কক্সবাজার সৈকতে ভেসে এল মৃত ‘পরপয়েস’

মোঃ আব্দুল গফুর:

টেকনাফে মৃত তিমি ভেসে আসার চার দিনের মাথায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে এবার ভেসে এলো নাড়িভুঁড়ি বের হওয়া একটি মৃত ‘পরপয়েস’, যাদের ডলফিন জাতীয় প্রাণী বলছেন সমুদ্র বিজ্ঞান সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার সৈকতের শৈবাল পয়েন্টের বালিয়াড়িতে জলচর স্তন্যপায়ী এই প্রাণীটিকে দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়রা এটিকে ডলফিন বললেও সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আশরাফুল হক জানিয়েছেন, এটি দেখতে ডলফিনের মতো হলেও তা নয়; ডলফিন জাতীয় স্তন্যপায়ী ‘পরপয়েস’।

ডলফিনের লম্বা নাক, বড় মুখ, এবং পিঠে লম্বা ও বাঁকানো ডানার মতো অঙ্গ থাকে। কিন্তু পরপয়েসের নাক ভোঁতা হয়, মুখ ডলফিনের তুলনায় ছোট হয় এবং পিঠের উপর ডানা কোনো কোনোটির থাকে না, থাকলেও হয় ছোট।  

এর আগে গত সোমবার (২৭ জুন) কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ সৈকতের গোলারচর পয়েন্টে একটি মৃত তিমিটি পাওয়া যায়।

তিমিটির পিঠের চামড়া কয়েক জায়গায় উঠে গেলেও সেগুলো আঘাতের চিহ্ন নয় বলে ধারণা প্রত্যক্ষদর্শীরা।

তবে পরপয়েসটির দেহে আঘাত চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ দ্য নেচার অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আ ন ম মোয়াজ্জেম হোসেন

তিনি মিডিয়াকর্মীদের বলেন, “আঘাতের কারণে ডলফিনটির (পরপয়েস) নাড়িভুড়ি বের হয়ে গেছে।”

তার ধারণা, মৃত্যুর পরপরই এটি ভেসে আসে।

কক্সবাজার সৈকতে ভেসে আসা মৃত ডলফিন

“সাগরে মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ হলেও কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্টদের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন পয়েন্টে দিয়ে কিছু ট্রলারকে সাগরে মাছ ধরতে যেতে দেখা গেছে। হয়ত এসব ট্রলারে সঙ্গে ধাক্কা লেগে অথবা জেলেদের জালে আটকা পড়ে ডলফিনটির মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরাও ইচ্ছে করে ডলফিনটি মেরে ফেলতে পারে। “

কক্সবাজার শহরের সমিতি পাড়ার বাসিন্দা আব্দুর সবুর গোলাপ বলেন, বুধবার বিকালে সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে একটি মৃত ‘ডলফিন’ ভেসে আসতে দেখে পরিবেশবাদী সংগঠনে খবর পাঠান তিনি।

এদিকে সেভ দ্য ন্যাচার অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আন.ন.ম মোয়াজ্জেম হোসেন মিডিয়াকে জানান, চলতি বছর জানুয়ারি মাস থেকে গত পাঁচ মাসে বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন পয়েন্টের সৈকতে এ পর্যন্ত ১৬টি মৃত ডলফিন ও ১টি তিমির মৃতদেহ কক্সবাজার সৈকতে ভেসে আসার তথ্য রয়েছে। এগুলোর বেশির ভাগেরই দেহে ক্ষত ও আঘাতের চিহ্ন ছিল।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply