করোনা নেগেটিভ হলেও দুশ্চিন্তা থেকেই যাচ্ছে

করোনা নেগেটিভ হলেও দুশ্চিন্তা থেকেই যাচ্ছে

অন্যসব বিষয়ে পজিটিভ রেজাল্ট আসা করলেও শুধুমাত্র করোনাভাইরাসের বিষয়ে নেগেটিভ রেজাল্ট প্রত্যাশা মানুষের। কারণ করোনা (কোভিড-১৯) পরীক্ষায় নেগেটিভ রেজাল্ট আসা মানেই যেন স্বস্তি। তবে এ আশায় আবার নিরাশার কথা জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। করোনা সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে যাওয়ার পরে রোগীদের একাংশের শারীরিক অবস্থার নতুন করে অবনতি, এমনকি মৃত্যুর ঘটনা রীতিমতো চিন্তায় ফেলে দিয়েছে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

করোনা রোগীদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, যেসব রোগীদের মৃদু উপসর্গ ছিল তারা সুস্থ হওয়ার বেশকিছু দিন পরে নানা জটিল শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। যেসব রোগীদের ভেন্টিলেশন বা অক্সিজেন দিতে হয়েছে, পরবর্তী সময়ে তাদের ফুসফুসে ক্ষতচিহ্ন দেখা যাচ্ছে। অনেকের ফুসফুসে ফাইব্রোসিস ধরা পড়েছে। এর ফলে ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ওই রোগীদের প্রবল শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, রোগীদের একাংশের শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ কমার প্রবণতা ধরা পড়ায় সুস্থ হয়ে ওঠার পরেও বাড়িতে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখতে হয়।

করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়ছে কিডনিতেও। স্কটল্যান্ডে কোভিড রোগীদের ওপরে করা একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, সংক্রমণের উপসর্গ যাদের প্রবল ছিল, তাদের প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশের পরবর্তী সময়ে কিডনিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। যারা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি হয়েছিলেন, তাদের অন্তত ৩০ শতাংশের পরে কিডনির গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়। অনেককে ডায়ালাইসিস করাতে হয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাদের সংক্রমণ গুরুতর, ভেন্টিলেটর বা আইসিইইউতে ছিলেন, তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে ফুসফুসে ক্ষত, রক্ত জমাট বাঁধা, কিডনির সমস্যার মতো বিষয়গুলো বেশি দেখা যাচ্ছে। মোট আক্রান্তের মধ্যে এদের সংখ্যা তিন থেকে পাঁচ শতাংশ।

দিল্লির এইমস হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক নীরাজ নিশ্চল বলেন, ‘যেসব রোগীরা ভেন্টিলেটরে ছিলেন, তাদেরই পরে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু সমস্যা হলো, যাদের মৃদু উপসর্গ ছিল, তাদেরও পরবর্তী সময়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে।’

করোনা সংক্রমণে একাধিক অঙ্গ বিকল হলে তবেই ভেন্টিলেটরের সাহায্য নেয়া হয়। এসব রোগীরা শারীরিকভাবে দুর্বল হওয়ায় তাদের পরবর্তী সময়ে অন্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে মৃদু উপসর্গদের কেন পরে শারীরিক জটিলতা দেয়া যাচ্ছে, সেই বিষয়টিই এখন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভাবাচ্ছে।

গুরুতর করোনা রোগীদের ক্ষেত্রে অন্যতম সমস্যা হলো রক্তবাহী নালিতে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়া। চিকিৎসকদের মতে, গুরুতর আক্রান্তদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের সময়ে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার বাড়ি যাওয়ার পরেও অনেকের ওই সমস্যা দেখা দিয়েছে। সেই কারণে উপসর্গ রয়েছে এমন রোগীদের শারীরিক অসুবিধা হলে শুরুতেই কো-অ্যাগুলেন্ট প্রোফাইল করে রক্তে কোনো অস্বভাবিকতা রয়েছে কি-না, তা পরীক্ষা করে দেয়া প্রয়োজন বলে পরামর্শ দিয়েছেন চিকিসকেরা। একই সঙ্গে, করোনা মুক্ত হওয়ার পরও পরামর্শ মেনে অন্তত চার থেকে ছয় দিন রক্ত তরল করার ওষুধ খেয়ে যাওয়ার পক্ষে মত তাদের।

এদিকে ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়ার মতো করোনাও শরীর দুর্বল করে দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ডেঙ্গু শয্যাশায়ী করে দেয় রোগীদের। চিকুনগুনিয়া রোগে দুর্বলতার সঙ্গে হাত-পাসহ শরীরের গাঁটে দীর্ঘদিন ব্যথা থাকে। চিকিৎসক নীরাজ নিশ্চল বলেন, ‘করোনার ক্ষেত্রেও অনেকেই অল্পে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। কাজ করার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলছেন। মনঃসংযোগ করতে পারছেন না। দু’সপ্তাহের বেশি হাসপাতাল বা ঘরবন্দি থাকায় মেজাজ হারানো ছাড়াও অনেকের অন্য মানসিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে।’ এমনটি হলে মনোবিদদের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

খবর: জগোনিউজ২৪

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply