করোনা উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ৩৩ জনের মৃত্যু

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ১৫ জন মারা গেছেন। এদের মধ্যে চারজনের করোনা পজিটিভ ছিল। বাকি ১১ জন করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্টের মতো করোনা উপসর্গ নিয়ে আরও ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।সব মিলে করোনা উপসর্গ নিয়ে গতকাল মোট ৩৩ জন মারা গেছেন।

এর মধ্যে পিরোজপুরে একজন, চাঁদপুরে তিনজন, ঝালকাঠিতে দুইজন, বরিশালে চারজন, সাতক্ষীরায় দুইজন, রাজশাহীতে চারজন, কুমিল্লায় চারজন, গাজীপুরে একজন ও পাবনায় একজন মারা যান। সংশ্লিষ্টদের বাড়িঘরও লকডাউন করেছে প্রশাসন। করোনা সন্দেহে পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করাও হচ্ছে। অনেকই হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেলে ১৫ জনের মৃত্যু : ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মঙ্গলবার বিকাল থেকে গতকাল বুধবার বিকাল পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে চারজন করোনা পজিটিভ।

তারা হলেন-বেল্লাল হোসেন (৫২), আবদুর রহমান (৮৫), তপন কৈরী (৬০), মো. জাকির হোসেন (৬০)। এ ছাড়া ১১ জন করোনা উপসর্গ নিয়ে গেছেন। তারা হলেন, মাসুদুর রহমান (৪৭), রওশন আলী (৬৫), রুহানা ইসলাম (৫৬), মমতাজ বেগম (৭০), রাখাল চন্দ্র নাথ (৫০), দেলোয়ার হোসেন (৪০), সত্য মন্ডল (৫৫), আফসার আলী (৬৮), জাহিদ হোসেন (৬৮), মিয়াজউদ্দিন (৭০) ও নুরুল ইসলাম (৭২)।

জেলায় জেলায় ২২ জনের মৃত্যু : আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যানুযায়ী- পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার পশারিবুনিয়া গ্রামের আবুয়াল আহসান মালকার (৬২) নামের অবসরপ্রাপ্ত এক শিক্ষক করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনি মারা যান। আবুয়াল আহসান মালকার উপজেলার পশারিবুনিয়া গ্রামের মৃত মো. জেন্নাত আলী মালকারের ছেলে। তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন। জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় এক ব্যবসায়ী (৫৫) ও এক গৃহবধূ (৫৩) মারা গেছেন। উপজেলার উপাদী উত্তর ইউনিয়নের একটি গ্রামে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টায় ওই গৃহবধূ এবং গতকাল বুধবার সকাল ৭টায় ওই ব্যবসায়ী তাদের বাড়িতে মারা যান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা হক বলেন, মারা যাওয়া ব্যবসায়ী ও গৃহবধূ সম্পর্কে দেবর-ভাবি

কয়েক দিন আগে হাসপাতালে গৃহবধূর অস্ত্রোপচার হয়েছিল। গৃহবধূ ও ব্যবসায়ী দুজনই পাঁচ-ছয় দিন ধরে জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টায় গৃহবধূটি মারা যান। এরপর বুধবার সকাল ৭টায় ওই ব্যবসায়ী মারা যান। এদিকে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে মারা গেছেন চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ ও মতলব উত্তর উপজেলার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আবদুল বারেক (৫৫)। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে গতকাল বুধবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ঝালকাঠির নলছিটিতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে মারা যাওয়া এই দুজন উপজেলার মেরহার ও তিমিরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে উপজেলার মেরহার গ্রামে চাঁনবরু বেগম (৬০) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়। তিনি আট দিন ধরে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। চাঁনবরু ওই গ্রামের মোছলেম মিস্ত্রির স্ত্রী। অন্যদিকে, সকালে উপজেলার তিমিরকাঠি গ্রামের জাকির হোসেন (৫৬) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তিনি অসুস্থ অবস্থায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানেই গতকাল সকালে তিনি মারা যান। বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিগত ২৪ ঘণ্টায় করোনা উপসর্গ নিয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে গতকাল দুপুর ২টার মধ্যে করোনা ওয়ার্ডে তাদের মৃত্যু হয়। তারা হলেন, উজিরপুরের সানুহার গ্রামের এক বৃদ্ধা (৬৫), পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর গাইনখালীর এক ব্যক্তি (৭০) ও ঝালকাঠীর নলছিটির তিমিরকাঠীর এক ব্যক্তি (৫৬)। এ ছাড়া জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হাবিবুর রহমান (৫৩) মারা গেছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। গতকাল বুধবার সকাল ৯টার দিকে তাকে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠি গ্রামে নিজ বাড়িতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফন করা হয়েছে। জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে তিন ঘণ্টার ব্যবধানে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। মৃত ব্যক্তিরা হলেন সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কুমিরা গ্রামের ইমান আলী (৫২) ও কলারোয়া উপজেলার আটুলিয়া গ্রামের দাউদ আলী (৫০)। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে চারজন মারা গেছেন। তারা হলেন, পাবনার সদর উপজেলার শালগাড়ী গ্রামের আলতাফ হোসেন (৬২), রাজশাহী নগরের বেলদারপাড়া এলাকার জিকরুল হক (৭০) ও নওগাঁ সদর উপজেলার জগেশ্বর কীর্তিপুর গ্রামের অনুকূল প্রামাণিক (৫০)। এই তিনজন গতকাল বুধবার সকাল থেকে বিকালের মধ্যে মারা যান। এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে থেকে ভোর মধ্যে মারা মারা গেছেন নাটোরের লালপুর উপজেলার নওপাড়া গ্রামের ওসমান মন্ডলের স্ত্রী আকলিমা বেগম (৭০)। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে চারজন মারা গেছেন। উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তিরা হলেন, জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আবদুল জলিল (৫০), আদর্শ সদর উপজেলার চৌধুরীপাড়া এলাকার মধুসূদন শীল (৯৫), হোমনা উপজেলার মাথাভাঙ্গা এলাকার দুলাল মিয়া (৬৫) ও দাউদকান্দি উপজেলার বেলানগর এলাকার রুসিয়া (৬৫)। গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার আলহাজ ধনাই বেপারী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন নাহীন (৪৪) করোনা উপসর্গ নিয়ে গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। পাবনায় করোনা উপসর্গ নিয়ে ইসমাইল হোসেন (৬০) নামের এক আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে করোনা উপসর্গ নিয়ে তিনি মারা গেছেন। আতাইকুলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন তিনি। ইউনিয়নের জোয়ারদহ গ্রামের নিজ বাড়িতেই মারা যান তিনি।

সূত্রঃ বিডি-প্রতিদিন

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply