করোনায় আক্রান্ত ৯০ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডি: গবেষণা

চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের ৯০ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের একদল চিকিৎসক। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হয়ে ২০২১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সাত মাস ধরে পরিচালিত এক গবেষণায় তারা এমন তথ্য পেয়েছেন।

গবেষণায় পাওয়া যায়, গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ’র শরীরে অ্যান্টিবডির উপস্থিতি রয়েছে। বিশেষভাবে আরটিপিসিআর পজিটিভ রোগীদের প্রায় ৯০ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডি পাওয়া গিয়েছে। এছাডাও পিসিআর মেশিনে নেগেটিভ হয়েছেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ২৬ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে।

শনিবার (৮ মে) দুপুরে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আসিফ খান।

আসিফ খান বলেন, কোভিড-১৯ আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত রোগীদের শরীরে কোভিড-১৯ বিরোধী অ্যান্টিবডির উপস্থিতি ও এর স্থায়িত্ব অনুসন্ধান করার উদ্দেশ্যে এ গবেষণা পরিচালিত হয়। একইসঙ্গে রোগীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, কোভিড আক্রান্ত হওয়ার সময় তাদের মধ্যে কী কী উপসর্গ বিদ্যমান ছিল এবং কোভিড থেকে সুস্থ হওয়ার পরও দীর্ঘমেয়াদি কোনও জটিলতা রয়ে গেছে কিনা এসব তথ্য জানাই ছিল এ গবেষণার অন্যতম উদ্দেশ্য।

গবেষণায় দৈবচয়ন ভিত্তিতে চট্টগ্রামের ১ হাজার ৫৩০ জন (আরটি-পিসিআর পজিটিভ-৯৪১ ও নেগেটিভ-৫৮৯) ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় জানিয়ে তিনি আরও বলেন, গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অধিকাংশ পুরুষ (৭৫ শতাংশ) এবং চাকুরিজীবী (৭০ শতাংশ)। কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার পর তাদের প্রধান লক্ষণগুলো ছিল জ্বর (৯২ শতাংশ), কাশি (৬৩ শতাংশ), ঘ্রাণশক্তি লোপ (৫২ শতাংশ)। এছাড়াও গলাব্যথা, মাথাব্যথা, পাতলা পায়খানা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি উপসর্গ দেখা গিয়েছে। আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর অনেকেই আগে থেকে ডায়াবেটিস (১৫ শতাংশ), উচ্চ রক্তচাপ (২৩ শতাংশ), শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা (৯ শতাংশ), হৃদরোগ ইত্যাদি দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ছিল। কোভিড থেকে সুস্থ হওয়ার পরে তাদের প্রায় ৫৭ শতাংশের কোনও না কোনও উপসর্গ দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান ছিল।

আসিফ খান বলেন, গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৫ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বিশেষভাবে আরটি-পিসিআর পজিটিভ রোগীদের প্রায় ৯০ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডি পাওয়া গিয়েছে। এছাডাও আরটি-িপিসিআর নেগেটিভ এমন ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ২৬ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

‘চট্টগ্রামে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের শরীরে অ্যান্টিবডির উপস্থিতি’ শিরোনামের এই গবেষণায় নেতৃত্ব দেন জেনারেল হাসপাতালের কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) ডা. মো. আব্দুর রব।

তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে কোভিড রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছি। কোভিড-১৯ কে আরও বিশদভাবে জানার জন্য রোগীদের লক্ষণ, সেরে ওঠার পর দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা এবং অ্যান্টিবডির উপস্থিতি নিয়ে এই গবেষণা অত্যন্ত সময়োপযোগী। আমাদের জানা মতে জেলা পর্যায়ের কোনও হাসপাতালে নিজস্ব উদ্যোগে পরিচালিত গবেষণার এটিই প্রথম উদাহরণ। আমরা আশা করি, আমাদের এই উদ্যোগ চিকিৎসা ক্ষেত্রে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত গবেষণা কর্মকে উৎসাহিত করবে।

জেলা সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন হাসপাতালের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর ও  বিএমএ সভাপতি অধ্যাপক ডা. মুজিবুল হক খান।

খবর: বাংলা ট্রিবিউন

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply