‘একটি প্রগতিশীল সমাজের প্রত্যাশায়’

“নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভালো যুগ জনমের বন্ধু আমার আঁধার ঘরের আলো।” আজকাল সভ্যতা দেখি এক জায়গায়। তাও আবার গ্রাম্যদের। গ্রাম্য জীবন দু’প্রকার। নিম্নবৃত্ত, মধ্যবৃত্ত।তাদের মধ্যে, মধ্যবৃত্ত হলো আবার দু’প্রকার -কুচক্রী মধ্যবৃত্ত,শান্ত সৃষ্ট মধ্যবৃত্ত।শান্ত সৃষ্ট মধ্যবৃত্তরা বেকার নেই।তারা দিন রাত নিরবে পরিশ্রম কায়েম করে। অপরদিকে নিম্নবৃত্তরা একেবারেই কাজে ফাঁকি নেয়। কিন্তু গ্রামে এক শ্রেণীর কুচক্রী হান্টার আছে। ঐ হান্টার আজীবন হান্টার থেকে যাবে।

প্রগতিশীল সমাজ

গ্রামের বেকারত্ব এই কুচক্রী মানুষ অন্ন উৎপাদনের চেষ্টায় নিজের সমস্ত হিংস্র শক্তি প্রয়োগ করে কিছু দূূর্ভাগাদের ওপর। অথচ ঐ দূর্ভাগারাই তাদের শক্তি। অথচ ঐ দূর্ভাগারাই আমাদের সভ্য জাতি। এই জাতি শুধু বাইরের ঐশ্বর্যসম্ভার,দালানকোঠার সংখ্যাবৃদ্ধি কিংবা সামাজিক শক্তির বড় হয় না,বড় হয় অন্তরের শক্তিতে, নৈতিক চেতনায়,আর জীবন পণ করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ক্ষমতায়।কিন্তু এই শক্তি সত্যিকারের শক্তি হয়ে দাঁড়াতে পারেনা,এক শ্রেণীর লোকের জন্য। ঐ এক শ্রেণীর লোকটি হলো কুচক্রী হান্টার,ধড়িবাজ, দাঙ্গাবাজ,পীড়ক,মুকুশধারী,সমাজের এক ধরনের র্যাপিস্ট্।

সমাজের অশ্লীলকারী একমাত্র হান্টার ঐ কুচক্রী। নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানি করে মামলা মোকদ্দমায়। বাড়ি কিংবা ঘর ছাড়া করে শান্ত সৃষ্ট নিরীহদের। অথচ আমরা সভ্য সমাজ বুঝতে পারছিনা,ঐ দাঙ্গাবাজরায় একমাত্র আমাদের পীড়াদায়ক। না বুঝাটায় স্বাভাবিক -আমাদের সমাজপতিরায় আজ দাঙ্গাবাজের বন্ধু। নারী লোভী ঐ দাঙ্গাবাজরা আজ সমাজকে জব্দ করে রেখেছে। অথচ সবাই জ্ঞাত রাতের অন্ধকারে জলদস্যু থেকে শুরু ডাঙ্গায় পর্যন্ত তাদের দালালদের অশ্লীলতার অস্তিত্ব।

কত নারীদের বিধবা করেছে।কত মা বোন কে নিজের অশ্লীলতার সংজ্ঞা করে রেখেছে।সে কথা আজ বাসি নয়-বৃদ্ধরা এখনো গায়েল হয়নি। সমাজের শান্তসৃষ্ট বৃদ্ধরাই আজ দাঙ্গাবাজের বিপক্ষে স্বাক্ষী। সমাজের শান্তসৃষ্ট যুবকদের দাঙ্গাবাজদের পক্ষে করে রেখেছে। সত্যিকার্থে -দাঙ্গাবাজ নিজেরাই জানেনা,তাদের মর্যাদা কোথায়!একজন মানুষের গাড়ি-ঘোড়া, বংশের নাম উপাধিতে কোনো মর্যাদা নেই। আগে দেখতে হবে ;সমাজকে সে কেমন পুরষ্কার দিচ্ছে! সমাজের সত্যের উপাসক কি’না সে!সমাজের চরিত্রবান কি’না! সমাজের মিমাংসাকারী কি’না! সমাজের দূর্নীতি মুক্ত কি’না! তবে সে মর্যাদাবান। তাহলে সমাজ তাকে মর্যাদা করবে। অথচ তার কোনোটিই সে নয়। ঐ মুকুশধারী ভদ্রলোক একজন দাঙ্গাবাজ, নারীর দেহ লোভী! নারী পাচারকারী !নারী ধর্ষণকারী।সে কি আশা করতে পারে সে যে একজন সমাজের মর্যাদবান? সে সমাজের বড্ডই হারাম এক পেটুক। তার মাথায় পঁচা কুসুমের গন্ধ বেরোয়।

মানুষকে দিয়ে জুতা খেলায়। দিনে কিংবা রাতের আলোতে মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ করো। একদিকে দৈন্য মানুষকে পঙ্গু করে রেখেছে।শাক দিয়ে মাছ বন্দি করে রেখেছে। অন্যদিকে ধনের সন্ধানে ব্যাকুল হয়ে পরছে। বড় বড় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে গরীবের নিরীহ মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ করে যাচ্ছে। কালি-ধূলার মাঝে রৌদ্রের-বৃষ্টিতে কাজের ডাকে যারা নেমে পরছে তাদের অস্তিত্বকে আত্মসাৎ করে চলেছে ঐ দাঙ্গাবাজরা। যারা কথায় কথায় বেশ্যাকে গালি দেয় আর রাত হলে বেশ্যাকে বুকে নে। তাদের কাছের সমাজ কতটুকু নিরাপদ আপনারা ভালোই বুঝবেন। বর্তমানের যুবকসমাজকে হাতে রেখে অনেক সুযোগসন্ধানী পাপাচারে লিপ্ত আর তাদের দোষগুলো বয়ে বেড়াতে হয় কিছু শক্তিহীন নামে মাত্র ব্যাক্তিকে।

ঘটিরামদের সব কলঙ্ক কেন নির্দোষীরা নেবে? সমাজ কি দোষ-নির্দোষ চেনেনা? রাতারাতি একজন মানুষকে কী করে গায়েল করতে পারে? নির্দোষ ব্যক্তিকে কেন মারধর করবে? সুযোগ সন্ধানে কেন একজন ব্যক্তিকে মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করবে? উত্তর-দক্ষীণ, পূর্ব-পশ্চিম কেন তার দখলে থাকবে? তাহলে কি সমাজের শিক্ষিত ব্যক্তিদের কোনো মূল্য থাকবেনা? নিম্নবৃত্তরা কোনো মর্যাদা পাবেনা। আপনারা আমার গুরুজন – সমাজ একা কারও নয়।একটি সমাজ সবার। সমাজে দাঙ্গাবাজের যেমন অধিকার আছে ঠিক তেমনি নির্য্যাতন সহ্যকারীদেরও অধিকার আছে কথা বলার। আগে সমাজ থেকে দাঙ্গাবাজ,গুন্ডাবাজ,জুলুমকারী, নির্য্যাতক,পাচারকারীদে ছাঁটাই করুন।দেখবেন সমাজ এমনিতেই সভ্যতে পরিণত হবে। যতদিন দালালবাজ সমাজ থেকে বিদায় নেবেনা ততদিন এই অপরাধ বেড়েই চলবে। তাদের শক্তি আছে বলে কোনো কিছু বলার সাহস পাননা-আর যাদের শক্তি নেই তাদের দোষ চাপিয়ে দেবেন এটা কেমনে হয়।

আইন সবার জন্য সমান। আসুন আমরা সমাজকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলি।দালাল মুক্ত সমাজ গড়ি।দাঙ্গাবাজদের আইনের কাছে নিয়ে আসি। মাদকের বিরুদ্ধে পাশে থাকি। ম্যাজিকবাবুদের তেলবাজি বন্ধ করি। আজকাল সমাজের মানুষ বড়ই সন্দেহবাদী।কেন একজন মানুষ অপরাধী বলে তাকে সন্দেহ করে গণপিটুনি দিয়ে সারা শরীর জখম করে পেলবো? এটা কি মনুষ্যত্বের পরিচয়?মূলত এটা বদমাশের পরিচয়। আজ যারা গণপিটুনি দিয়ে একজন ব্যক্তিকে জখম করে মৃতশয্যায় করে পেলে সত্যিকার্থে আজ মুকুশধারী খারাপ দূঃচরিত্ত লোকগুলি সমাজকে বরবাদ করে দিচ্ছে।এই ধরেন পেনসি ডাল,মদ,গাঝা,ইয়াবা, ইভটিজিং,ছিন্তায়, চুরি,রাহাজানি, ধর্ষণ,নারী পাচার আজ তারাই যুব সমাজকে ধূলিস্যাৎ করে দিচ্ছে।

একজন ব্যক্তিকে জোরজবরদস্তি করে মাদকে রাজী করাটা মনুষ্যত্বের কাজ? অথচ এই গুন্ডারাই সমাজের কলঙ্কিত। আজ যারা সমাজকে বরবাদ করে দিচ্ছে তারাই শক্তিশালী। নিজেরাই ইয়াবা পাচার করে একজন নির্দোষব্যক্তিকে চাপিয়ে দিচ্ছে। এটা কোনো আইন। আজ সমাজ ”জোর যার মুল্লুক তার”। আপনারা সমাজ গড়ে তুলুন ন্যায়পরায়ন ভাবে। যাতে কোনো দালাল, ধড়িবাজ, জুলুমকারী, সম্পদ আত্মসাৎকারী যাতে সুযোগ না পাই সোচ্চার হয়ে উঠুন। দোষ করেই যাতে তারা নিজেকে কলুষিত মুক্ত না করে সে বিষয়ে কড়া নজর রাখতে হবে। প্রয়োজনে একটি সমাজকে উন্নয়ন কিংবা অপরাধ মুক্ত করতে যতটুকু করার দরকার ততটুকু করে যাবো ইনশাআল্লাহ। শুধু এই টুকুই আপনারা করেন দাঙ্গাবাজরা যেন সুযোগ নিয়ে কাঁধে হাত না দেয়। নিজেরা দোষ করে যেন নির্দোষীদের নিন্দা না করে।

লেখক ~মনির উদ্দীন, ইউনিভার্সিটি অফ ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি চিটাগং (UCTC)

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply