কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন: লাখো হিন্দু ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীর পদভারে মুখরিত সমুদ্র সৈকত।

মো: আব্দুল গফুর, কক্সবাজার:

বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারেও চলছে প্রতিমা বিসর্জন। লাখো পুণ্যার্থীর পাশাপাশি দেশি বিদেশী পর্যটকেরা এ প্রতিমা বিসর্জন দেখতে ভিড় করেছে সমুদ্রে সৈকতে।
অদ্য মঙ্গলবার (০৮, অক্টোবর) দুপুর ২টার পর থেকে শঙ্খ ও উলুধ্বনি দিয়ে মর্ত্যলোকে আসা দুর্গতিনাশিনী মা দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন শুর হয়। কক্সবাজার শহর এলাকাসহ পাশ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলা থেকে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে নেচে গেয়ে ট্রাকবাহী প্রতিমা নিয়ে আসে ভক্তরা।

রামু কেন্দ্রীয় কালি মন্দিরের পুরোহিত সুবীর ব্রাহ্মণ চৌধুরির ভাষ্যমতে, দুর্গতিনাশিনী মা দেবী দুর্গা এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যলোকে বা বাপের বাড়ি এসেছেন এবং কৈলাসে বা শ্বশুর বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন ঘোটকে (ঘোড়ায়) চেপে। এ কারণে সামনের দিনগুলোতে ঝড় ঝাপটার আশঙ্কা আছে।

৫ দিন ধরে নানান উৎসবমূখর পরিবেশে থাকা ভক্তদের মধ্যে অনেকে অশ্রুসিক্ত নয়নে মা দুর্গাকে বিদায় দিচ্ছেন। সুখ ও আনন্দ নিযে পূনরায় আগামী বছর ফিরে আসার মানসে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্যমতে, কক্সবাজার জেলায় এবার ১৪১টি প্রতিমা ও ১৫৫টি ঘটপূজাসহ ২৯৬টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরমধ্যে কক্সবাজার সদরে কক্সবাজার পৌরসভাসহ) ৪৫টি প্রতিমা, ৩৯টি ঘট, চকরিয়া উপজেলায় (পৌর এলাকাসহ) ৪৪টি প্রতিমা ও ৩৭টি ঘট, রামু উপজেলায় ১৯টি প্রতিমা ও ১১টি ঘট, উখিয়া উপজেলায় ৪টি প্রতিমা ও ৮টি ঘট, টেকনাফ উপজেলায় ৫টি প্রতিমা, কুতুবদিয়া উপজেলায় ১২টি প্রতিমা ও ২৮টি ঘট, মহেশখালী উপজেলায় ১টি প্রতিমা ও ৩১টি ঘট পুজা এবং পেকুয়া উপজেলায় ৬টি প্রতিমা ও ৭টি ঘট পূজা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কক্সবাজার জেলার শাখার তত্বাবধানে এ প্রতিমা বিসর্জন চলছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের সদস্যরা প্রতিমা বিসর্জনের সার্বিক দায়িত্ব পালন করছেন।
এর আগে সকালে বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে কক্সবাজারে জেলার বিভিন্ন মণ্ডপে মণ্ডপে অঞ্জলি, পূজা আরতি এবং ঢাকের তালে মা দুর্গাকে বিদায় জানাতে ভিড় করেন ভক্তরা। মণ্ডপে সিঁদুর খেলায়ও মেতে ওঠেন নারী পুণ্যার্থীরা।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply