ইরানের বৃহত্তম তেলশোধনাগারে আগুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আবাদানে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ ও প্রাচীন তেল শোধনাগারে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। যদিও এরই মধ্যে তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
রবিবার (২০ অক্টোবর) রাতে তেল শোধন প্রক্রিয়া শেষে বর্জ্য নিষ্কাশন চ্যানেলে আচমকা এটি আগুনের সূত্রপাত ঘটে। যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এমনকি দেশের তেল উৎপাদন প্রক্রিয়াতেও তেমন একটা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়নি।
এ দিকে আবাদান তেল শোধনাগারের মিডিয়া বিভাগের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্ল্যান্টের বর্জ্য নিষ্কাশন চ্যানেলে ছড়িয়ে পড়া আগুন মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এতে গুরুতরভাবে কারোই আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে এরই মধ্যে তদন্ত কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
পরবর্তীতে যদিও আবাদান তেল শোধনাগারের গণমাধ্যম বিভাগ অন্য এক বিবৃতিতে জানায়, তেল শোধনাগারের বর্জ্য নিষ্কাশনের ৫৫ নম্বর ইউনিটে আচমকা ছিদ্র তৈরি হওয়ার ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। তবে দ্রুতই তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
অপর দিকে আবাদান প্রদেশের গভর্নর জয়নুল আবেদিন মুসাভিও স্থানীয় বার্তা সংস্থা ‘ইরনাকে’ বলেছিলেন, ‘বর্জ্য সরবরাহের কোনো একটি পাইপলাইনে দুর্ঘটনার কারণে এই আগুন লাগার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্তে এরই মধ্যে কর্মীরা মাঠে নেমে গেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আবাদান শোধনাগারে প্রতিদিন প্রায় চার লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল শোধন করা হয়। রবিবার দিবাগত রাতের এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার ফলে প্ল্যান্টের কার্যক্রমে তেমন কোনো প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়নি। তাছাড়া শোধনাগারের অগ্নিনির্বাপণ কর্মীরা দ্রুতই অন্য ইউনিটগুলোতে আগুনের তীব্রতা ছড়িয়ে পড়া রোধ এবং সেখানকার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।’
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৮০-এর দশক পর্যন্ত আবাদান ছিল বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল শোধনাগার। ইরানে তেল শিল্প প্রতিষ্ঠার পরপরই ১৯১২ সালে এই শোধনাগারটির প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে এর বেশ কয়েকটি নতুন ইউনিট স্থাপনের পাশাপাশি পুরনো ইউনিটের সংস্কার কাজও করা হয়। 

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply