ইতালিতে জনসংখ্যা বাড়াতে ব্যাপক উদ্যোগ, শিশুভাতা বাড়ছে তিনগুণ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

২০১৮ সালে ইতালিতে নতুন শিশু জন্ম গ্রহণ করে ৪ লাখ ৬৪ হাজার। আর ঐ বছর ইতালিতে মৃত্যুবরণ করেন ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৪৯০ জন। দেশটির জন্য এটা মোটেও সুখবর নয়। মোট জনসংখ্যা প্রায় পৌণে দুই লাখ কমেছে এক বছরে। সাধারণভাবে ইতালির জনসংখ্যা বছরে গড়ে কমছে ২০ হাজারের মতো। সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা। ২০১৮ সালটি ছিল ইতালির ইতিহাসে রেকর্ড কম শিশু জন্মের বছর।

ইতালিতে চাকুরীজীবীদের গড় বয়স ৪৫.৯ বছর। কিন্তু ইইউ’র অন্য দেশগুলোতে এর গড় ৪২.৮ বছর। কিছুদিন পূর্বে দেশটির স্কুল খোলার কথা উঠলে ইতালির শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের গড় বয়স ইতালিতে সবচেয়ে বেশি। তাই কোভিট-১৯ এ সরকার ঝুঁকি নিতে চায় না স্কুল খোলার।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কন্তে তার দেশ করোনায় আক্রান্ত হবার পর হতে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করছেন। জনগণের স্বাস্থ্যঝুঁকি লাঘবের সঙ্গে সঙ্গে গ্রহণ করছেন আর্থ সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জাতীয় দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা।

গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে তার সরকারের জনসংখ্যা বিষয়ে পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। সন্তান জন্মদানে ইতালিতে পিতামাতার অনীহা কাজ করে। এর প্রধান কারণ অর্থনৈতিক। তাই সরকার অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য পরিবারগুলোকে অর্থনৈতিক সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন তিনি। এখন থেকে প্রতিটি সন্তানের ১৮ বছর পূর্ণ হবার আগ পর্যন্ত সব ধরনের অর্থনৈতিক বোনাস ৩ গুণ বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন সরকার।

ইতালিতে গর্ভবতী মা ৭ মাস ছুটি কাটাতে পারেন। এই সময় মূল বেতনের ৮০ শতাংশ সরকার প্রদান করেন। এখন হতে বেতন ১০০ ভাগ বা ১২০ ভাগে উন্নীত করার কথা সরকার বলছে। যে মা বেকার, তাকে প্রতিমাসে বোনাস দেবে সরকার।

পূর্বের আইনে প্রসবকালীন সময়ে প্রবাসী মা ২০০০ ইউরো, আর ইতালিয়ান মাকে ৫০০০ ইউরো দেওয়া হতো। এখন তাও বৃদ্ধি করার কথা বলছে সরকার।

ইতালিতে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের চিকিৎসা শতভাগ ফ্রি। ইতালিয়ান নারীরা সন্তান গ্রহণে আগ্রহী কম এবং পিতার আগ্রহ আরও বেশি কম। কারণ, সন্তান জন্মের পর মা সেপারেশন বা ডিভোর্স চাইলে পিতা সন্তানের ১৮ বছর পূর্ণ হবার আগ পর্যন্ত স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ দিতে আইনত বাধ্য। দেশটিতে সেপারেশন, ডিভোর্স, লিভ ট্যুগেদার ও পরকীয়া এতো বেশি যে, পুরুষরা বাবা হতে ভয় পান।

প্রতিটি শিশুর জন্য আগে যেখানে বছরে ১ হাজার ইউরো দেওয়া হত, এখন থেকে সরকার দিবে ৩ হাজার ইউরো। পিতামাতার আয়ের উপর নির্ভর করে ১৫শ থেকে ৩ হাজার ইউরো দেওয়া হবে। প্রতি মাসে ২৪০ ইউরো পর্যন্ত দেওয়া হবে প্রতিটি শিশুর জন্য, ২য় শিশুর জন্য দেওয়া হবে ২০ শতাংশ বেশী আর ৩য় সন্তানের জন্য দেওয়া হবে অতিরিক্ত বোনাস। অধিক সন্তানের পরিবারগুলো সরকারী আবাসন পাবার জন্যও পাবেন অগ্রাধিকার।

এতকিছুর পরও ইতালিয়ান পরিবারগুলো সন্তান গ্রহণে আগ্রহী হবে তা বলা যায় না। তবে প্রবাসীরা নিচ্ছে একাধিক সন্তান খুশী মনে। বাংলাদেশীরা আছেন অগ্রভাগে। লকডাউনের সময় ইতালিতে অনেক ইতালিয়ান ও প্রবাসী মা গর্ভবতী হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ইতালিতে সবচেয়ে সমস্যা হলো নিজস্ব বাড়ী ও সোশ্যাল সিকিউরিটি। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারকে এই সমস্যার সমাধানে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছে। তাহলে সন্তান নিতে আগ্রহী হবেন পিতামাতা।

সরকারের তরফে ফেডারেল গভর্নরগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার উদ্যোগ গ্রহণের প্রচেষ্টার কথা বলেছেন কন্তে সরকার।

সূত্রঃ সময়টিভি নিউজ

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply