কক্সবাজারে এক তৃতীয় শ্রেণীর দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মচারীর সম্পদের পাহাড়

সিবিএল২৪ ডেস্কঃ
কক্সবাজারের রামু উপজেলায় কর্মরত অফিস সহকারী সরকারি গেজেট অনুযায়ী তৃতীয় শ্রেনীর এই কর্মচারীর সর্বসাকুল্যে বেতন পান প্রায় ২৭ হাজার । কিন্তু এই বেতনে চাকরী করা এক কর্মচারীর অঢেল সম্পদেক তথ্য পাওয়া গেছে। মূলক চাকরী জীবনে সিমাহীন অনিয়ম দূর্নীতি আর বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্য করে এই বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন বলে জানা গেছে। এই কর্মচারীর হঠাৎ এমন অর্থবৈভব দেখে নিজ গ্রামের মানুষও এখন হতবাক। এদিকে উক্ত কর্মচারীর অনিয়ম দূর্নীতি বন্ধে এবং জনসেবা নিশ্চিত করতে দ্রæত অনুসন্ধান পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা প্রশাসক এবং দূর্নীতি দমন কমিশনে দরখাস্ত করেছেন কয়েকজন ভোক্তভোগী।
রামু উপজেলায় কর্মরত অফিস সহকারী সরওয়ার উদ্দিন,তার সম্পদের হিসাব দেখলে চোখ কপালে উঠারমত, কক্সবাজার শহরের বৈইল্যা পাড়া এলাকায় ৫ তলা বাড়ি, যার আনুমানিক মুল্যা ২ কোটি টাকা। এছাড়া আলোচিত ৫১ একরে রয়েছে দুটি আলাদা প্লট,যার একটি ৫ কাঠা,অন্যটি ৩ কাঠা, ৫ কাঠা প্লটে ইতি মধ্যে ২ তলার বাড়ি নির্মাণ হয়ে গেছে, আর ৩ কাঠার প্লটে এক তলা বাড়ি আছে। যার আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি টাকা। এছাড়া তার নিজগ্রাম ঈদগড়েও পাইন্যলও ঘোনা এলাকায় গড়ে তুলেছেন বিশাল মার্কেট। এছাড়া বেশ কয়েকটি ব্যাংকে রয়েছে বিপুল পরিমান নগদ অর্থ। নিজে চড়েন প্রায় ৩ লাখ টাকা দামের মটরসাইকেল। মাত্র ২৭ হাজার টাকা বেতনে চাকরী করা এক তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর এমন আলিশান জীবন যাপন দেখে অনেকের মনে প্রশ্নজেগেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,সরওয়ার উদ্দিন টেকনাফ ভুমি অফিসে কর্মরত থাকা অবস্থা থেকে দূর্নীতির হাতে খড়ি,সেখান থেকে আয় করেছেন বিপুল টাকা,পরবর্তীতে বর্তমান কর্মস্থল রামু উপজেলা অফিসে এসে খোলে গেছে কপাল,প্রতিটি হাট বাজার নিলাম থেকে বিপুল টাকা মাশোয়ারা না পেলে সর্বোচ্চ ডাককারীকে ও নিলাম বুঝিয়ে দেন না তিনি। কাগজ পত্র নিজেই সরিয়ে ফেলে তার সাথে দফারফাকারীদের নিলাম দেন তিনি। আর প্রয়োজন হলে খাস কালেকশন করেন। এতে লাভ সরওয়ার উদ্দিনের।
এদিকে রামু উপজেলার জোয়ারিয়া নালা এলাকার ইসমাঈল হোসেনের ছেলে আবছার উদ্দিন সম্প্রতী কক্সবাজার জেলা প্রশাসক,দূর্নীতি দমন কমিশন সহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে দেওয়া অভিযোগ থেকে জানা গেছে,রামু উপজেলার নিয়ন্ত্রনাধীন গর্জনিয়া বাজার নিলাম সর্বোচ্চ ডাককারী নুরুল ইসলাম থেকে সরওয়ার উদ্দিন মোটা অংকের ঘুষ দাবী করেন কিন্তু সেটা দিতে না পারায় সরওয়ার উদ্দিন নিজেই কাগজ পত্র ফাইল থেকে গায়েব করে দিয়ে দ্বিতীয় ডাককারীকে দেয়। পরে সেটা নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা হলে বর্তমানে খাস কালেনশন চলছে,এছাড়া চাকমারকুল বাজারও প্রথম ডাককারী কে না দিয়ে দিয়েছেন সরওয়ারের সাথে লেনদেনকারী অন্য জনকে,এদিকে হিমছড়ি বাজারও বর্তমানে খাস কালেকশনে সেখানে স্থানীয় কামাল মেম্বারকে দিয়ে টাকা তুলে আত্মসাৎ করছে,এদিকে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ধেচুয়া পালং বাজার থেকে প্রতিদিন অন্তত ২ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয় বলে জানান স্থানীয় ব্যবসায়িরা। সেই বাজারেও বর্তমানে খাস কালেকশন করছেন স্থানীয় চেয়ারম্যান এবং বিএনপি নেতা ফরিদ। তবে তাদের মূল সহযোগি রামু উপজেলা অফিস সহকারী সরওয়ার উদ্দিন।
এ ব্যপারে খুনিয়াপালং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদ বলেন,রামু উপজেলা অফিসের সরওয়ার উদ্দিনের মত দূর্নীতিবাজ ব্যাক্তি দেশে আর আছে কিনা সন্দেহ। অফিস সহকারি হওয়ার সুবাধে সব কাগজ তার হাত দিয়ে যায় সেটাকে কাজে লাগিয়ে তিনি পুরু অফিসকে নিয়ন্ত্রন করছেন,তাই দ্রæত দুদকের মাধ্যমে তদন্তের দাবী জানান তিনি।
এদিকে রামু উপজেলার বেশ কয়েকজন চেয়ারম্যান দাবী করেন সরওয়ার উদ্দিন মূলত টাকার কুমির,সে উর্ধতন কর্মকর্তাদের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে তাই সবাই তার কথাকে প্রাধান্য নেয়। সম্প্রতী মুজিব বর্ষের ঘর থেকে অন্তুত কোটি টাকা দূর্নীতি করেছেন তিনি আর পিআইও। এছাড়া ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে প্রতি মাসে অন্তুত ৫ থেকে ১০ টাকা ভাগভাটোয়ারা করেন। এছাড়া চেয়ারম্যানদের সাথেও চরম খারাপ ব্যবহার করে তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী সরওয়ার উদ্দিন। এদিকে তার নিজগ্রাম ঈদগড় পাইন্যরঘোনা এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ সমাজপতিদের কাছ থেকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,বর্তমানে সরওয়ার সেখানে বিশাল মার্কেট নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন,এর আগে তিনি বিপুল সম্পদ ক্রয় করেছেন স্থানীয় গরীব মানুষজন থেকে। তবে তার পৈত্রিক তেমন কোন সহায় সম্পদ ছিলনা তিনি সরকারি কর্মচারী হওয়ার পর থেকে তাদের উন্নতি হচ্ছে। এদিকে রামু উপজেলায় কর্মরত অন্যান্য কর্মচারী এবং সচেতন মহলের দাবী মাত্র ২৭ হাজার টাকা বেতনের চাকরী করে সরওয়ার উদ্দিন কিভাবে এত বিপুল সম্পদের মালিক হলো সেটা খতিয়ে দেখা দরকার।
এ ব্যপারে রামু উপজেলার অফিস সহকারী সরওয়ার উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,এগুলো সব মিথ্যা কথা,সাংবাদিকরা টাকা খাওয়ার জন্য আমার বিরুদ্ধে বলছে,সব বাজে কথা বলে ফোন কেটে দেন।
এদিকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: জাহিদ ইকবাল বলেন,আমাদের কোন কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে অবশ্যই সেটা খতিয়ে দেখা হবে। এদিকে দুদক কর্তৃক তদন্তেরও দাবী জানান সচেতন মহল।

Leave a Reply