ধূধূ বালু ছিল, কিন্তু এর সৌন্দর্য অবলোকনের জন্য অন্যান্য উপাদানের যথেষ্ট ঘাটতি ছিল। বর্তমানে তা অনেকাংশে কমে এসেছে। তার প্রমাণ পেতে বেশিদূর যেতে হবে না কেবল সৈকতে পদস্পর্শ করলেই হবে। কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে রুপান্তরের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে, মানসম্পন্ন হোটেলের সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে,হলিডে মোড় থেকে টার্মিনাল পর্যন্ত রাস্তা বর্ধনের কাজ অচিরেই শুরু হবে আর সবচেয়ে যেটি বেশি প্রয়োজন সেটি হল পর্যটকের নিরাপত্তা, “ট্যুরিস্ট পুলিশের” মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা হয়েছে। যার কারণে বর্তমানে কক্সবাজারে সারাবছর পর্যটকের ভীড় লেগেই থাকে।

“রোহিঙ্গা সমস্যা”

রোহিঙ্গা সমস্যা শুধুমাত্র কক্সবাজার নয় বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। তাদের যখন সাহায্যের দরকার ছিল বাংলাদেশ সর্বোচ্চ করেছে।তাদের সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ও পাবে। ফলে উখিয়া-টেকনাফ ছাড়িয়ে তারা অন্যান্য জায়গায় চলে যেতে চাইবে। সে সময় হয়ত বর্তমানে সাহায্যকারী সংস্হাগুলোও আর এগিয়ে আসবে না। বিভিন্ন এনজিও সংস্হায় চাকরি করার সুবাধে যারা দেশের বিরুদ্ধে যেতে চাচ্ছেন একবার চিন্তা করুন তো ভবিষ্যতে আপনার পরিবার বা আপনি নিরাপদ থাকবেন কিনা? দুই বা চার বছরের স্বার্থপরী চিন্তা বাদ দিয়ে দেশের জন্য চিন্তা করুন। কক্সবাজার শহরের বাসা ভাড়া এখন রাজধানীর এলিট এলাকার সমপর্যায়ে চলে আসছে! কিন্তু মানুষজন তো আর এলিট হয় নি তারা তো সাধারণ রয়ে গিয়েছন। ফলে সমস্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছেতো পাচ্ছেই।

মোদ্দা কথা…

একটা দেশের ভূ-সীমার মাঝে ভিন্ন মতের, পথের, ধর্মের, বর্ণের মানুষ বসবাস করতে পারে। সবাই মিলেমিশে থাকাটাই একটা দেশের উন্নয়নের যেমন শর্ত তেমনি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। দেশের যে কোন বৃহত্তর স্বার্থে অবশ্যই সবাইকে একসাথে কাজ করা উচিত। ব্যক্তি, গোত্রের বা দলের চেয়ে রাষ্ট্র অনেক বড় এ বিষয়টি আমাদের সবাই এখনো ধারণ করতে পারেনি। যত দ্রুত আমরা তা ধারণ করতে পারব ততই তা রাষ্ট্রের মঙ্গল বয়ে নিয়ে আসবে।

শেখর বড়ুয়া

লেকচারার, দর্শন

কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজ।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply