ইঞ্জিনিয়ার সহিদুজ্জামান এর খোলা চিঠি – সংরক্ষণ করা হোক ‘খালেকুজ্জামান চত্বর’ নামফলক – CoxsbazarNEWS.Com

[ad_1]

সম্মানিত কক্সবাজারের জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সর্বস্তরের জনগণ

আমার ভাই মরহুম অ্যাডভোকেট খালেকুজ্জামান ছিলেন কক্সবাজার রামু আসনের একজন জনপ্রিয় সংসদ সদস্য। তাঁর সাথে কক্সবাজারের তৃণমূল মানুষের যেমন সম্পর্ক ছিল আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দলের অনেক নেতাদের সাথেও ছিল তাঁর সুসম্পর্ক। তিনি সবাইকে অন্তর দিয়ে ভালোবেসে গড়ে তুলেছিলেন অহিংস রাজনীতির সুন্দর পরিবেশ।
একজন খ্যাতিমান আইনজীবী, একজন কম্পিউ টার বিজ্ঞানী ঢাকার আরাম আয়েশের জীবন ছেড়ে কক্সবাজারে এসে রাজনীতির বন্দুর-পিচ্ছিল পথে যেভাবে জনগণের ভালবাসা অর্জন করেছিলেন সমকালীন রাজনীতিতে তা ছিল বিরল। অহিংস রাজনীতি আর নির্মোহ ভালবাসা দিয়ে যে মানুষের ভালবাসা পাওয়া যায়, জনগণের মন জয় করাযায় কক্সবাজার সদর-রামু আসন থেকে পরপর দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে খালেকুজ্জামান তা প্রমাণ করেছিলেন।

অবশ্য এড খালেকুজ্জামানের এই জনপ্রিয়তা কারো কারো ঈর্ষার কারণ হয়েও দাড়িঁয়েছিল। এতে তাঁর চলার পথে বেগ পেতে হয়েছিল বারবার। কিন্তু রামু-কক্সবাজারবাসীর ভালবাসায় বিনে সুতার বন্ধনে আবদ্ধ খালেকুজ্জামান আমৃত্যু থেকেছেন তাদের সাথে।

মরহুম অ্যাডভোকেট খালেকুজ্জামান জাতীয় সংসদে কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকায় অনেক উন্নয়ন কাজ করেছিলেন। মহান জাতীয় সংসদে অনেক চমকপ্রদ বক্তব্য রেখে তিনি সকল সংসদ সদস্যসহ জাতির কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত মুখ একজন সুবক্তা। এ কারণে তিনি ছিলেন কক্সবাজারের সর্বস্থরের মানুষের কাছেও অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন জনপ্রতিনিধি।

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি ছিলেন কক্সবাজার রামু আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগেই তিনি বর্তমান রামু বাইপাস এলাকায় লাখো জনতার সমাবেশে হেসে হেসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ৩য় বারের মত এমপি হওয়ার (১ অক্টোবর ২০০১, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের) মাত্র তিনদিন আগে ২০০১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রামু-কক্সবাজারবাসীর ভালবাসার মানুষটি তাদের ছেড়ে চলেযান না ফেরার পথে।

কিন্তু রামু-কক্সবাজারের মানুষ তাদের প্রিয় নেতা মরহুম অ্যাডভোকেট খালেকুজ্জামানের এইভাবে বিদায় নেয়া মেনে নিতে পারেননি। হাজার হাজার মানুষ কলাগাছ হাতে নিয়ে তাঁর ছোট ভাই হিসেবে আমাকে মনোনয়ন দিতে মাঠে নামেন তারা। পরবর্তীতে জনগণ বিপুল ভোটে এমপি বানিয়ে আমাকে সংসদে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। এটি ছিল আমার বড় ভাই জনপ্রিয় নেতা খালেকুজ্জামানের ভালবাসার প্রতিদান।

২০০১ সালের জাতীয় সংসদে নির্বাচিত এমপি হিসেবে আমি কক্সবাজার-রামুর প্রত্যন্ত এলাকায় অনেক উন্নয়ন কাজ করার সুযোগ লাভ করি। এমন কোন ইউনিয়ন বাদযায়নি যেখানে উন্নয়ন কার্যক্রম হয়নি। এসব উন্নয়ন কাজের স্মৃতিফলকও স্থাপন করা হয়েছিল কর্ম এলাকায়। এসব স্মৃতিফলকে কোনো কোনোটিতে তৎকালীন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আবদুল মান্নান ভূঁইয়া, কোন কোনটিতে বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আবার কোনো কোনোটিতে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের
নাম উল্লেখ ছিল।

আমাদের সমাজে এখনো একজন মানুষের শেষ বিদায় বা জানাযায় জনসমাগমকে ওই মানুষটির প্রতি জনগণের ভালবাসা ও জনগণের প্রতি ওই মানুষটির কতটুকু সম্পৃক্ততা ছিল তা প্রমাণ করে বলে মনে করা হয়। বিমান বন্দরের পাশে ঐতিহাসিক জেলেপার্ক ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এড খালেকুজ্জামানের নামাজে জানাযা। স্মরণকালের নামাজে জানাযার মধ্যে এই জানাযা ছিল অন্যতম। জীবত খালেকুজ্জামানের প্রতি রামু-কক্সবাজারের মানুষ যেভাবে ভালবাসা দেখিয়েছিলো মৃত খালেকুজ্জামানের প্রতিও তাদের ভালবাসা চুল পরিমানও কম ছিলনা। সেই বিশাল নামাজে জানাযা তারই প্রমাণ।

জনতার দাবী এবং বাস্তব সম্মত কারণেই খালেকুজ্জামানের স্মরণে তাঁর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের স্থানের নামকরণ করা হয়েছিল ‘খালেকুজ্জামান চত্বর’। আমি (ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান) এমপি থাকাকালীন সময়ে জনতার দাবীর মুখে এড খালেকুজ্জামানের শেষ নিঃ শ্বাস ত্যাগের (রামু বাইপাসের সংযোগ) স্থানটিকে ‘খালেকুজ্জামান চত্বর’ নাম করণ করা হয়। ওখানে নাম ফলকও স্থাপন করা হয়েছিল তখন। কয়েকদিন আগেও সেই নাম ফলক অবশ্য বিদ্ধমান ছিল।

কিন্তু পরবর্তীতে দেখাগেছে, দুইবারের জপ্রিয় একজন সংসদ সদস্যের নামে স্থাপিত সেই চত্তরে স্থাপন করা হয়েছে ফুটবল ভাস্কর্য। আর প্রতিদিন সেই নাম ফলকটি রাজনৈতিক কারণে ঢেকে দিয়ে মনিল করে দেয়া হচ্ছে এককালের সেই জনপ্রিয় এমপি এড খালেকুজ্জামানের স্মৃতিকে। এটি রামু-কক্সবাজারের সাধারণ মানুষ কিন্তু মেনে নিতে নারাজ। একজন জনপ্রিয় সংসদ সদস্য ও জননেতার প্রতি সম্মান দেখিয়ে তাঁর স্মৃতি ফলক ও স্মৃতিময় স্থানটি সংরক্ষিত থাকুক এটি সর্বমহলের দাবী।

২৮ সেপ্টেম্বর ২০০২ ইং খালেকুজ্জামান চত্বর ও স্মৃতি ফলক উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে আমাদের সময়ের উন্নয়ন কাজের স্মৃতিফলক গুলো এখন আর কোথাও চোখে পড়ে না। কোথাও বিদ্ধমান নেই এগুলো। ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে বা সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

পর্যায়ক্রমে দেখা গেল রামু বাইপাস এর ‘খালেকুজ্জামান চত্বরে’ স্থাপন করা হলো একটি ফুটবল ভাষ্কর্য । একজন সর্বজনশ্রদ্ধেয় অত্যন্ত জনপ্রিয় সংসদ সদস্যের প্রতি ইর্ষাকাতর হয়েই এই ফুটবল ভাষ্কর্য সেখানে স্থাপন করা হয়েছে বলে জনগণ মনে করেন থাকেন। সর্বশেষ গত কয়দিন আগে ‘খালেকুজ্জামান চত্বরে’ লাগানো খালেকুজ্জামান স্মৃতিফলকটি গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এটি অত্যন্ত হীনমন্যতা ও অপরাজনীতির পরিচায়ক বলে আমি মনেকরি। কে বা কারা এসব অপকর্ম গুলো করছে তা দেখার দায়িত্ব প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের।

কারণ এখন যারা জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধিদের স্মৃতিফলক ভেঙ্গে ফেলে বা সরিয়ে ফেলে পার পেয়ে যাচ্ছে আগামীতেও সেভাবে তারা একই অপকর্ম করে পার পেয়ে যেতে পারে।

আমি চাই না আমার এলাকার কোন জনপ্রতিনিধির অবমাননা হোক। আমি চাই কোন স্মৃতি ফলক নষ্ট করা বা ভেঙে ফেলা হবেনা অথবা সরিয়ে ফেলা হবেনা। আমি চাই অহিংস রাজনীতিবিদ কক্সবাজারের সর্বস্তরের মানুষের জনপ্রিয় নেতা সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট খালেকুজ্জামান চত্বরে তাঁর স্মৃতি ফলক অবিলম্বে পুনঃস্থাপন করা হোক।

পাশাপাশি উল্লেখ করতে চাই ২২ জুলাই ১৯৯৯ ইং কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের মোক্তারকুলে তৎকালীন পানি সম্পদ মন্ত্রী মরহুম আব্দুর রাজ্জাক বাকঁখালীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন। সেই স্মৃতি ফলক এখনো অক্ষত রয়েছে দরগাহ এলাকার পাশাপাশি ভাঙ্গা ব্রিজের পশ্চিম পাশে বিদ্যমান রয়েছে সেই স্মৃতি ফলক। আমরা চাইলে সেই স্মৃতি ফলক নিয়েও অপরাজনীতি করতে পারতাম কিন্তু আমরা তা করিনি।
একইভাবে আমি এমপি থাকাকালীন সময়ে রামু উপজেলা চত্বরে শহীদ মিনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক এমপি (মরহুম) ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরীকে অতিথি করেছিলাম। একজন সাবেক জনপ্রতিনিধি হিসেবে ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী এবং অ্যাডভোকেট খালেকুজ্জামান সহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সম্মান এবং শ্রদ্ধা পাওয়ার উপযোগী। আর কিছু না হলেও অন্তত তাদের নামে স্থাপন করা স্মৃতিফলক গুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করাই একজন জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্বে পড়ে বলে আমি মনে করি।

ইন্জিনিয়ার মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান
সাবেক এমপি
কক্সবাজার-রামু।
৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০ ইং।



[ad_2]

সৌজন্যে

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply