কোটিপতি পিয়নের সন্ধান পেলো দুদক

নোয়াখালী : নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পিয়ন ছিলেন আবুল কাশেম। পরে পদোন্নতি পেয়ে হয়েছেন তহশিলদার। এখন ১ কোটি ১১ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক তিনি।

এমন তথ্যের ভিত্ততে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধানে সত্যতা পওয়ায় আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে মামলার আর্জি জানানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাঠান সংস্থাটির নোয়াখালী কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সুবেল আহমেদ।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আবুল কাশেম ৬০০ নথি বন্দোবস্তের কথা বলে ৪০ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া ঢাকায় নিজ নামে ফ্ল্যাট, স্ত্রীর নামে জমিসহ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পত্তি গড়েছেন।

আবুল কাশেম নোয়াখালী জেলার হাতিয়ার শূন্যেরচরের মৃত মোশাররফ হোসেন ছেলে। তিনি ১৯৮৯ সালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পিয়ন পদে চাকরি নেন। পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে জাহাজমারা ভূমি অফিসে তহশিলদার পদে কর্মরত রয়েছেন।

চাকরিজীবনে বেতন-ভাতা ও বোনাসসহ সব মিলিয়ে ২২ লাখ ৭৭ হাজার ১৩ টাকা আয় করার কথা আবুল কাশেমের। কিন্তু নোটিশ দেয়া হলে দুদকে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৭৪ হাজার ৭১৮ টাকার আর্থিক বিবরণী জমা দেন তিনি। আয়ের সঙ্গে এ হিসাব অসামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হলে বিষয়টি তদন্ত করা হয়।

পরে দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, আবুল কাশেমের ঢাকার তেজগাঁওয়ে ৭৭ লাখ টাকার ১১৩২ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, কেরানীগঞ্জের বাড্ডায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার ৫ কাঠা জমি, স্ত্রীর নামে হাতিয়ার জাহাজমারায় ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকার ৪০ শতাংশ জমি, সেখানে ৩০ লাখ টাকায় বাড়ি রয়েছে। এসব সম্পদ যে টাকায় গড়েছেন, তার বৈধ আয়ের উৎস জানাতে পারেননি তিনি।

এ বিষয়ে জানতে আবুল কাশেমের বোমাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তিনি নথি সরবরাহের টাকার ভাগ উপর মহল পর্যন্ত গেছে বলে দাবি করেন তার স্ত্রী কোহিনুর বেগম। তার প্রশ্ন, এখন সব দোষ কেন তার স্বামীকে দেয়া হচ্ছে?

এর আগে চলতি বছরের গত ৬ জানুয়ারি সম্পদের হিসাব চেয়ে আবুল কাশেম ও তার স্ত্রী কোহিনুর বেগমকেঢাকার সেগুনবাগিচা কার্যালয় থেকে নোটিশ দেয়া হয়।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply