কক্সবাজারের সেই শিশুর জামিন মিললো হাইকোর্টে

সিবিএল২৪ :

মানবপাচার মামলায় হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন পেয়েছে কক্সবাজারের এক শিশু। ১২ বছর বয়সী ছেলেটি গতকাল সোমবার মাকে সঙ্গে নিয়ে জামিন শুনানিতে হাজির হলে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহরিুল হকের বেঞ্চ তা মঞ্জুর করেন। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জামান আকতার বুলবুল।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন। পরে সারওয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “একদম ছোট্ট একটা ছেলে। বয়স সর্বোচ্চ ১২ বছর হবে। আদালত তাকে ৮ সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছে।”-বিডিনিউজ

আইনজীবী বুলবুল বলেন, ছেলেটির জন্ম ২০০৭ সালের ১০ আগস্ট। অথচ ২০১৪ সালের ২০ জুন এবং গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বরের দুটি ঘটনায় মানব পাচার আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। “প্রথম ঘটনার সময় শিশুটির বয়স ছিল সাত বছরের একটু বেশি। আর দ্বিতীয় ঘটনার সময় বয়স ১১ বছরের মত। অথচ মামলায় বয়স দেখানো হয়েছে ২২ বছর।”

এ আইনজীবী বলেন, রামু থানার পুলিশ গত ১৪ অক্টোবর শিশুটিকে গ্রেপ্তার করতে তার বাড়িতে যায়। কিন্তু তাকে দেখার পর গ্রেপ্তার না করে ফিরে যায়। “পুলিশের মনেও এই প্রশ্ন জেগেছে, এইটুকু বাচ্চা কীভাবে মানবপাচারের মত অপরাধের সাথে জড়িত!”

পরে গত বৃহস্পতিবার অন্যান্য আসামির সঙ্গে হাই কোর্টে এসে জামিন আবেদন করে শিশুটি। গতকাল সোমবার সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত তাকে জামিন দেয়। শুনানিতে শিশুটিকে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে বেঞ্চর একজন বিচারক একে (শিশুটিকে মামলায় জড়ানোকে) ‘অমানবিক’ বলেন।

গত বছর ১৪ অক্টোবর রামুর হাজি পাড়ার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম (৪১) চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে একটি পিটিশন মামলা করেন। মামলায় রামুর চাকমারকুল এলাকার ওই শিশুসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়। ২০১৪ সালের ২০ জুন ও ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বরের দুটি ঘটনার উল্লেখ করা হয় মামলায়।

অভিযোগে বলা হয়, বিনা খরচে, ভাল বেতনে মালয়েশিয়ায় কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ২০১৪ সালে ২১ জুন বাদী ও অন্যান্য ভিকটিমদের কক্সবাজারের লামুনীচর থেকে জাহাজে তুলে দেয় আসামিরা। কয়েকদিন পর থাইল্যা- উপকূলে পাহাড়ের মধ্যে জঙ্গলে তাদের জাহাজ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে দালাল চক্রের লোকজন মারধর করে এবং তাদের কাছ থেকে স্বজনদের ফোন নম্বর নিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ওই আসামি (শিশু) এবং মামলার প্রধান ও দ্বিতীয় আসামি ফোন করে ভিকটিমের স্বজনদের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে। পরে আসামিদের আরও ১ লাখ টাকা দিয়ে মালেয়শিয়ায় পৌঁছান মামলার বাদী নুরুল ইসলাম।

২০১৭ সালের জুনে মালেয়শিয়ায় পুলিশের অভিযানকালে তিনি আটক হন। এক বছর জেল খাটার পর দেশে ফিরে এসে মামলা করেন। কক্সবাজারের আদালতে মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে বলে আইনজীবী আকতার বুলবুল জানান।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply