কক্সবাজার শহরের কুখ্যাত মাদক সম্রাট ও হত্যা মামলার আসামি কাজী জাফর সাদেক রাজু ইয়াবাসহ আবারো আটক

জাহেদুল ইসলাম, কক্সবাজার :

কক্সবাজার শহরতলীর কুখ্যাত মাদক সম্রাট কাজী জাফর সাদেক প্রকাশ রাজু (৩৬) ইয়াবাসহ আবারো গ্রেপ্তার হয়েছে র্যাবের হাতে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৫ অক্টোবর (শুক্রবার) রাত ১০টা ৪০মিনিটের সময় কক্সবাজার সদরের লিংক রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ১৭ পিস ইয়াবাসহ কক্সবাজার শহরের কুখ্যাত মাদক সম্রাট কাজী জাফর সাদেক রাজু (৩৬) ও তার সহযোগী বড়বাজার এলাকার মংচেন ওয়াং (৪০)কে আটক করে র্যাব-১৫ এর একটি চৌকস টিম। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি মোটর সাইকেলও জব্দ করে র্যাব।

র্যাবের হাতে আটক মাদক সম্রাট রাজু (গোলাকার চিহ্ন)

র্যাবের হাতে আটক মাদক সম্রাট কাজী জাফর সাদেক রাজু কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া নিবাসী আব্দুস সবুরের পুত্র এবং তার সহযোগী মংচেন ওয়াং বড়বাজার এলাকার মৃত উইখ্যাচিং এর পুত্র বলে জানা গেছে।

কে এই কুখ্যাত মাদক সম্রাট কাজী জাফর সাদেক রাজু :

কক্সবাজার শহরতলীর বীচ সংলগ্ন বাহারছড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মাদক সম্রাট জাফর সাদেক রাজু এইচএসসি ফেল করার পর আনুমানিক ২০০৪/০৫ সাল নাগাদ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বীচ বাইক চালকের পেশা গ্রহণ করে। বীচ বাইক চালিয়ে সে কোনরকম সংসার চালাতো। কিন্তু কয়েকবছর পর সে জড়িয়ে পড়ে মাদক ব্যবসায়। মাদক ব্যবসায় লাভ বেশি দেখে অচিরেই বীচ বাইক চালকের পেশা ছেড়ে দিয়ে পর্যটন জোন কলাতলী ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সে পুরোদমে শুরু করে দেয় মাদক ব্যবসা। মাদকের কল্যাণেই ঘুরে যায় তার ভাগ্যের চাকা।


জানা যায়, মাদক সম্রাট রাজু দীর্ঘদিন ধরে কলাতলীস্থ ‘মেরিন বার্ড’ নামক একটি হোটেলকে কেদ্র করে হোটেল ব্যবসার নামে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর চোখে ধুলা দিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেটের রমরমা ব্যবসা পরিচালনা করতো। আরও জানা যায়, পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহরের কলাতলী ভিত্তিক তার একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট রয়েছে। এ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সে পাইকারী কিংবা খুচরা আকারে কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের কাছে বিক্রির পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা সরবরাহ করতো। এভাবে ইয়াবার কল্যাণে সে রাতারাতি বনে যায় কোটিপতি।

২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর বিকাল ০৪:২৫ ঘটিকার সময় ভদ্রলোক সেজে ইউ.এস বাংলার অভ্যান্তরীণ বিমান (যার নং ১৪৬) যোগে ইয়াবার চালান নিয়ে কক্সবাজার থেকে ঢাকার যাওয়ার সময় কুখ্যাত মাদক সম্রাট রাজু কক্সবাজার বিমান বন্দরে ৭৫০ পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে আটক হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে অন্তরীণ ছিলো। (সূত্র : বিবিসি নিউজ২৪ / ২৯ অক্টোবর, ২০১৮)

কিন্তু কিছুদিন পর কালো টাকার বদৌলতে জেল থেকে বের হয়ে সে আবারো জড়িয়ে পড়ে মাদক ব্যবসায়। কেবল মাদক ব্যবসা নয়, মানুষ হত্যা এবং নারী অপহরণেও তার রয়েছে বিশেষ পারদর্শিতা।

গত ২৯ অক্টোবর, ২০১৮ সালে বিবিসি নিউজ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ থেকে আরো জানা যায়, কক্সবাজার শহরের এক আলোচিত হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার দরুণ তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা যার নং ৪৬(১২)২০১৪; জি আর নং-১০৬৭/১৪, ধারা- ৩০২/৩৪ দ:বি এবং কক্সবাজার সদর মডেল থানার মামলা নং ৭৩(৪)২০১৫; জি আর নং-৩৭৫/১৫, ধারা- ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩৭৯/৫০৬ এ মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।

৩ মার্চ, ২০১৯ সালে প্রকাশিত coxsbazarnews.com অনলাইন পোর্টাল থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৮ মার্চ জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার ঘাশিরপাড়ার বাসিন্দা জৈনক আকতার হোসাইনের স্ত্রী ও এক সন্তানের জননী সালমা আকতার নূপুরকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে কক্সবাজারে নিয়ে আসে মাদক সম্রাট রাজু।

মাদক সম্রাট রাজুর হাতে অপহৃত সালমা আকতার নূপুর

অপহৃত সালমা আকতার নূপুরের স্বামী আকতার হোসাইন চলতি বছরের ৩মার্চ অনলাইন পোর্টাল coxsbazarnews.com এ বলেন, “২০১৮ সালের ৮ মার্চ নানা প্রলোভনে ফেলে আমার স্ত্রী নূপুরকে অপহরণ করে নিয়ে আসে কক্সবাজার শহরের বাহারছড়ার আব্দুস সবুরের পুত্র রাজু। সাথে আমার মেয়েটিকেও নিয়ে আসে। আসার সময় নূপুর আমার ব্যবসায়িক ৩ লাখ টাকা ও ২ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে আসে। আমি আমার স্ত্রী ও কন্যাকে কত খোঁজা খুঁজেছি কিন্তু তাদের হদিস পাইনি।

মাস কয়েক পর একদিন হঠাৎ নূপুর আমাকে ০১৮১৬-৪৮৪৬৯৫ নাম্বার থেকে কল দেয়। পরে খবর নিয়ে জানতে পারি আমার স্ত্রী নূপুর কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকার আব্দুস সবুরের ছেলে কাজী জাফর সাদেক রাজুর জিম্মিদশায় রয়েছে।আরো জানতে পারি ৪/৫ মাস আগে রাজু ইয়াবাসহ কক্সবাজার বিমানবন্দরে ধরা পড়েছিল।

আমার ধারণা, ইয়াবা পাচারের বদৌলতে রাজু গাজীপুরে যেত। সেখানে কোন না কোন মাধ্যমে আমার স্ত্রীর সাথে তার পরিচয় ঘটেজ। পরিচয় থেকেই তাকে ফাঁদে ফেলে অপহরণ করে কক্সবাজারে নিয়ে আসে রাজু।”

জব্দকৃত মোটর সাইকেল

এদিকে কুখ্যাত মাদক সম্রাট কাজী জাফর সাদেক রাজুর গ্রেপ্তারের খবরে স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলেছে স্থানীয় সচেতন মানুষ।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply