করোনাভাইরাসের নতুন নাম দিলো চীন

[ad_1]

চীনে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত ৮১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৩৭ হাজার ১৯৮ জন। এছাড়াও চীনের বাহিরে প্রায় ২৫ দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বব্যাপী ঘোষণা করেছে জরুরী অবস্থা। এমতাবস্থায় ভাইরাসটির নতুন নামকরণ করেছে চীন।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটিকে ‘নভেল করোনাভাইরাস নিউমোনিয়া’ বা এনসিপি নাম দেয়া হয়। ৭ ফেব্রুয়ারি, শনিবার চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। এমন খবর করেছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সাময়িক সময়ের জন্য এই ভাইরাসের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে বলে ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। কারণ নামটি বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত নয়। যদিও এ ভাইরাসটি চূড়ান্ত নাম কবে ঘোষণা করা হবে, এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানায়নি চীনের স্বাস্থ্য কমিশন।

প্রসঙ্গত, মহামারী রূপ ধারণ করতে যাওয়া ভাইরাসটির যথাযথ নাম দেয়া হয়নি এখনো। ভাইরাসটি নতুন বলে অনেকে একে ‘নভেল করোনা’ বলে ডাকছেন। একটি সাময়িকীতে একে ‘২০১৯-এনকভ’ নাম দেয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিক নাম না থাকায় অনেকেই একে চায়না ভাইরাস বলে ডাকছে।

কিন্তু এগুলোর কোনোটিই ভাইরাসটির প্রকৃত নাম নয়। মূলত করোনাভাইরাস পরিবারের সদস্য বলে একেও এই নামে ডাকা হচ্ছে।

ভাইরোলজিস্টরা জানান, ঠাণ্ডাজনিত অসুখের যে কোনো ভাইরাসের নামই করোনাভাইরাস। যে কারণে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের একটি উপযুক্ত নাম দিতে আলোচনা করে যাচ্ছে একদল বিজ্ঞানী। ভাইরাসটির উৎপত্তি, বৈশিষ্ট্য ও মানবদেহে আচরণ নিয়ে গবেষণা চালিয়েই যথার্থ নাম দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা।

এ বিষয়ে  জনস হপকিন্স সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটির সহকারী অধ্যাপক ক্রিস্টাল ওয়াটসন জানান, ‘খুব শিগগির ভাইরাসটির নাম ঘোষণা হতে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যের ওপর কি ধরনের প্রভাব ফেলছে সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাইরাসটির সঠিক নামকরণ হবে।’

করোনাভাইরাস নাম হওয়ার কারণ সম্পর্কে অধ্যাপক ক্রিস্টাল ওয়াটসন বলেন, ‘অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে দেখলে ভাইরাসটির মাথায় মুকুটের মতো স্পাইক বা কাটা দেখা যায়। দেখে মনে হয় যেন রাজমুকুটের ওপর থরে থরে অনেক দণ্ড সাজানো রয়েছে। তাই এদের করোনাভাইরাস নামকরণ করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, প্রাচীন গ্রিক শব্দ করোন থেকে সপ্তদশ শতকের দিকে লাতিন ভাষায় করোনা শব্দটির আগমন ঘটে। এর অর্থ ফুলের মুকুট। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) সুপারিশকৃত নাম ২০১৯-এনকভের বিষয়ে তিনি বলেন, এ নাম চূড়ান্ত নয়। আর চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের কাছে এ নাম গ্রহণযোগ্যও নয়।

ওই নামটি হওয়ার বিষয়ে ক্রিস্টাল ওয়াটসন বলেন, ভাইরাসটির উৎপত্তি ২০১৯ সালে। এটি করোনাভাইরাস পরিবারের নতুন, তাই একে নভেল বলা হচ্ছে। সব মিলিয়ে উৎপত্তির সাল, নভেলের ‘এন’ ও করোনাভাইরাসের ‘কভ’ মিলিয়ে নাম দেয়া হয়েছে ২০১৯ এনকভ।

ভাইরাসটির নাম নির্ধারণ করা দলের সদস্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক বেঞ্জামিন নিউম্যান জানান, ‘দুই সপ্তাহ ধরে আলোচনার পর একটি নামের বিষয়ে তারা ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। নামটি প্রকাশের জন্য একটি বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নালে জমা দেয়া হয়েছে। বিষয়টি আরো পর্যালোচনার পর আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ভাইরাসের নাম ঘোষণা করা হবে।’

বাংলা/এনএস



[ad_2]

Source link

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply