ইলিশ রক্ষা অভিযানে গিয়ে গভীর রাতে দেখা মিলল উপজেলা চেয়ারম্যানের

সিবিএল২৪:

রাত প্রায় ২ টা। জেলার মৎস ও পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান পরিচালনা করছিল। এ সময় নদীতে একটি ট্রলারে ৭-৮জন লোক দেখে চ্যালেঞ্জ করা হয়। পরে কাছে গিয়ে অভিযান পরিচালনাকারীরা দেখলো ট্রলারে লুঙ্গি গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় রয়েছেন এক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান।
সে ট্রলারে রয়েছে ইলিশসহ কারেন্ট জাল। ঘটনাটি পিরোজেপুরের কাউখালী উপজেলার। বৃহস্পতিবার রাতে কাউখালি উপজেলার কালিগঙ্গা নদীতে জালসহ ট্রলারে থাকা ব্যক্তি হলো কাউখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মনু মিয়া।
জানা যায়, মা ইলিশ রক্ষায় ৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ শিকার, পরিবহন ও বিক্রয় নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে পিরোজপুরের কঁচা ও কালিগঙ্গা নদীতে অভিযান পরিচালনা করে জেলার মৎস ও পুলিশ কর্মকর্তারা। রাত প্রায় ২ টার দিকে অভিযানে থাকা পিরোজপুর জেলার পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জেলা মৎস কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ অন্যান্যরা কাউখালী উপজেলার কালিগঙ্গা নদীতে যায়। এসময় তাদের সাথে ছিল বিভিন্ন মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা। এ সময় নদীতে থাকা একটি ট্রলার দেখে চ্যালেঞ্জ করা হয়। ট্রলারের কাছে গিয়ে দেখা যায় ট্রলারে লুঙ্গি, গেঞ্জি ও গামছা পরিহিত অবস্থায় রয়েছে কাউখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মনু মিয়া। তার সাথে আরও ৭-৮ জন লোক ট্রলারে।
এছাড়া ট্রলারে দেখা যায় অবৈধ কারেন্ট জাল ও কয়েকটি ইলিশ। জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে এ অবস্থায় দেখা হওয়ায় অনেকটাই ভরকে যান উপজেলা চেয়ারম্যান।
এ সময় তিনি অভিযান পরিচালনাকারীদের বলেন, তিনিও লোকজন নিয়ে অভিযানে নেমেছেন। ট্রলারে থাকা জাল ও মাছ তিনি নদী থেকে উদ্ধার করেছেন।
মৎস বিভাগের বা প্রশাসনের লোক ছাড়া এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা যায় কিনা জানতে চাইলে উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, তিনি উপজেলা মৎস কর্মকর্তাকে ফোন দিয়েছিলেন কিন্তু মৎস কর্মকর্তা ফোন রিসিভ করেননি।
তবে পিরোজপুর জেলা মৎস কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন জানান, মৎস বিভাগের কাউকে চেয়ারম্যানের ফোন দেবার বিষয়টি সঠিক নয়। ফোন চেক করেও দেখা হয়েছে।
জেলা মৎস কর্মকর্তা আরও জানান, প্রশাসনের লোক ছাড়া নদীতে উপজেলা চেয়ারম্যানের অভিযান পরিচালনা করার যে বিষয়টি তিনি বলছেন তা দৃষ্টিকটু। চেয়ারম্যানের ট্রলারে থাকা জাল ও তাদের অভিযানে উদ্ধার হওয়া জাল একসাথে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। মাছ একত্র করে এতিমখানায় দেওয়া হয়েছে। পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ মোল্লা আজাদ বিষয়টি নিয়ে বলেন, পুলিশ সুপার সাহেব যাবেন শুনে উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মনু মিয়া এসেছিলেন।
অভিযানের সময় উপস্থিত থাকা সংবাদকর্মীরা জানান, রাতে পুলিশ কর্মকর্তা ও সংবাদকর্মীদের সামনে ওই অবস্থায় পরে পুরোপুরি অপ্রস্তুত হয়ে পরেন উপজেলা চেয়ারম্যান। তিনি তখন অভিযানের কথা বলেন।
এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মনু মিয়া জানান, আমি স্থানীয় পুলিশ ও মৎস বিভাগকে জানিয়ে অভিযানে নেমেছি। কিন্তু মৎস বিভাগের লোকজন এখন বিষটি অস্বীকার করছে। মৎস বিভাগের লোকজন দুর্নীতি করে, আর এখন তাদের ঘাড়ে পরতে পারে বলে আমার দিকে চাপিয়ে দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কাল তো আমার উদ্ধার করা জাল ও প্রশাসনের উদ্ধার করা জাল একসাথে পোড়ানো হয়েছে। কিন্তু আজ জানতে পারলাম প্রশাসনের কাউকে না নিয়ে অভিযানে যাওয়া যায় না। বিষয়টি আগে জানা ছিল না।
সূত্র: বিডি-প্রতিদিন

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply