অল্প কথার গল্প: আবু নায়েম

সেই ৩০ ত্রিশ বছর আগের কথা। আমদের পরিবারের অবস্থা ছা পোষা। বাবা সেনাবাহিনীর সদস্য। পরিবারে তিন ভাই আমরা। তাছাড়া ও প্রতিমাসে দাদা দাদীকে খোরপোশ দেয়া ও চাচা ফুপুদের কলেজের বেতন ও প্রায় ই বাবাকে দিতে দেখেছি। পরিবারে বাবার ভুমিকা রাষ্ট্রপতির মতো আর মায়ের ভুমিকা প্রধানমন্ত্রীর মতো। আর আমরা তিন ভাই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের মতো। যেহেতু পিঠেপিঠি তাই কারো মতের সাথে কারো মত মিলতো না। সব সময়ই হাউকাউ বাবাই প্লাস্টিকের হ্যাংগারের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতেন যদি মা কখনো বিবাদ মেটাতে পরাস্ত হতেন।

একদা বাবা মাটির ব্যাংক নিয়ে আসলেন। উদ্দেশ্য হলো ১/২/৫/১০ টাকা জমিয়ে বড় একটা এমাউন্ট করে কাজে লাগানো। একদিন মাথায় কি দূর্নীতির ভুত চাপলো। যে তিন ভাই বিবাদ ছাড়া কিছুই বুঝি নাই তারা সেভেন আপ, ফান্টা, প্যাটিস খেতে বা, দামী পেন্সিল রাবার, রুলার কিনতে মাটির ব্যাংক থেকে টাকা চুরি করতে একমত হলাম। পার্সেন্টেজ ও পাকাপোক্ত। চিমটা দিয়ে প্রতি দশ টাকা বের করতে পারলে

বড় ভাই —৫ টাকা ; আমি মেঝো ভাই —৩ টাকা আর ছোট জন যেহেতু দরজায় পাহারা দিবে তাই ২ টাকা পাবে। বড়ভাইয়ের হুকুমে আমি চিমটা দিয়ে টাকা বের করতাম আর ছোট জন পাহারায়। দিন বেশ কাটছিলো। একদিন টিনের চিমটা দিয়ে টাকা বের করতে যেয়ে মাটির ব্যাংকের এক কোনা ভেংগে গেল। আম্মা যা বুঝার বুঝে গেল। বাবা অফিস থেকে আসতে না আসতেই মা দিলেন বিচার !!! জীবনে সেদিন প্রথম বুঝেছি সেনাবাহিনীর জরুরি অবস্থা কাকে বলে রে ভা….ই !!! বাবার ওই অপারেশনের নাম আমার মতে —”অপারেশন সার্চিং স্কুল ব্যাগ”।

আমার ব্যাগে দামী রুলার, পেন্সিল মুছুনি, পেন্সিল চোক্কানি আর কিছু খুচরা পয়সা পেয়েছিল। বড়ভাইয়ের ব্যাগে বিশ পঁচিশেক টাকা। আর ছোটজন তো আইসক্রিম বা চকলেট খেতো তাই কিছুই পাওয়া যায় নি।

চললো আধ ঘন্টার বজ্রসহ ঝড়ো রিমান্ড। হুকুমের আসামি বড়ভাই ; আমি ব্যাংকের টাকা অপসারণকারী আর ছোট জন এই তরিৎকর্ম অঘটনঘটন প্রহরী। যেহেতু ব্যাংক থেকে টাকা আমি বের করেছি তাই আমিই আসল অপরাধী হলাম। তাই যে মাইর খেলাম বাকী জীবনে আর বাবার এক পয়সা ও চুরি করি নি। শুধু আমি নই , আমাকে যে ভাবে সাইজ করা হয়েছে তা দেখে আমার দুই ভাই ও পীরে কামেল হয়ে গিয়েছিল।

মন্তব্য ঃ “বুঝলে বর্তমানের চিত্রকল্প, না বুঝলে ছোটবেলার গল্প”।

লেখকঃ
আবু নাইম
সহঃ পরিচালক, কক্সবাজার জেলা পার্সপোর্ট অফিস, কক্সবাজার।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply