নাশকতা ঠেকাতে আগামী ৫ জানুয়ারি মাঠে থাকবে ১২ হাজার র‌্যাব-পুলিশ

নাহিদ দেওয়ান, ঢাকা :

আগামী ৫ জানুয়ারিতে সব ধরনের নাশকতা মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে আইনশৃংখলা বাহিনী। পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে এ নিয়ে চলছে দফায়-দফায় বৈঠক। ইতিমধ্যেই রাজধানীজুড়ে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। নাশকতা করতে পারে এমন সব বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এ তালিকা ধরেই শুরু হয়েছে বিশেষ অভিযান।
অনুমতি না মিললেও বিএনপি ৫ জানুয়ারি রাজধানীতে সমাবেশ করবে- এমন ঘোষণা দেয়ার পরপরই নড়েচড়ে বসেছেন পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। বিএনপির হুংকারকে আমলে নিয়েই আইনশৃংখলা বাহিনী তা মোকাবেলায় কৌশল নির্ধারণ করছে। পুলিশের মাঠপর্যায়ের একটি সূত্র বলেছে, ৫ জানুয়ারিতে বিএনপি যাতে রাজপথে নামতে না পারে সেজন্য যা যা করা দরকার তার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এদিকে পুলিশের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, গত বুধবার পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদকে র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে বদলি করা হলেও ৫ জানুয়ারির আগে তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দিচ্ছেন না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ৭ জানুয়ারি তার র‌্যাবে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, ৫ জানুয়ারি বিএনপি গণতন্ত্র হত্যা দিবস উল্লেখ করে যে কোনো মূল্যে সমাবেশের ডাক দেয়ার পর থেকেই আইনশৃংখলা বাহিনী রাজধানীতে সতর্কাবস্থায় রয়েছে। ইতিমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সতর্ক করা হয়েছে রাজধানীর ৪৯ থানাকে। কূটনৈতিক এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দাদের টহল বাড়ানো হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, ৫ জানুয়ারি যে কোনো অরাজক পরিস্থিতি ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড রোধে শুধু রাজধানীজুড়ে মোতায়েন থাকবে র‌্যাব, পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার অন্তত ১২ হাজার সদস্য। পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি সূত্র বলেছে, ৫ জানুয়ারি সামনে রেখে পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি) থেকে শুরু করে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পর্যায়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তালিকা সরবরাহ করা হয়। যে কোনো মূল্যে মাঠপর্যায়ের এসব নেতাদের পুলিশি হেফাজতে নেয়ারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
ডিএমপির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, ৫ জানুয়ারি বিশৃংখলার আশংকায় গোটা নগরীকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হবে। রাজধানীকে ৯টি সেক্টরে ভাগ করে অরাজক পরিস্থিতি ঠেকাতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ৪ জন যুগ্ম কমিশনার এসব সেক্টরের দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ৪ জানুয়ারি থেকেই নগরীর বিভিন্ন স্পটে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও পথচারী তল্লাশি শুরু হবে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, এখনও পর্যন্ত ৫ জানুয়ারি বিএনপির নেতাকর্মীদের রাজপথে না নামার নির্দেশনাই বহাল আছে। জানতে চাইলে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের জনসংযোগ বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা ও নাশকতা রোধে আইনশৃংখলা বাহিনীর যত সদস্য প্রয়োজন, তত সদস্যই ওই দিন মাঠে থাকবে। তবে এখনও হাতে সময় আছে জানিয়ে পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান, সব কিছু বিবেচনায় এনেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। গণতন্ত্রের বিজয় দিবস ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ৫ জানুয়ারি রাজধানীতে ব্যাপক শো ডাউনের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি গণতন্ত্র হত্যা দিবস ঘোষণা দিয়ে ওই দিন রাজধানীতে যে কোনো মূল্যে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে। 

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply