আজ রাতেই উঠে যাচ্ছে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা, ইলিশ ধরতে প্রস্তুত কক্সবাজারের জেলে সম্প্রদায়।

পরিতোষ বড়ুয়া পবন, কক্সবাজার :

ইলিশের প্রজনন মৌসুম হিসেবে দ্বিতীয় ধাপে  ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ রাত ১২টায়। গত ৯ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ নিষেধাজ্ঞায় মোট ২২দিন বন্ধ থাকায় নীরব-নিস্তব্ধ উপকূলীয় মৎস্যবন্দর আবার সরব হয়ে উঠেছে।

দীর্ঘ দিন অলস সময় কাটিয়ে আবার ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন উপকূলের জেলে সম্প্রদায়গুলো। ইতোমধ্যেই ট্রলারে তেল, বরফ, সরদ তুলে সবাই প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাগরে যাবার। ফলে আবারও বাজারে দেখা মিলবে মাছের রাজা ইলিশের।

চলছে ইলিশ ধরার প্রস্তুতি

বরগুনার তালতলী ও আমতলী, পটুয়াখালীর গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, কলাপাড়ার মহিপুর, কুয়াকাটার সাগর পাড়ের জেলেরা মাছ শিকারে অপেক্ষার প্রহর গুণছেন। জেলেরা জানান, ২২ দিনে তারা মাছ শিকারে নামতে পারেননি। সংসারে অভাব-অনটন প্রকট আকার ধারণ করেছে। জেলেরা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা ধার, কেউবা এনজিও, সমিতি, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। ট্রলার, নৌকা, জাল মেরামত কাজ সম্পন্ন করে রাত থেকেই সাগরে নামতে তারা সব আয়োজন সমাপ্ত করেছেন।

মঙ্গলবার বরিশালের মেঘনা, কালাবদর, তেঁতুলিয়া, মাসকাটা, কীর্তনখোলা নদীতে মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে আটক জাল এবং জেলেদের পাশাপাশি যেসব মাছ পাওয়া গেছে সেসব মাছের ৪০-৫০ শতাংশ ইলিশেরই পেটভর্তি ডিম পাওয়া যায়।

এ বছর মা ইলিশ ধরা নিষেধাজ্ঞার সময় ৩৫ জেলার ১৪৭টি উপজেলায় চার লাখ আট হাজার ৩২৯টি জেলে পরিবারকে ২০ কেজি হারে আট হাজার ১৬৭ টন খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। জাটকা ধরা নিষিদ্ধকালীন আট মাস দেশের ১৭ জেলার ৮৫টি উপজেলায় জাটকা আহরণে বিরত দুই লাখ ৪৮ হাজার ৬৭৪টি জেলে পরিবারে ৪০ কেজি হারে চার মাসের জন্য প্রায় ৩৯ হাজার ৭৮৮ টন ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে।

বাঁকখালীতে নোঙ্গর করা ট্রলার

কক্সবাজার উপকূলের ফিশারিঘাট এলাকা। যেখানে বাঁকখালী নদীতে নোঙর করা আছে শত শত মাছ ধরার ট্রলার। সরকার ঘোষিত দ্বিতীয় ধাপে ২২ দিনের ইলিশ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞার কারণে এতদিন সাগরে মাছ শিকারে যাননি এসব ট্রলারের জেলেরা। ফলে চরম অনাহারে-অর্ধাহারে দিনযাপন করেছে জেলে পরিবারগুলো। সরকারি নিষেধাজ্ঞার দিন শেষ হয়ে আসায় ফের সাগরে জাল ফেলার অপেক্ষায় খোশ মেজাজে রয়েছে কক্সবাজার উপকূলের জেলেরা। এখন তারা সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। তাই ট্রলারে খাদ্য সামগ্রী, পানি, লাকড়ীসহ নানা সরঞ্জামাদি সরবরাহ করছে। দম ফেলার ফুসরত নেই তাদের।

গত ৯ অক্টোবর থেকে ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধে সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ মধ্যরাতেই ফের মৎস্য শিকারে বের হবেন জেলেরা। আর তাই যেন সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছে ফিশিং ট্রলার মালিক ও জেলেরা। ফিশিং ট্রলার সংস্কারের পাশাপাশি মেরামত করা হয়েছে ছেঁড়া জালও।

আজ বুধবার (৩০ অক্টোবর) সকালে শহরের নুনিয়ারছড়া মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র (ফিশারি ঘাটে) গিয়ে ফিশিং ট্রলার মালিক, মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কক্সবাজার পৌরসভার নুনিয়াছটা ফিশারিঘাটে শত শত ইলিশ ধরার ট্রলার প্রস্তুত হয়ে আছে সাগরে যাওয়ার জন্য।

ফিশারিঘাটে কথা হয় স্থানীয় মোহাজের পাড়ার মৎস্য ব্যবসায়ী নুর হোসেন (৪৫) ও জেলে মো: ইউনুস (৫১) এর সাথে। গত ২৫ বছর ধরে মৎস্য ব্যবসায়ী নুর হোসেন ফিশারিঘাটে মাছ বেচা-কেনা করছেন এবং গত ৩২ বছর ধরে মো: ইউনুস বঙ্গোপসাগরের মাছ ধরছেন। পানির রং দেখলেই তারা বুঝতে পারেন, মাছ আছে কি নেই।
মো: ইউনুস বললেন, টানা ২২ দিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ ছিল। এ কারণে বঙ্গোপসাগর এখন ইলিশসহ নানা প্রজাতির মাছে ভরপুর হবে। জাল ফেললেই ধরা পড়বে ইলিশ, লাক্ষ্যা, কোরাল, পোপা, গুইজ্যাসহ নানা প্রজাতির মাছ। কিন্তু ইলিশ বিচরণ করে ঝাঁকে ঝাঁকে, দলবেঁধে। ইলিশ সমুদ্রের যেখানে বিচরণ করে, সেখানটার পানি লালচে আকার ধারণ করে। এটা যারা ধরতে পারে, তাদের জালেই আটকা পড়বে হাজার হাজার ইলিশ।
মো: ইউনুসের আশা, এবার খুলে যাবে জেলেদের কপাল। মাছ বিক্রির টাকায় দূর হবে জেলেপল্লীর অভাব।

ফিসারিঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী নুর হোসেনের ভাষ্য,
কক্সবাজার জেলার বৃহৎ পাইকারি মাছের বাজার নুনিয়াছটার এই ফিশারিঘাট। এটি সরকারের মৎস্য অতরণকেন্দ্রও। গভীর সমুদ্র থেকে আহরিত অধিকাংশ মাছ এ ঘাটে বেচাবিক্রি হয়। আজ মধ্যরাতে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে তাই ঘাটে আবারো আনাগোনা শুরু হয়েছে মৎস্য ব্যবসায়ীদের। তারা ট্রলারের জেলেদের সঙ্গে কথা বলছেন, মাছ বিক্রির অগ্রিম টাকাও গুঁজে দিচ্ছেন।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply