এ পর্যন্ত যতবার মারা গেলেন আইএস প্রধান আবু বকর আল বাগদাদি!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস)  শীর্ষনেতা আবু বকর আল বাগদাদির নিহতের খবর জানিয়েছেন মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

তাদের দাবি, শনিবার (২৬ অক্টোবর) রাতভর সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অভিযান চালিয়েছে মার্কিন সেনারা। মাসব্যাপী গোয়েন্দা অনুসন্ধানের পর বাগদাদির অবস্থান চিহ্নিত করতে সমর্থ হন তারা। তুর্কি সীমান্তবর্তী এলাকায় বাগদাদির লুকিয়ে থাকার স্থানের কাছাকাছি সেনারা পৌঁছলে বাগদাদি আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটান। দুই স্ত্রীসহ আইএসের এই শীর্ষ নেতা ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

হোয়াইট হাউজ অবশ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বাগদাদির নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। এর আগেও একাধিকবার মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো বাগদাদির নিহতের খবর প্রচার করেছিল। অবশ্য এরপর সেই দাবিকে নাকচ করে দিয়ে অডিও কিংবা ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন আইএস নেতা।

২০১৫ সালের এপ্রিলে দ্য গার্ডিয়ানসহ পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ১৮ মার্চ মসুলে বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বাগদাদি। পরে জানানো হয়, নিহত নয় বরং গুরুতর আহত হয়েছেন তিনি। ওই সময় জানানো হয়, মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়ায় পঙ্গু হয়ে গেছেন আইএস নেতা। এর মানে হচ্ছে, তিনি আর কখনোই সরাসরি আইএসের নেতৃত্ব দিতে পারবেন না। ১৩ মে আইএস যোদ্ধারা জানায়, তারা বাগদাদিকে আহত করার প্রতিশোধ নেবে।

একই বছরের ২০ জুলাই নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, বাগদাদি নিহত কিংবা আহত হয়েছেন বলে গুজব শোনা যাচ্ছে।

২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর ইরাকের বিমান বাহিনী দাবি করে, সিরিয়া সীমান্তের কাছে পশ্চিম আনবারে বাগদাদিকে বহনকারী গাড়ি বহরে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি নিহত কিংবা আহত হয়েছেন কিনা তা তাৎক্ষনিকভাবে নিশ্চিত করা যায় নি।

পরের বছরের ৯ জুন ইরাকের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে দাবি করা হয়, মার্কিন বিমান হামলায় আহত হয়েছেন বাগদাদি।

ওই বছরেরই ১৪ জুন মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম দাবি করে, ১২ জুন সিরিয়ার রাকায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বাগদাদি। অবশ্য মার্কিন জোটের পক্ষ থেকে এর সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।

২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম দাবি করে, বাগদাদি ও আইএসের তিন জ্যেষ্ঠ নেতার ওপর বিষপ্রয়োগ করা হয়েছে এবং তাদের ওপর গুপ্ত হামলা চালানো হয়েছে।

২০১৭ সালের ১১ জুন সিরিয়ার সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জানায়, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের গোলন্দাজ ইউনিটের হামলায় বাগদাদি নিহত হয়েছেন।

একই বছর ১৬ জুন রুশ সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, রাকায় রাশিয়ার বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বাগদাদি। ২৮ মে পরিচালিত ওই হামলায় আইএসের ৩০ জন মধ্যসারির নেতা ও ৩০০ যোদ্ধা নিহত হয়।

২৩ জুন রাশিয়ার রাজনীতিবিদ ভিক্টর ওজেরভ জানান, বাগদাদির মৃত্যুর বিষয়টি ১০০ ভাগ নিশ্চিত। পরে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রুশ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বাগদাদি।

২৯ জুন ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়তুল্লাহ আলি খামেনি কুদস বাহিনীকে বলেছেন, আল-বাগদাদি যে মারা গেছেন তা নিশ্চিত।

পরের মাস অর্থাৎ ১১ জুলাইয়ে ইরাকি বার্তা সংস্থা আল সুমারিয়া জানায়, আইএস একটি বিবৃতি দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে, বাগদাদি নিহত হয়েছেন। লন্ডনভিত্তিক সিরিয়ার যুদ্ধ পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস এর সত্যতা নিশ্চিত করে।

গত বছরের ১৮ আগস্ট সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আইএসের গণমাধ্যম শাখা থেকে বাগদাদির একটি অডিওবার্তা প্রকাশ করা হয়। তাতে বলা হয়, বাগদাদি মরেন নি, জীবতই আছেন।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply