গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা: কুষ্টিয়ার এসপি এসএম তানবীর আরাফাত

কুষ্টিয়া জেলা সংবাদ:

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের পরিবার জামায়াত-শিবিরের সাথে সম্পৃক্ততা আছে বলে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) এসএম তানভীর আরাফাতের বরাতে গণমাধ্যমে যে খবর বেরিয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন তিনি।

গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে যে, নিহত আবরারের ছোট ভাই ফায়াজকে পুলিশ মারধর করেছে। তবে এ বিষয়ে বুধবার সন্ধ্যায় এসপি বলেন, ‘এসব মিথ্যা কথা। এখানে সবাই উপস্থিত আছেন। এসব মিথ্যা প্রগাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে।’

গণমাধ্যমে আরো প্রকাশ পায়, বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কি ভিসির ওপর আক্রমণের কোনো চেষ্টা করেছিল? এমন প্রশ্নের জবাবে এসপি বলেন, ‘এলাকাবাসী না, ওদের ফ্যামিলি (পরিবার) জামায়াত-শিবিরের লোকজন। জামাতের লোকজন আক্রমণের চেষ্টা করেছিল।’

তবে বুধবার রাতে এসপি আরাফাত বলেন তিনি এমন বক্তব্য দেননি।

তিনি বলেন, ‘আমি এমন কথা কেন বলবো? আমাকে একজন ফোন করে জানতে চেয়েছিলো যে, বুয়েটের ভিসি যখন আবরারের কবর জিয়ারত করেন, তখন জামায়াত-শিবিরের লোকজন ছিলো কি না? উত্তরে আমি বলেছি যে, থাকতে পারে। কিন্তু এটা তার পরিবারের লোকজনের কথা না। ওখানে হাজার হাজার লোক ছিলো। এমন কথা আমি কেন বলবো? আমি এমন বক্তব্য দেইনি। বরং আমি আবরারের লাশ গাড়ি করে আনা, জানাযা ও দাফনের ব্যবস্থাসহ সকল প্রক্রিয়া খুব ভালভাবে মনিটরিং করে সম্পন্ন করেছি। তারপরও এভাবে আমাকে কোট করে ভুল সংবাদ প্রকাশ খুবই দুঃখজনক।’

এসপি আরও বলেন, ‘কিছু মহল এ ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বিভিন্ন ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে যে, পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসীর সংঘর্ষ হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

ঘটনাস্থলে কোনো পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে এসপি বলেন, ‘না কোনো সংঘর্ষের ঘটনাই ঘটেনি। চড়-থাপ্পড়দের ঘটনাও ঘটে নাই।’

এর আগে, বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন ও পুলিশের জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করেন।

ভিসির আসার খবর জানতে পেরে গ্রামবাসী আগে থেকেই নিহতের বাড়িতে ভিড় জমান। অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে এবং ভিসির নিরাপত্তার জন্য কুমারখালীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কবর জিয়ারত শেষে ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম নিহতের বাবা বরকত আলী ও পরিবারের অন্যান্যদের সান্ত্বনা দেন এবং সহানুভূতি প্রকাশ করনে।

তবে কবর জিয়ারত শেষে নিহত আবরারের মাকে সমবেদনা জানাতে তার বাড়ি উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম নিহত আবরার ফাহাদের ঢাকার জানাজায় উপস্থিত না হওয়ায় জনমনে গভীর ক্ষোভের সঞ্চয় হয়। এ সময় উত্তেজিত গ্রামবাসী উপাচার্যকে ঘিরে রেখে হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম পিছু হটতে বাধ্য হন। পরে জেলা প্রশাসকের গাড়িতে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। উপাচার্য চলে যাওয়ার পর পুলিশ উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

প্রসঙ্গত, বুয়েটের ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারকে (২১) গত রবিবার দিবাগত মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা হলের সিঁড়ি থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে বুয়েটের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মো. মাসুক এলাহি তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সোমবার রাতে বুয়েটের কেন্দ্রীয় মসজিদে প্রথম জানাজা শেষে আবরারের মরদেহ কুষ্টিয়ায় আনা হয়। মঙ্গলবার সকাল ৬টায় কুষ্টিয়া শহরের পিটিটিআই রোডস্থ নিজ বাড়িতে আবরারের মরদেহ পৌঁছালে সেখানে আল-হেরা জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৬টায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়ার কুমারখালীর উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে তৃতীয় জানাজা শেষে আবরার ফাহাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।

সুত্র: টোয়েন্টিফোর লাইভ নিউজপ্যাপার ডটকম

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply