কাগমারি সম্মেলন, রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট

[ad_1]

এক সময় মাওলানা ভাসানী আমার নানা বাড়িতে এসেছিলেন। আমার মা তখন ছোট। বলতে পারেন তখন থেকেই মাওলানার ভক্ত হয়ে উঠেছিলেন মা। পরবর্তীতে পরিণত বয়সে যোগ দেন ন্যাপ ভাসানীতে। আজ সেই মাওলানা ভাসানীর কাগমারি সম্মেলনের দিন। শুধু আমাদের দেশের নয়, এই উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এই দিনটি। দেশপ্রেমিক মানুষের জন্য এই দিনটির স্মরণ বড় জরুরি।

মাওলানার কাগমারি সম্মেলন ডাকার পেছনে অনেক কারণ ছিলো। বৈষম্যের বিরুদ্ধে তোলা আওয়াজের পেছনে লুকায়িত বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতার নির্ঘোষটা সেদিনই ঘোষিত হয়েছিলো। সেদিন নিশ্চিত করেছিলো আমাদের ভবিষ্যত কর্মপন্থা। তা থেকে সরে আসার ফলেই আমাদের এ যাবতকালের বিপর্যয়।  নিজ দলের সাথে তার মতদ্বৈততা আপোসকামী নেতৃত্ব আর দেশপ্রেমিকের মধ্যে স্পষ্টত পার্থক্য গড়ে দিয়েছিলো। যে পার্থক্যটা আজো দৃশ্যমান।

কাগমারি সম্মেলনে পাক-মার্কিন চুক্তির বিরোধীতা পার্থক্যটা মূলত স্পষ্ট করে দিয়েছিলো। সেই বিরোধীতা কতটা যুক্তিযুক্ত ছিলো তা নিয়ে এখন যদি কেউ নিরপেক্ষ আলাপ তোলেন, তাহলে বুঝতে পারবেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন অ্যামেরিকার ভূমিকার সমালোচনা যারা করেন, তারা একটু ভেবে দেখলে পাবেন, সে ভুলের গোড়া পত্তনটা ঘটেছিলো তখনই এবং তাদেরই অগ্রজদের দ্বারা।  

কাগমারি সম্মেলন কেনো প্রয়োজনীয় ছিলো সে সময় এবং এখনো সেই সম্মেলনের দর্শনটা কেনো প্রয়োজনীয় এটা বুঝতে যারা অক্ষম তাদের জন্য করুণা। একটি ঋজু পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলার পাথ ফাইন্ডার হলো কাগমারি সম্মেলন। আর কিভাবে ভয় আর লোভকে জয় করে সত্যিকার দেশ প্রেমিক হিসাবে শিরদাঁড়া সোজা করে পথ চলা যায়, তার গাইড হলেন মাওলানা ভাসানী। এমন গাইডের নির্দেশিত পথে হাটলে গন্তব্য পৌঁছানো অনেকটাই নিশ্চিত।

 

যার সর্বশেষ পরিণতিতে মাওলানাকে নিজ দল ত্যাগ করতে হয়। এই ত্যাগের আরেকটি কারণ হলো পূর্ববাঙলার স্বায়ত্বশাসনের প্রতি উনার অবিচল নিষ্ঠা। যা ছিলো প্রকারান্তরে স্বাধীনতার আলাপ। পশ্চিম পাকিস্তানিরা বিষয়টি বুঝতে পেরেই মাওলানার প্রতি চরম মনোভাব পোষণ করে। এসবের ফলশ্রুতিতেই তখন নতুন দল গঠন করা ছাড়া মাওলানার অন্য কোনো উপায়ও ছিলো না। কেনো ছিলো না, সেই আলাপ আরো বিস্তারিত, যা স্বল্প পরিসরে সম্ভব নয়।

তবে এই পরিসরে এটা দ্বিধাহীন জানানো যায়, কাগমারি সম্মেলন রাজনীতি এবং ইতিহাসের একটা বড় টার্নিং পয়েন্ট। যা আমাদের করণীয় নির্ধারিত করে দিয়েছিলো। যে করণীয় অনুসরণে আমাদের ভুল ছিলো, অমনোযোগিতা ছিলো, অবহেলা ছিলো। যার ফলাফলে আজ আমরা অবহেলার শিকার। আজও আমাদের পরাধীনতার আশঙ্কা ও চিন্তা রাজনীতির উপজীব্য।

লেখক : সাংবাদিক ও কলাম লেখক

বাংলা/এনএস



[ad_2]

Source link

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply