একজন ভোটার মানে একদিনের হাকিম বা জর্জ!

একজন ভোটার মানে একদিনের হাকিম। হাকিমের এক কলমে কত কিছু পরিবর্তন হয়! আপনার এক ভোটেও আগামী ৫বছরের পরিবর্তন। পরিবর্তনটা খারাপ লোক দিয়ে হবে না ভালো লোকের দ্বারা হবে সেটা আপনার বিবেচনাধীন।

ভোট মানেই ভোটারগণ মনে প্রাণে বিশ্বাস করে নিয়েছে যে দুই চারদিন নাচ গান,চা খাওয়া,বিরানির প্যাকেট,৫০০ টাকা,সেমাইয়ের প্যাকেট দিলো কেউ একজন প্রার্থী,বিনিময়ে তাকে ভোটটা দিয়ে দিলাম।

মেম্বার, চেয়ারম্যান মানে এই নয় যে ভোট আসছে চায়ের বিনিময়ে,টাকার বিনিময়ে ভোট দিয়ে দিলাম। মনে রাখবেন, একজন ভোটার মানে একেকজন একদিনের জর্জ। জর্জের একটা কলমের খোঁচায় যেমন একজন অপরাধী বা আসামীর ফাঁসি হয়,একজন নির্দোষ ব্যক্তি খালাস পায়। ঠিক একইভাবে আপনার একটি ভোট একেকটি জর্জের কলমের খোঁচা। আপনার একটি ভোটে হয় সমাজের মানুষ হত্যা করবেন নয়তো সমাজকে খারাপ থেকে মুক্তি দিবেন। আপনার একটি ভোট দিয়ে, হয়!এলাকায় ইয়াবা বিক্রির লাইসেন্স দিবেন অথবা ইয়াবা নির্মূলের। আপনার একটি ভোট দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ দিবেন নয়তো অন্যায় করার সুযোগ দিবেন। আপনার একটা ভোটের কারণে দূর্নীতি হতে পারে,একটা ভোটের কারণে এলাকায় ইয়াবা বিস্তার হতে পারে, একটা ভোটের কারণে কোন মা-বোন নির্যাতন হতে পারে। একটা ভোটের কারণে খুন-খারাবি বাড়তে পারে, একটা ভোটের কারণে নির্বাচিত ব্যক্তি মদ,জুয়া,বেহায়াপনাকে আশ্রয়, প্রশ্রয় দিতে পারে।

আপনার একটা ভোট দিয়ে নির্বাচিত ব্যক্তি যেন কোন অসহায় দরিদ্র মানুষের হক্ব,অধিকার আত্নীয় স্বজন দালালদের দেওয়ার আগে যেন দশবার ভাবে এমন প্রতিনিধি নির্বাচন করুন। আত্নীয় বা দলের লোকের স্বার্থের জন্য যেন একজন সঠিক বিচার পাওয়া লোককে প্রতিনিধির পিছনে ঘুরঘুর করতে না হয় এমন মানুষকে নির্বাচিত করুন। একজন চেয়ারম্যানের বেতন ১০,০০০ একজন মেম্বারের বেতন সর্বোচ্চ ৮,০০০ টাকা। সুতরাং কেউ যখন সামান্য টাকার বেতনের চাকরীর জন্য ১৫লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ করতে নামে তাহলে বুঝেন কারণটা কী?

চেয়ারম্যান, মেম্বার মানে শাসক নয় জনগণের সেবক,কর্মচারী। এখনতো আপনাদের দরজায় অনেকেই যাচ্ছে। প্রায় কয়েকজন চেয়ারম্যান ও দশজনমতো মেম্বার প্রার্থী গেছে। কেউ হাতে ধরছে পায়ে ধরছে ভোট পাওয়ার জন্য। ভোট কি হাত পা ধরলে পাওয়ার যোগ্য? হাতে পায়ে ধরে ভোট চাওয়া মানে তার অন্য কোন যোগ্যতা নেই। সুতরাং হাতে পায়ে ধরলেই আপনার মূল্যবান ভোট দিয়ে দিবেন না। আপনার ভোট এমন একজনকে দেন যে আসলেই আপনার জন্য শ্রমিকের মতো কাজ করবে। আপনার অধিকার, হক্ব আপনার জন্য রেখে দিবে। আবার অনেকেই তো আপনাদের এখন থেকে কিনে ফেলতেছে।

যারা আপনাদের কিনি লইবার জন্য মাঠে নামছে সে নির্বাচিত হলে প্রত্যেকের মাথা কয়বার করে বিক্রি করবে ভাবেন তো। তারা তো এখন থেকে মাথা বেচিবার ধান্দায় নামছে।

যে মানুষ এই নির্বাচনে ১০-১৫ লাখ টাকা খরচ করবে সে অবশ্যই ৩০-৪৫ লাখ টাকা কামানোর ধান্ধায় নামছে। যে কোটি নিয়ে নামছে সে কত কামাবে?🙄

অনেকের পুরা পরিবার বিভিন্ন হত্যাকান্ড,ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। তাদের নির্বাচিত করার আগে আপনার ছোট ভাই, মা, বোন কতটুক নিরাপদ সেটা একবার ভেবে দেখবেন। খবর নিয়ে দেখেন আজকে যুব সমাজের হাতে হাতে ইয়াবা ছড়িয়ে পড়ার নেপথ্যে তাদের ভূমিকা। সুতরাং তাদের নির্বাচিত করে এলাকা,সমাজকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাবেন না। আল্লাহর কাছে গুনাহগার হবেন না। যোগ্য মানুষকেই আপনারা নির্বাচিত করুন।

একেবারে সাপকে বলেনা লম্বা ব্যাঙকে বলে না বেঁটে। এমন কাউকেও নির্বাচিত আপনারা করবেন না। তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে না। আপনার এলাকায় ইয়াবা ব্যবসা,মদ,জুয়া চলবে কিন্তু প্রতিবাদ করার সাহস করবেনা। তাহলে আগামী ভবিষ্যৎ সবার জন্য অনিরাপদ। এসব মানুষ নির্বাচিত হলে দালাল বেড়ে যায়। পাঁচশ,এক হাজার দিলে বিচার পাবেন নইলে পিছে পিছে ঘুরেও কাজ হবেনা।

আপনাদের মাথায় রাখতে হবে এখন মডেল ইউনিয়ন হবে, বাজেটও বেশি হবে। যারা কোটি থেকে শুরু করে ১৫ লাখ টাকা বেঁধে নির্বাচনে নামছে। তারা এই টাকাটা ব্যবসায়িকভাবে বিনিয়োগ করতেছে। নির্বাচিত হলে সুদে আসলে তুলে নিবে। ধান্ধাবাজদের ভোট দিবেন প্রত্যেকটা মাথা ১০ বার করে বেচে দিবে টেরও পাবেন না।

তো একটা কথায় বলব যার দ্বারা আপনাদের অধিকার, ন্যায়বিচার, ভাতা, ভর্তুকি পাবেন তাকে নির্বাচিত করুন।

আপনার এলাকায়,এতিম কয়জন আছে,প্রতিবন্ধী কয়জন আছে, ৬০ বছরের বেশি কয়জন মুরুব্বি আছে,কাজ করতে পারছেনা কয়জন আছে? জিজ্ঞেস করে দেখেন তো কোন প্রার্থী এই খবর রাখছে? রাখে নাই। আপনারা তাকিয়ে দেখুন আপনাদের স্কুল পড়ুয়া,কলেজ পড়ুয়া ছোট ভাই,ছেলেদের নিয়ে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করছে কোন প্রার্থী? কোন ছেলে মেয়ে কি কারণে স্কুল থেকে ঝরে পড়ছে এমন খবর কেউ রাখছে কিনা? সমাজের ভবিষ্যত ছাত্রদের সাথে নির্বাচন চলাকালীন সময়ে কোন প্রার্থী কথা বলেছে,বৈঠক করেছে।

এমন রেকর্ডও আছে অতীতে আপনার বয়স্ক ভাতার কার্ড,ভিজিডি কার্ড বিক্রি করেছে মেম্বার,চেয়ারম্যানের আত্নীয় স্বজন বা পিছনে ঘুরঘুর করা দালালেরা।

এমন খবর কে নিয়েছে খোঁজ করে দেখেন তো। আপনার কোন ভাই কোথায় পড়ে,শিক্ষিত ছেলে কয়জন আছে, শিক্ষিত বেকার কয়জন আছে ?

সুতরাং আপনি একদিনের হাকিম! আপনিই বলুন আপনার কলমের খোঁচা বা ভোট কাকে দিয়ে সমাজও দেশ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবেন।

লেখকঃ সাইফুল আফ্রিদি
শিক্ষক ও গণমাধ্যম কর্মী

Leave a Reply