ওসি মোয়াজ্জেমের ৮ বছরের কারাদণ্ড

সিবিএল২৪ :

আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির কথোপকথন ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার দায়ে সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনকে ৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে সকাল পৌনে ১০টার দিকে ও‌সি মোয়া‌জ্জেম‌কে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়।

গত ২০ নভেম্বর এই মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেন বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন তার মা। সেসময় নুসরাতকে আপত্তিকর প্রশ্নের পাশাপাশি তার বক্তব্য ভিডিও করেন ওসি মোয়াজ্জেম। পরে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ওই মামলায় সিরাজ-উদ দৌলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর কয়েকদিন পর ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষার আগমুহূর্তে কৌশলে নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে সিরাজের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিতে চাপ দেয় দুর্বৃত্তরা।

এতে অস্বীকৃতি জানালে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায় তারা। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় করা মামলায় এরই মধ্যে অধ্যক্ষ সিরাজসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ফেনীর একটি আদালত।

নুসরাতের মৃত্যুর পর তাকে ‘আপত্তিকর’ কথা বলা এবং তার কথোপকথন ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় গত ১৫ এপ্রিল সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

ওই দিনই আদালত মামলাটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

এরপর ২৭ মে মামলাটি তদন্ত করে পিবিআই-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রীমা সুলতানা প্রতিবেদন জমা দেন। সেদিনই তা গ্রহণ করে মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

গত ১৬ জুন রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।

১৭ জুলাই আদালত আসামি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার বিচার শুরুর আদেশ দেন।

প্রায় চার মাস ধরে চলা বিচারকাজে মামলার বাদী, নুসরাতের মা, ভাই, দুই বান্ধবী, দুই পুলিশ সদস্য ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১২ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।

১২ নভেম্বর তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মাধ্যমে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। দুইদিন পর ১৪ নভেম্বর আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেন ওসি মোয়াজ্জেম।

সর্বশেষ গত ২০ নভেম্বর এ মামলায় উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য ২৮ দিন ধার্য করেন।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply