কক্সবাজারে সহস্রাধিক কাউমী মাদরাসা, হেফখানা ও এতিম খানার পৌনে তিন লাখ ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মচারীর মানবেতর জীবন যাপন

দ্রুত কওমী মাদরাসা খোলে দেয়ার দাবী

দৈনিক ইনকিলাবঃ

এবারের লকডাউনে কক্সবাজার জেলার সহস্রাধিক কাউমী মাদরাসা, হেফখানা ও এতিম খানার পৌনে তিন লাখ ছাত্র- শিক্ষক ও কর্মচারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে জানা গেছে। গত বছর করোনাকালীন লকডাউনে সরকার স্কুল কলেজ বন্ধ রাখলেও খোলা রেখেছিল কাউমী মাদরাসা এবং এর সাথে থাকা হেফজ খানা ও এতিম খানা গুলো।

কিন্তু এবারের লকডাউনে সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ায় বিপদে পড়েছে কাউমী মাদরাসার শিক্ষক শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা। স্কুল কলেজ ও আলিয়া লাইনের মাদরাসা সমুহের শিক্ষক কর্মচারীরা বেতনসহ নানা সুযোগ সুবিধা পেয়ে আসলেও বিপদে পড়েছে সরকারি অনুদানদান ছাড়া পরিচালিত কাউমী ধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীরা।

অধিকন্তু রমজান মাস ও ঈদুল আজহা হচ্ছে কাউমী ধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য অর্থ সংগ্রহের সুবর্ণ সুযোগ। এই সময়ে কাউমী ধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো সারা বছর প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করার অর্থ সংগ্রহ করে থাকে। এবারের লকডাউনে কাউমী মাদরাসা গুলোও বন্ধ করে দেয়ায় এই ধারার শিক্ষক শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা বিপদে পড়েছেন বলে জানা গেছে।

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, শুধু কক্সবাজারেই রয়েছে কাউমী ধারার সহস্রাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কক্সবাজারে রয়েছে, ২টি মহিলা দাওরায়ে হাদিস (কামিল) মাদরাসাসহ সর্বোচ্চ স্তরের ৮টি দাওরায়ে হাদিস মাদরাসা। উচ্চমাধ্যমিক স্তরের উলা পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে ১৬টি। মাধ্যমিক স্তরের মাদরাসা আছে ১৪০ এবং এবতেদায়ী স্তরের রয়েছে ৬৫০ টি। এছাড়াও তাহফিজুল কুআন বা হেফজ খানা রয়েছে ৩শতাধিক। এর সাথে এতিম খানা আছে ১১০টি। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় পৌনে তিন লক্ষ। আর শিক্ষক সংখ্যা রয়েছে ৭ হাজার।

কাউমী মাদরাসা শিক্ষক নেতা রামু রাজারকুল আজিজুল উলুম (দাওরা) মাদরাসার পরিচালক (মুতামিম) মাওলানা মুহসিন শরীফ এপ্রসঙ্গে বলেন, করোনাকালীন রমজানে এবারের লকডাউনে জেলার সহস্রাধিক কাউমী মাদরাসার ৭ হাজার মত শিক্ষক কর্মচারী এবং পৌনে তিন লাখ শিক্ষার্থী মানবেতর জীবন যাপন করছেন। একেতো লকডাউনে প্রতিষ্ঠান বন্ধ। এর উপর মাদরাসার জন্য অর্থ সংগ্রহের সুবর্ণ সুযোগ রমজান মাস হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও কাউমী শিক্ষক কর্মচারীদের জন্য দূর্যোগকালীন সরকারী কোন প্রনোদনা না থাকায় তারা মনবেতর জীবন যাপন করছেন।

তিনি বলেন, সরকারি রেজিষ্টেশন পাওয়া এতিমখানা গুলো চালু রাখায় সুবিধায় রয়েছে। তবে বেসরকারি এতিমখানা গুলো অসুবিধায় পড়েছে। মাওলানা মুহসিন শরীফ কাওমী মাদরাসা শিক্ষক কর্মচারীদের জন্য লকডাউনে প্রনোদনা দেয়ার পাশাপাশি ঈদুল ফিতরের পর থেকে কাউমী মাদরাসা সমুহ খোলে দেয়ার দাবী জানান।

এদিকে হুফ্ফাজুল কুরআন সংস্থা বাংলাদেশ-এর মহাসচিব হাফেজ ক্বারী মাওলানা ইউনুস ফরাজী বলেন, জেলার ৩ শতাধিক হেফজ মাদরাসার ১০ সহস্রাধিক ছাত্র এবং একহাজর মত শিক্ষক বিপদে পড়েছেন। তিনি আরো বলেন, গত বছর লকডাউনে সারা দেশের হেফজ মাদরাসা খোলা থাকলেও কোথাও করোনার উপসর্গ দেখাযায়নি। তাই কুরআন চর্চার কেন্দ্র হেফজ মাদরাসাগুলো দ্রুত খোলে দেয়ার দাবী জানান তিনি।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply