কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়ের সমুদ্র সম্প্রসারণ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

এরফান হোছাইন, কক্সবাজারঃ

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারকে ঘিরে কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়ের সমুদ্রের ঠিক ওপরে অবতরণের প্রস্তুতি নেবে বিমান। কক্সবাজার বিমানবন্দর হবে দেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
পর্যটন নগরী কক্সবাজারের বিমানবন্দরকে ঘিরে চলছে এমন নানা পরিকল্পনার মধ্যে ৩ হাজার ৭০৯ কোটি ৬০ লাখ টাকার একটি কক্সবাজার বিমানবন্দর প্রকল্প। উক্ত প্রকল্পটি আজ রবিবার (২৯ আগস্ট) সকালে ভিড়িও কনফারেন্সে উদ্ভোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কক্সবাজার হবে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ট ও আধুনিক পর্যটন নগরী, এটা বলেই সম্প্রসারিত রানওয়ের কাজের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সোনাদিয়াতে পরিবেশবান্ধন ট্যুরিজম স্পট করে দেব। টেকনাফে ইকোনোমিক জোন করা হবে। পুরো কক্সবাজারকে উন্নত করতে আমাদের প্ল্যান রয়েছে।

উক্ত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) এর চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম. মফিদুর রহমান, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী।

উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বিভাগীয় কমিশনার মো. কামরুল হাসান, আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, কক্সবাজার-৩ আসনের সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল,মহেশখালী-কুতুবদিয়া (২) আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, কক্সবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী, কউক চেয়ারম্যান কর্নেল ফোরকান আহমেদ, জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি কানিজ ফাতেমা আহমেদ , জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামানসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কক্সবাজার বিমানবন্দর প্রকল্পঃ

এপ্রকল্পের তথ্যসূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশনার কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়েতে পূর্ণলোডে সুপরিসর বিমান ই-৭৭৭-৩০০ ই আর, বি-৭৪৭-৪০০ জাতীয় বিমান উড্ডয়ন-অবতরন নিশ্চিতকরনের লক্ষ্যে সিএএবি মহেশখালী চ্যানেলের দিকে Reclamation প্রক্রিয়ায় আরও ৩০০০ ফুট রানওয়ে সম্প্রসারণের সমীক্ষা, পেভমেন্ট , এয়ারফিল্ড লাইটিং সিস্টেম , জিওমেট্রিক এবং স্ট্রাকচারাল ডিজাইন, ড্রইং ও ডকুমেন্ট প্রণয়নের জন্য দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান বিআরটিসি, বুয়েট, এবং হাইড্রোজিলজিক্যাল এন্ড মরপোলজিক্যাল স্ট্যাডিজ, বাঁধের রক্ষাপ্রদ ডিজাইন, ড্রইং এর জন্যে, ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিন সহিত সাব কনসালটেন্ট হিসেবে ডাচ হাইড্রলিক ইনস্টিটিউট ও জয়াল হাস্কনিং নেদারল্যান্ডকে সিএএবি নিয়োগ প্রদান করে। বুয়েট ও আইডব্লিউএম সহ বিদেশী পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত ডিজাইন,ড্রইং ও ডকুমেন্ট প্রণয়নের ভিত্তিতে মহেশখালী চ্যানেলের দিকে আরও ৩০০০ ফুট রানওয়ে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নিম্নবর্ণিত সুবিধাতি সম্বলিত কাজের জন্যে সিএএবি কক্সবাজার বিমানবন্দরে রানওয়ে সম্প্রসারন প্রকল্পটি গ্রহণ করেন।

প্রকল্পটির বাস্তবায়ন হলে বিমানবন্দরের রানওয়ে ৯০০০ ফুট হতে ১২০০০ ফুট উন্নীত করনে কক্সবাজার থেকে সরাসরি পূর্ণ লোডে সুপরিসর আন্তর্জাতিক ফ্লাইট উড্ডয়ন-অবতরন সম্ভব, সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন প্রিসিশন অ্যাপ্রোচ ক্যাট-১ লাইটিং সিস্টেম সংস্থাপনের ফলে রাত্রিকালীন বিমান পরিচালনা, বিমানবন্দরে যাত্রী ও কার্গো পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিমানবন্দরে ফ্লাইট অপারেশনের সংখ্যা বৃদ্ধি, সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আকাশপথে দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থা স্থাপন সম্ভব হবে। এবং নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ বোয়িং-৭৭৭-৩০০ ইআর, ৭৪৭-৪০০ ও এয়ারবাসের মতো উড়োজাহাজ সহজেই ওঠা-নামা করতে পারবে।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply