আজ থেকেই দু’ভাগে বিভক্ত ভারত অধীকৃত কাশ্মীর

সিবিএল২৪ :

পূর্বঘোষণা মতো বুধবার (৩১ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকেই রাজ্যের মর্যাদা হারাল জম্মু-কাশ্মীর। বুধবার রাত ১২টার পর থেকেই জম্মু-কাশ্মীর ভারতের মানচিত্রে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। জম্মু-কাশ্মীর থেকে বিচ্ছিন্ন লাদাখও এখন পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। ফলে, ভারতে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বেড়ে দাঁড়াল ৯। সেইসঙ্গে রাজ্যের সংখ্যা একটি কমে হল ২৮।

কাশ্মীরের জন্য থাকা সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ লোপ ও জম্মু-কাশ্মীরের পুনর্গঠন বিল আনার ফলে বিশেষ মর্যাদা শুধু নয়, রাজ্যের মর্যাদাটুকুও হারায় জম্মু ও কাশ্মীর। এদিন মধ্যরাত থেকে তা সরকারি ভাবে স্বীকৃতি পেল।

ভারতের মানচিত্রে বাড়ল দু’টি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ। কেন জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের মর্যাদা হারাল, সেই ব্যাখ্যা আগেই দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অমিত জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবাদের কথা মাথায় রেখেই জম্মু ও কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে, ফের রাজ্যের মর্যাদা ফিরে পেতে পারে জম্মু-কাশ্মীর।

গত ৬ অগস্ট সংসদে জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিলের পাশাপাশি ওই রাজ্যের পুনর্গঠন সংক্রান্ত বিলটি আনে বিজেপি। বিলে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদ দমন ও প্রশাসনিক সুবিধার কথা মাথায় রেখে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অমিত শাহ বলেন– লাদাখ এত দিন জম্মু ও কাশ্মীরের সঙ্গে থাকলেও, সেখানকার ভূপ্রকৃতি ও জনসংখ্যার চরিত্র আলাদা। সেখানকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত এলাকা ঘোষণার।

অন্য দিকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদের কথা মাথায় রেখে জম্মু ও কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত এলাকা করা হচ্ছে। অন্য কেন্দ্রশাসিত এলাকার মতোই এ ক্ষেত্রে রাজ্যের মাথায় থাকবেন উপরাজ্যপাল। সংবিধানের ৩৬০ অনুচ্ছেদে আর্থিক সংকট ঘোষণা করার অধিকার থাকবে কেন্দ্রের হাতে। দিল্লির মতো জম্মু ও কাশ্মীরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বও চলে আসবে কেন্দ্রের হাতে।

বিজেপি সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দিল্লি-পুদুচেরির মতোই বিধানসভা নির্বাচন হবে জম্মু ও কাশ্মীরে। অন্য দিকে দমন ও দিউ বা চণ্ডীগড়ের মতো লাদাখে বিধানসভা থাকবে না। জনসংখ্যার তারতম্যের কারণে ওই পার্থক্য বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভার মেয়াদ ছয় বছর থেকে কমে দাঁড়াচ্ছে পাঁচ বছরে। তবে এখনই বিধানসভার সদস্য কমছে না। জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভার বর্তমানে বিধায়ক সংখ্যা ১১১, যার মধ্যে ৪ জন লাদাখের। সেই চার জনকে বাদ দিয়ে ১০৭ সংখ্যার জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভা গঠন করা হবে। আপাতত বিধায়ক সংখ্যা এক থাকলেও, ভবিষ্যতে জম্মু-কাশ্মীরে সরকার গঠনে আসন পুনর্বিন্যাসের পথে হাঁটার পক্ষপাতী শাসকশিবির। যাতে আসন পুনর্বিন্যাসে জম্মু এলাকায় বিধানসভা আসন সংখ্যা বাড়ে। ক্ষমতার ভরকেন্দ্র শ্রীনগর থেকে সরে আসে হিন্দু অধ্যুষিত জম্মুতে।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply