কঠিন বিপদের মুখোমুখি বাংলাদেশ

সিবিএল২৪ :

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের যেসব দেশ সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে তার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৬ষ্ঠহ।

         ২০৮০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৬৫ সে. মি. বাড়লে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ৪০ শতাংশ ফসলি জমি হারিয়ে যাবে। এ ছাড়া তাপদাহ ও খরার পরিমাণ বাড়বে। ১০ শতাংশ ধানের জমি এবং ৩০ শতাংশ গমের জমি হ্রাস পাবে। জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংস হবে, রোগ-ব্যাধির বৃদ্ধি ঘটবে। বাংলাদেশ নাতিশীতোষ্ণ তাপমাত্রার দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও গত কয়েক বছরে তাপমাত্রার অস্বাভাবিক আচরণ সেই পরিচিতিকে ম্লান করেছে।

            WWF-এর গবেষণায় দেখা যায়, শুধু ঢাকা শহরে ১৯৯৫ সালের মে মাসের তুলনায় ২০০৯ সালের নভেম্বর মাসের তাপমাত্রা বেড়েছে ১.৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০১৬ সাল ছিল শতাব্দীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রার বছর। এ বছরের গড় তাপমাত্রা ছিল ১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সূত্রমতে- ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের তাপমাত্রা গড়ে ১.৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ২১০০ সাল নাগাদ ২.৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশের সামনে কঠিন বিপদ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের বিরাট সংখ্যক মানুষ বিপদের মুখে পড়তে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা অনেক আগে থেকেই বিষয়টি বলে আসছিল। তবে তাদের ধারনার চেয়েও দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশ এই বিপদের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

বাংলাদেশের চার কোটি মানুষ ২০৫০ সালের মধ্যেই সমুদ্রের নোনাপানির ঝুঁকিতে পড়বে। আর চলতি শতাব্দীর মধ্যে ক্ষতির শিকার হওয়া মানুষের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় সাত কোটি।

২০৮০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৬৫ সে. মি. বাড়লে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ৪০ শতাংশ ফসলি জমি হারিয়ে যাবে। এ ছাড়া তাপদাহ ও খরার পরিমাণ বাড়বে। ১০ শতাংশ ধানের জমি এবং ৩০ শতাংশ গমের জমি হ্রাস পাবে। জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংস হবে, রোগ-ব্যাধির বৃদ্ধি ঘটবে। বাংলাদেশ নাতিশীতোষ্ণ তাপমাত্রার দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও গত কয়েক বছরে তাপমাত্রার অস্বাভাবিক আচরণ সেই পরিচিতিকে ম্লান করেছে।

২৯ অক্টোবর, মঙ্গলবার বিশ্বের প্রভাবশালী বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার কমিউনিকেশনে এ বিষয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশ নিয়ে এ ভয়াবহ খবর তুলে ধরা হয়েছে।

‘ক্লাইমেট সেন্ট্রাল’ নামের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার ফলে বিশ্বের উপকূলীয় দেশ ও দ্বীপরাষ্ট্রগুলোতে প্রভাব পড়বে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে উপকূলীয় এলাকা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কম। মূল ঝুঁকি নদীর লবণাক্ততা। বাড়বে ঘূর্ণিঝড়ের মাত্রাও।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply