গ্যাস সিলিন্ডার থেকে সাবধান

সিবিএল২৪ :

গ্যাস সিলিন্ডারে দুর্ঘটনা বা বিস্ফোরণ এখন রীতিমতো একটি আতঙ্কের নাম। এই ঘটনাটি আমাদের দেশে আজকাল প্রতিনিয়তই ঘটছে। দুর্ঘটনার ফলে জীবন দিতে হচ্ছে অসংখ্য নিরীহ মানুষের। অথচ আমাদের নির্দিষ্ট কিছু সতর্কতাই কিন্তু গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ভয়াবহতা থেকে আমাদের বাঁচাতে পারে। তবে সেই সতর্কতাগুলো আমাদের খুব একটা জানা থাকে না বলেই এত বেশি দুর্ঘটনা ঘটে প্রতিনিয়ত।

আপনার এবং আপনার পরিবারকে অবশ্যই অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে গ্যাস সিলিন্ডারের বিষয়ে। নইলে আপনার জীবনকে নির্বিঘ্ন করা এই জিনিসটি আপনার জন্য যথেষ্ট ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। তাই আপনার জন্য সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কবল থেকে মুক্তির জন্য থাকছে এই সতর্কতাগুলো-

১. গ্যাস সিলিন্ডারের সঙ্গে যে রাবার পাইপটি থাকে, সেটিতে ‘বিএসটিআই’ ছাপ থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু সেই সঙ্গে আরও একটি বিষয় খেয়াল রাখুন। গ্যাসের পাইপটি যেন দৈর্ঘ্যে এক থেকে দেড় ফুটের বেশি লম্বা না হয়। সেক্ষেত্রে পাইপ পরীক্ষার সময়ে অসুবিধা হতে পারে।

২. রেগুলেটরের নজেলটি যাতে পাইপ দিয়ে ভালো করে কভার করা থাকে সেটা লক্ষ্য রাখুন। গরম বার্নারের সঙ্গে যাতে গ্যাসের পাইপ কোনভাবে লেগে না থাকে এদিকেও নজর রাখতে হবে।

৩. পাইপটি নিয়মিত ভেজা কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করুন। কিন্তু ভুলেও সাবান পানি ব্যবহার করবেন না। কমপক্ষে ২ বছর পরপর অবশ্যই পাইপটি বদলে ফেলুন।

৪. পরিষ্কার রাখার জন্য গ্যাসের পাইপটিকে কোন রকমের কাপড় বা প্লাস্টিক জাতীয় জিনিস দিয়ে মুড়ে রাখবেন না। যদি পাইপটি মুরে রাখা হয় তাহলে পাইপটি ফেটে গেলে বা লিক হলে ধরা পড়বে না।

৫. গ্যাস লিক হচ্ছে বুঝতে পারলে বাড়ির কোনো ইলেকট্রিক অ্যাপ্লায়েন্স অন করবেন না। ওভেন, রেগুলেটর বন্ধ করে দরজা-জানালা খুলে দিন। এলপিজি সিলিন্ডারের রেগুলেটর বন্ধ করুন সঙ্গে সঙ্গেই।

৬. গ্যাস লিক করার পরে যদি কিছুক্ষণের মধ্যে গন্ধ আসা বন্ধ না হয়, তাহলে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের অফিস বা হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করুন। সিলিন্ডার থেকে রেগুলেটর আলাদা করে দিয়ে সিলিন্ডারের মুখে সেফটি ক্যাপও পরিয়ে দিতে পারেন।

৭. খালি সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের রেগুলেটর খোলার সময় আশপাশে কোনো মোমবাতি বা প্রদীপ জাতীয় জিনিস যাতে না জ্বলে, তাও খেয়াল রাখুন।

৮. একটি ঘরে দুটি সিলিন্ডার রাখার জন্য অন্তত ১০ বর্গফুট জায়গা থাকা জরুরি। এমন জায়গায় সিলিন্ডার রাখবেন না, যেখানে সহজেই তা অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে।

৯. সিলিন্ডারের ওপরে কখনোই কোনও কাপড়, বাসন ইত্যাদি রাখবেন না। গ্যাস সিলিন্ডার সোজা করে সঠিকভাবে রাখা খুব জরুরি। উঁচু-নিচু জায়গায় না রাখা ভালো। তাতে পড়ে যাওয়ার যেমন সম্ভাবনা থাকে, তেমনই অন্যান্য দুর্ঘটনাও ঘটে যেতে পারে। গ্যাস সিলিন্ডার কখনওই ফেলা বা ঘষা-টানা করা উচিত নয়।

১০. রান্না শেষে চুলা ও এলপিজি সিলিন্ডারের রেগুলেটরের সুইচ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। রান্না শুরু করার আধা ঘণ্টা আগে রান্নাঘরের দরজা-জানালা খুলে দিন। রান্নাঘরের উপরে ও নিচে ভেন্টিলেটর রাখুন।

১১.অনেকেরই বাড়িতে একটি বাড়তি ভর্তি সিলিন্ডার রাখা থাকে। একটি শেষ হলেই যাতে অন্যটি হাতের কাছে থাকে। ভর্তি সিলিন্ডার কখনই ঘরের মধ্যে রাখা উচিত নয়। খোলামেলা জায়গায় রাখুন, যেখানে ছায়া আছে। গ্যাস সিলিন্ডার থেকে তাপ দূরে রাখাই ভালো। অনেকে আবার বাড়িতে বড় গ্যাস থেকে ছোটো গ্যাস ভর্তি করেন। এমনটা বাড়িতে করা একেবারেই উচিত নয়। এতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply