কক্সবাজার-চট্টগ্রামে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২

নাহিদ দেওয়ান : একদিনের ব্যবধানে চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও কক্সবাজারের টেকনাফে র‌্যাব ও পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুইজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে । চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মোরশেদ আলম (৩৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। মোরশেদ বাঁশখালীতে ডাকাতির সময় ৩১ জেলেকে সাগরে ফেলে নির্মমভাবে হত্যায় অভিযুক্ত বলে জানিয়েছে র‌্যাব। শনিবার গভীর রাতে বাঁশখালী উপজেলার বাণীগ্রাম লটমণি পাহাড়ে এ ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ঘটনা ঘটে। র‌্যাবের চট্টগ্রাম জোনের সহকারি পরিচালক এএসপি কাজী মো. তারেক আজিজ জানিয়েছেন, লটমণি পাহাড়ে অভিযানে গেলে মোরশেদ বাহিনীর ডাকাতদের সঙ্গে র‌্যাবের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মোরশেদের মৃত্যু।

ঘটনাস্থল থেকে তার লাশের পাশাপাশি একটি বিদেশি পিস্তল, একটি থ্রি কোয়ার্টার গান, দু’টি ওয়ান শ্যুটার গান, ১৯ রাউন্ড গুলি ও ৩টি রামদা জব্দ করা হয়েছে। নিহত ডাকাত মোরশেদ আলম বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল এলাকার ছিদ্দিক আহমেদের ছেলে। ৩১ জেলে খুনসহ ২১ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন মোরশেদ। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন থানায় অর্ধশতাধিক জিডি আছে বলে র‌্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক মাদক কারবারি নিহত হয়েছেন। এ সময় এক সহকারী উপপরিদর্শকসহ (এএসআই) তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। রোববার (২৬ জানুয়ারি) ভোরে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের পূর্ব সাতঘরিয়া পাড়াসংলগ্ন পূর্ব দইল্যা খালের পাড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মাদক কারবারি হোয়াইক্যং ইউনিয়নের পূর্ব সাতঘরিয়া পাড়ার জালাল আহাম্মদের ছেলে মো. নাসির (৩০)। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) অহিদ উল্লাহ, কনস্টেবল আব্দুর শুক্কুর ও হেলাল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান আসার খবর পেয়ে শনিবার রাত ১০টার দিকে হ্নীলা ইউনিয়নের গার্লস স্কুলের সামনে থেকে নাসিরকে গ্রেফতার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ভোরে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের পূর্ব সাতঘরিয়া পাড়াসংলগ্ন পূর্ব দইল্যা খালের পাড়ে অভিযানে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় নাসিরের সহযোগীরা। এতে এএসআই অহিদ উল্লাহ, কনস্টেবল আব্দুর শুক্কুর ও হেলাল আহত হন। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। দু’দলের গোলাগুলির মাঝখানে পড়ে নাসির গুলিবিদ্ধ হন।

পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে ১০ হাজার ইয়াবা, তিনটি দেশীয় এলজি, ১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১৬ রাউন্ড খালি খোসাসহ গুলিবিদ্ধ নাসিরকে উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেয়া হয়। সেখানে আহত পুলিশ সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক প্রণয় রুদ্র বলেন, ভোরে চারজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশ। এরমধ্যে তিনজন পুলিশ সদস্য। অপর একজন সাধারণ মানুষ। তার শরীরে দুটি গুলির চিহ্ন রয়েছে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে ভোরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply