কক্সবাজার পৌরসভা ১২ নং ওয়ার্ডের উপনির্বাচনে আলোচনায় এগিয়ে তিন প্রার্থী


নিজস্ব প্রতিনিধি:-
কক্সবাজার পৌরসভার বানিজ্যিক ও পর্যটন শিল্পের ক্ষেত্র হোটেল মোটেল জোন নিয়ে গঠিত ১২ নম্বর ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণা জমে উঠেছে।

নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণায় রয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক কাজী মোস্তাক আহমেদ শামীম, ১২ নাম্বার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহেদ আলী সাহেদ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পদক ও ১২ নাম্বার ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি আনসারুল করিম ।
এদিকে আগামী ২৮ নভেম্বর কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নং ওয়ার্ডের উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করার পর সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রচার প্রচারণা শুরু করে দিয়েছে। বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় গিয়ে ভোটারদের সাথে কৌশল বিনিময় করা থেকে শুরু করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে জনমত তৈরি করে যাচ্ছে। এমনকি যার যার কর্মীরাও প্রচারণা চালাচ্ছে নিজ নিজ প্রার্থীদের পক্ষে । সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী আনসারুল করিম বলেন, আমি নির্বাচনের তফশিল দেখে মাঠে নামিনি,করোনার প্রথম ঢেউ শুরু থেকে সাধারণ মানুষের জন্য খাদ্য সামগ্রী থেকে শুরু করে ১২ নম্বার ওয়ার্ডে চিকিৎসা ক্যাম্প চালু করে সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছি। এখন উপনির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য এলাকাবাসী আগ্রহকে মূল্যায়ন করতে প্রার্থী হচ্ছি।
কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আনসারুল করিম জানান, আমি প্রত্যাশা করি দলমত ভুলে সবাই আমাকে ভোট দেবে, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে। করোনাকালীন সময় ছাড়াও অতিতে আমি ও আমার পরিবার মানুষের পাশে থেকেছি। এই নির্বাচনে আমি জয়ী হয়ে ওয়ার্ডবাসীর সেবা করতে চাই।

এদিকে, নির্বাচনের হাওয়ায় ১২ নং ওয়ার্ডে নানা ধরনের বাহারি প্রতিশ্রুতি আসলেও স্থানীয় ভোটারগণ নিবিড়ভাবে দৃষ্টি রাখছেন প্রার্থীদের দিকে। সৎ, যোগ্য ও যিনি বন্ধু হিসেবে পাশে থাকবেন তাকেই ভোট দিবেন বলে জানা যায়।
আলমগীর নামে স্থানীয় এক ভোটার জানান, আমরা কোনো দল বা প্রতিক দেখে ভোট দিবো না, এলাকার উন্নয়নে যে কাজ করতে পারবে, যিনি আমাদের ওয়ার্ডটিকে আধুনিকভাবে গড়ে তুলতে পারবেন। আমরা তাকেই ভোট দিবো।
আরেক ভোটার খালেক জানান, আমাদের মরহুম কাউন্সিলর বাবু ভাই অনেক চেষ্টা ও কষ্ট করে ১২ নং ওয়ার্ডে অনেক রাস্তাঘাট করেছিল আমাদের পাশে ছিলেন। বিচার সালিসে তার ন্যায় বিচার ছিল। তার মারা যাওয়া আমাদের জন্য অনেক ক্ষতি হলেও যিনি আগামীতে তার হাল ধরতে পারবেন, চাঁদাবাজ, মাদকমুক্ত এলাকা গড়তে পারবে আমরা তাকেই ভোট দিবো।
চায়ের দোকান নাছির বলেন, এখন প্রার্থীরা
আমাদের বুকে জড়িয়ে ধরেন। শুধু নির্বাচন আসলেই হাত মিলায় এমন লোকদের ভোট দিতে চাই না।

এদিকে, স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা ও ভোটের এবং ভোটারের হিসেবে প্রয়াত কাউন্সিলের কাজী মোরশেদ আহমেদ বাবুর বড় ভাই জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক কাজী মোস্তাক আহমেদ শামীম হতে পারে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী। ইতিমধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের গ্রীন সিগনাল পেয়ে ১২ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায়
নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচার প্রচারণা শুরু করেছে তিনি বিগত করোনা দূর্যোগে সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছে ত্রাণ সহযোগিতা দিয়ে।

সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী ১২ নাম্বার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহেদ আলী সাহেদ নির্বাচনী তৎপরতা চোখে পড়ার মতো,তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে নানা ভাবে সহযোগিতা করতে দেখা যায়। ইতিমধ্যে তিনি প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিস্কার করেন। তার একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে হুবহু তুলে ধরা হল, আমার প্রাণপ্রিয় ১২ নং ওয়ার্ডবাস আসলামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু অন্যান্য ধর্মালম্বীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা প্রিয় ওয়ার্ড বাসি আপনারা ইতিপূর্বে শুনেছেন আগামী ২৮ নভেম্বর ২০২১ অত্র ওয়ার্ডের উপনির্বাচন আমি দিন দিন আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছি কতিপয় ব্যক্তি আগামীতে যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সে নির্বাচনে আমি নির্বাচন করব না বলে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় গুজব ছড়াচ্ছে এইসব গুজবে কান না দেওয়ার জন্য বিনীত ভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি সাথে এটাও জানাচ্ছি আমি আপনাদেরকে সাথে নিয়েই’ সন্ত্রাস’ মাদক’ মুক্ত আধুনিক ১২ নং ওয়ার্ড গঠন এর প্রত্যয় ব্যক্ত করছি আল্লাহ আমাদের সহায় হোক। এই স্ট্যাটাসটি ইতিমধ্যে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে।

এই তিনজন ছাড়াও উক্ত ওয়ার্ডে সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদে আলোচনায় রয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের উপ প্রচার সম্পাদক ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এম মঞ্জুর, ১২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম দানু, সাবেক
ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম ডালিম।

উল্লেখ্য,কক্সবাজার পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৮ নভেম্বর।

উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এসএম শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ সময় ২ নভেম্বর। মনোনয়ন পত্র বাছাই ৪ নভেম্বর। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১১ নভেম্বর। ভোটগ্রহন ২৮ নভেম্বর। ওই দিন সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ভোটগ্রহন চলবে।
চলতি বছরের ২৬ ফ্রেব্রুয়ারী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী মোর্শেদ আহমদ বাবু। এতে কাউন্সিলর পদটি শূণ্য হয়ে যায়।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply