ওসামা বিন লাদেন হত্যা: কৃতিত্ব নিয়ে তিন ধরনের দাবি

জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেনের হত্যাকারী কে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। পাকিস্তানে ওসামার গোপন আস্তানায় অভিযান চালানো মার্কিন এক কমান্ডোর দাবি এ নিয়ে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। রবার্ট ও’নিল নামের ওই নেভি সিল কমান্ডোর দাবির সঙ্গে দুই বছর আগে দেওয়া আরেক কমান্ডোর বক্তব্যের মিল নেই। খবর এএফপি ও নিউইয়র্ক টাইমসের।
মার্কিন বিশেষ কমান্ডো অভিযানে সম্পৃক্তদের কমিউনিটি ব্লগ এসপিএফরেপডটকম বলেছে, ওসামাকে গুলি করে হত্যা করেন ৩৮ বছর বয়সী রবার্ট ও’নিল। সেই রবার্ট ও’নিলের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ও’নিল দাবি করেন, তাঁর গুলিতেই ওসামার মৃত্যু হয়। কিন্তু ইসলামাবাদের কাছে অ্যাবোটাবাদে ওই নাটকীয় অভিযানে সম্পৃক্ত ম্যাট বিশোনেট নামের আরেক নেভি সিল সদস্য ছয় বছর আগে প্রকাশিত বই নো ইজি ডে-তে অন্যরকম তথ্য দেন। আবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা এবং নেভি সিলের অন্য সদস্যদের ভাষ্য, ওসামা নিহত হয়েছিলেন তৃতীয় আরেকজনের গুলিতে। তিনিই ছিলেন ওই অভিযানের ‘পয়েন্ট ম্যান’ অর্থাৎ সবার সামনে থাকা সেনা।

২০১১ সালের ২ মে রাতের আঁধারে অ্যাবোটাবাদে ওসামার গোপন আস্তানায় হানা দিয়ে তাঁকে হত্যা করেছিলেন মার্কিন অভিজাত বাহিনী নেভি সিলের টিম-৬-এর সদস্যরা। সাড়ে ৮ বছর আগের সেই আলোচিত অভিযান নিয়ে রয়েছে বিতর্কও। এ জন্য পাকিস্তান সরকারের অনুমতি নেওয়া দূরে থাক, ফাঁস হওয়ার ভয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের আগে বিষয়টি জানায়নি পর্যন্ত।ওসামা বিন লাদেন প্রকৃতপক্ষে কার গুলিতে নিহত হয়েছিলেন, তা হয়তো কোনোদিনই জানা যাবে না। কারণ, সেই রাতের অভিযানে অংশ নেওয়া নেভি সিলের ২৩ সদস্যের সবাই ছিলেন সশস্ত্র। মার্কিন সেনাবাহিনী ওসামার মরদেহের কোনো ছবি প্রকাশ করেনি। তারা কেবল বলেছে, ইসলামি কায়দায় শেষকৃত্যের পর লাশ সাগরে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর গোপনীয়তার নীতির কারণে পেন্টাগন এ ঘটনার ব্যাপারে বিশদ তথ্য অন্তত দুই দশকের আগে প্রকাশ করবে না।

১৬ বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০১২ সালে নেভি সিল থেকে অবসর নেওয়া রবার্ট ও’নিল মন্টানার বাসিন্দা। এর আগে তাঁর কাহিনি ছদ্মনামে প্রকাশ করেছিল স্কয়ার নামের একটি সাময়িকী। ও’নিলের দাবি, তাঁর সামনে থাকা পয়েন্ট ম্যান ওসামাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লেও তা লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হয়। এরপর তিনি দুটি গুলি ছোড়েন, যা ওসামার মাথায় আঘাত করে। তবে এ দাবির সঙ্গে একমত নন নেভি সিলের ওই দলটির আরেক সদস্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র। সূত্রটি বলেছে, ওসামার কক্ষে ও’নিলের আগেই দুজন সেনাসদস্য প্রবেশ করেছিলেন। ওসামার প্রাণ কেড়ে নেওয়া গুলিটি ছুড়েছিলেন তাঁদেরই একজন।

ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ও’নিলও স্বীকার করেছেন ওসামাকে তিনি ছাড়াও আরও দুজন গুলি করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন ম্যাট বিশোনেট, যিনি ওই অভিযানের ঘটনা নিয়ে ২০১২ সালে নো ইজি ডে বইটি লিখেছিলেন। অবশ্য, বইটিতে ওসামাকে গুলি করা ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশোনেট বৃহস্পতিবার বলেন, ‘দুজন দুই রকমের গল্প ফাঁদছেন। এর পেছনে আলাদা কারণ রয়েছে…।’

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply