কক্সবাজার শহরে ভাড়া নিয়ে চলছে লাগামহীন নৈরাজ্য!

অন্তর দে বিশাল,কক্সবাজার :-

কক্সবাজারে ভাড়ার নামে নৈরাজ্য চালাচ্ছে কক্সবাজার শহর ও শহরতলিতে চলাচলরত হাজার হাজার টমটম- ইজিবাইকের চালকরা।

দেশের বড় বড় ও ব্যস্ততম শহর গুলোতে টমটম বা ইজি বাইক নিষিদ্ধ হলেও পর্যটন রাজধানী খ্যাত কক্সবাজর শহরে টমটমই এখন বিড়ম্বনার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখা দিয়েছে।

অন্য দিকে,
ভাঙ্গা-চোরা রাস্তা ও যানজটের অজুহাত দিয়ে অসাধু চালকরা ভাড়া নৈরাজ্য চালাচ্ছে পুরো শহর জুড়ে। ফলে ভরা পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারে আগত দেশি-বিদেশি পর্যটক, সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয়দের পথ চলতে পূর্ব নির্ধারিত ভাড়ার চাইতে অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হচ্ছে।
অসাধু চালকদের ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে সন্ত্রাসী প্রকৃতির চালকদের হাতে শারীরিক ভাবে নিগৃহীতের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজের শিকার হচ্ছে দেশি-বিদেশি পর্যটক ও সাধারণ যাত্রী। আবার অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ায় চালকদের উপর চড়াও হচ্ছে যাত্রীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,
কিছুদিন পূর্বে ও টার্মিনাল থেকে ভোলাবাবুর পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত ভাড়া দশ টাকা হলেও এখন পিটিআই স্কুল সংলগ্ন রাস্তাটি উন্নয়ন কাজের জন্য সাময়িক বন্ধ করে দেওয়ায় ভাড়া তারা ঠিক করেছে টার্মিনাল হতে হাশেমিয়া মাদ্রাসা পর্যন্ত দশ টাকা আবার খুরুস্কুল রাস্তার মাথা থেকে ভোলাবাবুর পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত ভাড়া দশ টাকা। উল্টো হাশেমিয়া মাদ্রাসা থেকে কলেজ গেইট গেলে গুনতে হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা।
যার কারনে সাধারণ যাত্রীরা পূর্বের ভাড়ার দিগুন গুনতে বাধ্য হচ্ছে। ভাড়ার লিস্ট চাওয়া হলে টমটম বা ইজি বাইক চালকরা উল্টো ধমক দেয় যাত্রীদের। এছাড়া কক্সবাজার শহরের মধ্যেই যেখান থেকে উঠুক না কেন উঠানামা বিনা নোটিশে দশ টাকা নির্ধারণ করেছে চালকরা।
কলাতলী থেকে বার্মিজ মার্কেট পযর্ন্ত রিজার্ভ ভাড়ার নামে পর্যটকদের নিকট থেকে অধিক ভাড়া আদায়ের ঘটনা নিত্যনৈমত্তিক।
অতিরিক্ত ইচ্ছে মত ভাড়া আদায়,সাধারণ যাত্রী ও পর্যটকদের সাথে চালকদের এই নিয়ে বাকবিতন্ড লাগামহীন হয়ে পড়েছে টমটম চালক বা ইজিবাইকের চালকরা।

যার ফলে নিত্য-দিন কক্সবাজার সদরের ঝিলংজার বাংলাবাজার, লিংকরোড়, কলেজ গেইট, সদর উপজেলা গেইট বাজার, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও তার আশ-পাশ এলাকা, কক্সবাজার শহরের
কলাতলির হোটেল- মোটেল জোন, লাবনী পয়েন্ট,শহরের প্রধান সড়কে, বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় এ ভাড়া নৈরাজ্য চলছে অদক্ষ ও লাগামহীন চালকরা।
এসব দেখ-ভাল করার দায়িত্বে যারা রয়েছে তাদের কার্যকর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কক্সবাজারের সাধারণ যাত্রী ও দেশবিদেশ থেকে ঘুরতে আসা পর্যটকরা।

সরকারি কলেজের ছাত্রী ডেজি দে বলেন,আমরা বার্মিজ মার্কেট থেকে কলেজে আসতাম ১০ টাকা করে,এখন বার্মিজ মার্কেট থেকে রাস্তার মাথায় ১০ টাকা,হাসেমিয়া মাদ্রাসা থেকে কলেজ গেইট ১৫ থেকে ২০ করে চালাকরা নিয়ে নিচ্ছে। যেখানে আসা যাওয়া ২০ টাকা খরচ হতো ঐ জায়গায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা খরচ হচ্ছে।

ঢাকা উত্তরা থেকে আগত পযর্টক সৌরভ আহমদ বলেন,গত বছর আসছিলাম ভাড়া ছিলো এইবারের চেয়ে অর্ধেক। কিন্তু এইভাবে কলাতলী থেকে বার্মিজ মার্কেট রিজার্ভ আসলাম ভাড়া দিতে হয়েছে ২০০ টাকা।

আলি জাহাঁল এলাকার আব্দুল কাদের বলেন, একসময় বাজার ঘাটা যেতাম ১০ টাকা দিয়ে আর এখন তার দ্বিগুণ গুনতে হচ্ছে। সেইসাথে আসা যাওয়া দ্বিগুণ কোন প্রতিবাদ করলে উল্টো খারাপ আচারন করে।

এনিয়ে কক্সবাজার পৌর প্যানেল মেয়র হেলাল উদ্দিন জানান, ভাড়া নির্ধারন করা আছে। তবে কোন চালক যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া নেন তা যদি কোন যাত্রী অভিযোগ করে তাইলে অবশ্যই পৌরসভা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply