কক্সবাজার শহরের হাসপাতাল সড়ক ও তৎসংলগ্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা বৃদ্ধি, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

মোহাম্মদ আব্দুল গফুর:

সরকার দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কক্সবাজার শহরের হাসপাতাল সড়ক ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ইদানীং কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এসমস্ত এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও নির্মাণাধীন ভবন থেকে চাঁদা দাবী এবং চাঁদা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।

কক্সবাজার শহরের ব্যস্ততম খানাকাহ রোডে অবস্থিত জেনারেল হাসপাতালের পেছনের গলি (হাসান কলোনি) ও তার পার্শ্ববর্তী মহল্লাগুলোর বেকার, নেশাগ্রস্ত এবং উচ্ছৃঙ্খল কিশোরেরা এ অপরাধ কর্মে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে বলে গোপন সুত্রে জানা গেছে। এমনকি শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘাপটি মেরে থাকা বখাটে রোহিঙ্গাদের দলে টেনে দল ভারি করে তাদের ব্যবহার করে উক্ত এলাকাগুলোর কিশোর গ্যাং লিডারেরা নিজেদের অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।


প্রশাসনের চলমান অভিযানের পরও এসমস্ত এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের লিডাররা রয়ে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারো নেই। এদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তার উপর চলে অবর্ণনীয় নির্যাতন।

শহরের অন্যান্য এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সাথেও এদের রয়েছে নিবিড় যোগাযোগ। এদের অনেকেই চাঁদাবাজি ও ইয়াবা বব্যবসার মাধ্যমে রাতারাতি ‘আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ’ হয়ে উঠেছে। পুলিশের চলমান অভিযানের কারণে শহরের কতিপয় শীর্ষ সন্ত্রাসী গা ঢাকা দিলে ও তাদের অবর্তমানে এই কিশোর গ্যাংরাই এখন হাসপাতাল সড়ক, কেন্দ্রীয় ঈদগাঁহ ময়দান, সার্কিট হাউজ সড়ক, গোলদীঘির পাড় ও মোহাজের পাড়া এলাকায় ঘাপটি মেরে বসে অপরাধকর্ম নিয়ন্ত্রণ করছে। এদের মধ্যে কয়েকজন ঠিকাদারি নামে পর্দার আড়ালে চালিয়ে যাচ্ছে নীরব চাঁদাবাজি ও ইয়াবার রমরমা কারবার। সুযোগ পেলেই এরা ছিনিয়ে নেয় মানুষের সর্বস্ব।
কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা হাসপাতাল সড়ক, কেন্দ্রীয় ঈদগাঁহ ময়দান ও গোলদীঘির পাড়ে অবস্থান নিয়ে স্কুলে যাতায়াতরত ছাত্রীদের প্রতি নানারকম অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে অশ্লীল বাক্য ছুড়ে দেয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এসব কিশোর গ্যাংয়ের অধিকাংশ সদস্য ইয়াবা, ফেনসিডিল, মদ ও গাঁজাসহ নানা ধরনের নেশায় আসক্ত। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে হারহামেশা চুরি, চাঁদাবাজি ছিনতাইসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়।

নানা ধরনের অপকর্মে জড়িত এসব কিশোর গ্যাংকে সমূলে উৎপাটন করে একটু শান্তিতে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আকুতি জানিয়েছেন স্থানীয় জনসাধারণ।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply