১৬ নভেম্বর কক্সবাজার পৌর ১০নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের কাউন্সিল: সভাপতির দৌড়ে হাজি মো: ইসমাইল এগিয়ে

পরিতোষ বড়ুয়া পবন, কক্সবাজার পৌরসভা :

গত ২৪ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পৌর আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২৫ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার পৌর আওয়ামীলীগের আওতাধীন ওয়ার্ডগুলোর সম্মেলন ও কাউন্সিল শুরু হয়।

আগামী ১৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে কক্সবাজার পৌরসভার ভিআইপি এরিয়াখ্যাত ১০নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল। নির্বাচন কিংবা সিলেকশনের মাধ্যমে আগামী তিন বছরের জন্য আসবে নতুন নেতৃত্ব।

আগামী ১৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য কাউন্সিল ঘিরে অত্র ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। এই কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে সৎ, দক্ষ, শিক্ষিত এবং পরীক্ষিত ও নতুন নেতৃত্ব দলের দায়িত্বে আসবেন বলে মনে করছেন অত্র ওয়ার্ডের সাধারণ নেতাকর্মীরা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩ বছর কক্সবাজার পৌর ১০নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগকে নেতৃত্ব দিতে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান সভাপতি নুর মোহাম্মদ ও হাজি মো: ইসমাইল এবং সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক দীপক দাশ, জিয়া উদ্দিন কোম্পানি ও নুরুল আবছার।

তবে এবারের কাউন্সিলে সভাপতি পদে আওয়ামীলীগের দুর্দিনের পরীক্ষিত সৈনিক হাজি মো: ইসমাইলের বিজয় এবং সাধারণ সম্পাদক পদে নুরুল আবছার ও জিয়া উদ্দিন কোম্পানির হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১০নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের কয়েকজন সদস্য বলেন, হাজি মো: ইসমাইল আওয়ামীলীগের একজন পরীক্ষিত সৈনিক। তার আত্নীয়স্বজন সকলেই আওয়ামীলীগের অঙ্গ সংগঠনের সাথে ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। শিক্ষা-দীক্ষা, আচার-আচরণ, ভদ্রতা-নম্রতা সবদিকেই হাজি মো: ইসমাইল এগিয়ে।
বর্তমান কমিটির দায়িত্বশীল নেতাদের কর্মকান্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করে তারা অভিযোগের সুরে বলেন, চলতি কমিটির নেতারা বারবার অত্র ওয়ার্ডের সাধারণ নেতাকর্মীদের হতাশ করেছে। তারা দলীয় নাম ব্যবহার করে কেবল নিজের স্বার্থ হাসিল করেছে, উপার্জন করেছে অর্থ-বিত্ত, তারা কখনও খোঁজ নেয়নি সাধারণ নেতাকর্মীর সুখ-দু:খের খবর। ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এবার নবীন-প্রবীনের সমন্বয়ে একটি নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সকলে।

সাক্ষাতকারে হাজি মো: ইসমাইল

আজ রাত (২৮ অক্টোবর) ৭টায় সভাপতি প্রার্থী হাজি মো: ইসমাইলকে তার রাজনৈতিক জীবন ও অনুষ্ঠিতব্য কাউন্সিলে প্রতিদ্বন্দিতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “আমি রাজনীতিতে নানা চড়াই ওৎড়াই পার করেছি। রাজনীতিতে সুসময় এবং দুঃসময় দুটোই পার করেছি। সেই জিয়াউর রহমানের দু:শাসনের সময় থেকেই আমি আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত। সেসময় আমি (স্কুল জীবনে) ছাত্রলীগের রাজনীতি করতাম। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর শান্তিতে ঘরে একটুও ঘুমাতে পারিনি। ২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেনের পর আওয়ামীলীগের বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহন করতে গিয়ে পুলিশ কর্তৃক থানায় অবরুদ্ধের শিকার হয়েছিলাম। সেসময় আমার সাথে থানায় অবরুদ্ধ ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, জেলা সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী আয়েশা সিরাজ, হামিদা তাহেরসহ আরো অনেকে। সে সময়গুলোতে পুলিশী অভিযানের মুখে স্ত্রী পরিজন ফেলে কত রাত যে খোলা আকাশের নিচে কাটাতে হয়েছে হিসাব নাই।”

তিনি আরো বলেন, “আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণ আমার সাথে আছে। তাদের কে সাথে নিয়েই আমি কক্সবাজার পৌর ১০নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগকে ঢেলে সাজাতে চাই এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গনতন্ত্রের মানসকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে একটি মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত সুশৃঙ্খল কমিটি উপহার দিতে চাই।”

তার দাবি, “কক্সবাজার পৌর ১০নং ওয়ার্ড আওয়ামলীগের সাধারণ নেতাকর্মীরা আমার পাশে আছেন এবং সবসময় আমার পাশেই থাকবেন। আমার প্রতি তারাও আস্থা রেখেছেন। আমার বিশ্বাস, এবারের কাউন্সিলে আমি সভপতির পদে বিজয়ী হবো এবং বাংলাদেশের ইতিহাসের সফল প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১ এবং ২০৪১ বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখে এ অঞ্চলকে উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত রাখতে পারবো বলে আমার বিশ্বাস।

সভাপতি পদে নির্বাচিত কিংবা সিলেক্টেড না হলে কি পদক্ষেপ নিবেন জানতে চাওয়া হলে হাজি মো: ইসমাইল বলেন, ” আমি টাকা কিংবা ক্ষমতার অপচর্চার জন্য রাজনীতি করি না। আমি রাজনীতি করি বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে গড়া আওয়ামী লীগের। আমি যদি নির্বাচিত কিংবা সিলেক্টেড নাও হয় তবু আমার অন্তর-আত্নায় আওয়ামী লীগের প্রতি ভালবাসার একটুও কমতি হবে না। আমি দলীয় সিদ্ধান্তকে সর্বদা সম্মান করি এবং আজীবন সম্মানন করবো।”

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply