আ.লীগের নেতা পরিচয়ে গাঁজা মিয়ার রমরমা ইয়াবা ব্যবসা, অধরা আরও ৩ জন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
আব্দুর জাব্বার ওরফে গাঁজা মিয়া , বয়স ৪২ বছর। একজন চোরাই গাছ ব্যবসায়ী ও কথিত আ.লীগ নেতা। কক্সবাজারের টেকনাফ হোয়াইক্যং উনছিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একাধিক ব্যাবসা রয়েছে তার। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্যাবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবার পাচার করছেন তিনি।

মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ মাষ্টার বাহিনীর সহোযোগিতায় ইয়াবা আনতেন গাঁজা মিয়া। এ কাজে ব্যবহার করতেন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের। নৌপথে আনা ইয়াবার চালানগুলো তার কাঁচা তরকারি ও তেল চাউল চালানের সঙ্গে ট্রাকে বা বাসে করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠাতেন।

ট্রাকে ইয়াবা পাঠালেও নিজে ইয়াবার চালান রিসিভ করতেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাঁচা মালমালের গাড়ি ক্যাম্প পুলিশ তল্লাশি করতে চাইলে নিজেকে আ.লীগের বড় নেতা ও রইক্যং শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচয় দিতেন তিনি।

মঙ্গবার (১নভেম্বর) মাধ্যোতে র‌্যাবের অভিযানে মাদক পাচারের সময় ২০হাজার পিছ ইয়াবাসহ আটক হয়। এসময় ইয়াবা কিনতে আসা আরও ২-৩জন পালিয়ে যায় বলে জানান র‌্যাব।

আটক আব্দুর জাব্বার ওরফে গাঁজা মিয়া টেকনাফ উপজেলা হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনছিপ্রাং ৩নং ওয়ার্ডের রইক্যং এলাকার মৃত ফরিদ আলমের পুত্র।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‌্যাব ১৫ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাম আহমেদ।

তিনি জানান, রোহিঙ্গাদের যোগসাজসে দীর্ঘদিন যাবৎ ইয়াবা ট্যাবলেটসমূহ সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা মিয়া সংগ্রহ করে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে তার নিজ হেফাজতে রাখতো। আমাদের গোয়েন্দা নজরদারিতে রেখে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এসময় আরো দুই মাদক কারবারি কৌশলে পালিয়ে যায়। সিন্ডিকেট এর সদস্যদের চিহ্নিত করার কাজ করছে বলে জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

টেকনাফ হোয়াইক্যং উনছিপ্রাং২২নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের যুবক আবদুল্লাহ জানান, মাষ্টার বাহিনীকে কাঁচামাল ও যাবতীয় খাদ্যের বিনিময়ে ইয়াবা নিতেন গাঁজা মিয়া। এই ইয়াবা কারবারের জন্য শেখ রাসেল সৃতি সংসদ নাম করন করে তার একটি আরত নামক ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান খুলেন। সেখানে সিরাজ, হোসাইন ও আরো কয়েকজনের নেতৃত্ব এই ব্যাবসা চলতো। তারা মাঝেমধ্যে আমাদের ক্যাম্প থেকে চাউল, চিনি, ডাইল, তেল কিনে নিয়ে যেথেন।এগুলোর বিনিময়ে ইয়াবা আনতেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় যুবক জানান, সিরাজ, হোসাইন, গাঁজা মিয়া নিজেদের আ.লীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন।তাই তাদের গাড়িসহ মালামাল তল্লাশি করতেও ভয় পেত পুলিশও। তারা শেখ রাসেল সৃতি সংসদ নামে একটি সংগঠন করে অফিস খুলে ইয়াবা লেনদেনসহ বিভিন্ন অপরাধ করতেন বলে অভিযোগ তুলেন এই যুবক।

Leave a Reply