গ্রেফতারকৃত কালারমারছড়ার তহসিলদার জয়নালের দূর্ণীতির যত আমলনামা

মোঃ এরফান হোছাইন, বার্তা সম্পাদক-সিবিএল২৪ঃ

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বজায় রাখতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাউকে ছাড় নয়, সবার আমলনামা আমার কাছে। তারই ধারাবাহিকতায় সারাদেশের ন্যায় দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে দুদক সহ সরকারের অন্যান্য বিভাগসমূহ। এছাড়াও চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সবার আমলনামা এখন তার কাছে। বিতর্কিত কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রী-এমপি সহ বিভিন্ন আমলাদের দূর্ণীতির বিরুদ্ধেও অ্যাকশন শুরু করেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারী) দুপুর ১২ টার দিকে চট্টগ্রামের জিইসি মোড় এলাকা থেকে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনকে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গ্রেফতারকৃত আসামী মোহাম্মদ জয়নাল আবদেীন কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী র্কমর্কতা। তার পিতার নাম নুর মাহোম্মদ ও মাতার নাম মরিয়ম খাতুন। তার স্থায়ী ঠিকানা কক্সবাজার জেলার পৌরসভা আওতাধীন ৪ নং ওয়ার্ডের পূর্ব পেশকারপাড়া ও বাড়ি নং-৭৮৪/৮৫। জাতীয় পরচিয় পত্র নং-৩২৬৫৭১৬২৭৮ ও টি আই এন নং-৭৭৪১৮৫২৩০০৫৬ ।
সিবিএল২৪ এর প্রতিনিধিকে দেওয়া মামলার তদন্তকারী র্কমর্কতার সুত্রমতে,

আলােচ্য মামলার তদন্তকালে গত ১৮/০২/২০২০ ইং তারিখ র‌্যাব কক্সবাজার কমান্ডিং অফিস কর্তৃক কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার বিভিন্ন প্রকল্পের চলমান ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাঝখান থেকে যে ঘুষ বা অবৈধ লেনদেন হতাে সেই অবৈধ লেনদেনের টাকা সহ র‍্যাব কক্সবাজার ভূমি অগ্ৰিহণ অফিসের ওয়াসিম উদ্দিন নামে একজন সার্ভেয়ারকে ৯৩ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকা সহ গ্রেফতার করেন। উক্ত টাকা উদ্ধারের পর দুদকের পক্ষ গত ১০/০৩/২০২০ ইং তারিখ ৩ জন সার্ভেয়ারকে সুনিদিষ্ট আসামী করে অজ্ঞাত নামা আরাে ৬/৭ জন আসামী করে মামলা দায়ের করে। মামলা দায়ের করার পর তদন্তের শুরুতে ভূমি অধিগ্রহণ শাখার অবৈধ লেনদেনের সাথে জড়িত এই রকম তিনজন দালালকে গত ২২/০৭/২০২০ ইং তারিখ সেলিম উল্লাহ, ০৩/০৮/২০২০ ইং তারিখ মােঃ সালাহ উদ্দিন ও কমর উদ্দিনকে গ্রেফতার করতে স্বক্ষম হয়।

জয়নাল তহসিলদার

উক্ত তিনজন দালাল সহ ইতিপূর্বে গ্রেফতারকৃত আসামী সার্ভেয়ার ওয়াসিম উদ্দিনকে ৭ দিন এর রিমান্ডে এনে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন রেকর্ড/তথ্য পায় এবং উক্ত তিন জন দালালসহ সার্ভেয়ার ওয়াসীমসহ চার (০৪) জনই ফো, কা. ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারােক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন। আসামী মােঃ জয়নাল আবেদিন সরকারি কর্মচারি হয়েও নিজের নামে তার কর্মস্থলে বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট হতে আমমােক্তারনামা নিয়ে টাকা উত্তোলন করে থাকেন। তার স্ত্রী, কন্যা, শালী, ভাই সহ নির্ভরশীল অনির্ভরশীলদের নামে কোটি টাকার সম্পদ ক্রয়/মজুদ রেখেছেন মর্মে জানা যায়। এছাড়া তিনি নিজ নামে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন ২ কোটি টাকায় ২০ শতক ভূমি ক্রয় করেন। চেইন্দা মৌজা, কাইমার ঘােনা মসজিদের পূর্বে ২০ শতক ভাড়া ঘরসহ ক্রয় করেছেন। কক্সবাজার পৌরসভার পেশকার পাড়ায় ৪ তলা ভবন নির্মাণ করে নিচতলায় বসবাস করেন। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গত ২১/০১/২০২১ তারিখে দুপুর ১২.০০ ঘটিকায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত জিইসি মােড় এলাকা হতে আসামী মােহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা, কালারমারছড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস, মহেশখালী, কক্সবাজার কে সূত্রে মামলায় গ্রেফতার করা হয়।

আসামী মােহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা, কালারমারছড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস, মহেশখালী, কক্সবাজার বিভিন্ন ব্যক্তির একাউন্টে ভূমি অধিগ্রহণ শাখা হতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিগণ চেক প্রাপ্ত হওয়ার পর তাদের স্ব-স্ব একাউন্টে টাকা ক্যাশ বা জমা হলে তাদের একাউন্ট থেকে মােহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের প্রতিনিধি জহিরুল ইসলাম, আবুল হাসেম তাৎক্ষণিক একটি নির্দিষ্ট ঘুষ বা কমিশনের ৩০% বা ৫০% করে টাকা উত্তোলন করে নিয়েছিলো। আবার কখনও নিজেই ক্যাশ উত্তোলন করে (মােহাম্মদ জয়নাল আবেদীন) নিজের ও তার স্ত্রীর একাউন্টে জমা করেছিলো। মােহাম্মদ জয়নাল আবেদীন তার অধীনস্ত ভূমি অফিসের কর্মচারী মােঃ আবুল হাসেমকে দিয়ে বিভিন্ন ক্ষত্যিন্ত ব্যক্তির একাউন্ট থেকে ঘুষ বা কমিশনের ৩০% বা ৫০% টাকা উত্তোলন করিয়ে বাসা বাড়িতে জমা রেখে তার নামে কক্সবাজার পৌরসভা এলাকায় গোপনে অনেক মূল্যবান জমি ক্রয় করেছে। যার একটি দলিল নং-২৭৮৮, তারিখ ৩০/০৭/২০১৮ ইং মৌজা কক্সবাজার, কক্সবাজার পৌরসভা।

যা তিনি তার আয়কর নথিতে (করবর্ষ ২০১৯-২০২০) গােপন করেন। উক্ত দলিলে ০.০৭৩৩ একর ভূমির মূল্য দেখানাে হয়েছে ৮১,৩০,০০০/-(একাশি লক্ষ ত্রিশ হাজার) টাকা। সেই অনুযায়ী ধৃত আসামী জয়নাল আবেদীন এর ০.০৫৬৬ একর জমির মূল্য ৬২,৭৭,৭৩৫/-(বাষথি লক্ষ সাতাত্তর হাজার সাতশত পয়ত্রিশ) টাকা মৌজা মূল্য অনুযায়ী ০.০৫৬৬ একর জমির মূল্য ৬২,৭৭,৭৩৫/-টাকা হলেও প্রকৃতপক্ষে ২০১৮ সাল থেকে সরকার

বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী উক্ত জমির মূল্য কমপক্ষে ১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা। মূলত ২০১৬ সালে মহেশখালী কেরুনতলী ভূমি অফিসে যােগদানের পর তার অবৈধ অর্থ সম্পদ হু হু করে বাড়তে থাকে। কক্সবাজার জেলায় যে সকল ভূমি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ করা হয় তন্মধ্যে প্রায় ৭ হাজার একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে কালারমারছড়া ও কেরুনতলী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অধীনস্ত এলাকায়। এলএ মামলা ০৪/২০১৩-১৪ মূলে কালারমারছড়া ও কেরুনতলী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অধীনস্ত এলাকায় ৫৩৩৩ একর জমি অগ্রিহণ করা হয়। গত ২০১৬-২০১৮ সালে ধৃত আসামী জয়নাল আবেদীন কেরুনতলী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চাকুরী করলেও ২০১৮ সালে শেষের দিকে এলএ মামলা ০৪/২০১৩-১৪ মূলে ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হলে জেলা প্রশাসক। কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে আসামী জয়নাল আবেদীন কালারমারছড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন এরপর শুরু হয় জয়নাল আবেদীনের অবৈধ সম্পদ অর্জনের পালা। তার ২০১৯-২০২০ করবর্ষের আয়কর নথি পর্যালােচনায় দেখা যায় যে, তিনি তার নামে ১৪ টি দলিল ও তার স্ত্রী জনাৰ রােকেয়া বেগমের নামে ০৩ টি দলিল মূলে কৃষি জমির মালিকানা প্রাপ্ত হন। তন্মধ্যে, তার বসবাসকৃত বাড়ি নং-৭৮৪/৭৮৫, পূর্ব পেশকারপাড়া, ৪ নং ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা, কক্সবাজারে ০৪ তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন।

ভূমির ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে সরকারী খাজনা ৰা রাজস্ব প্রদান করা। আসামী জয়নাল আবেদীনকে যারা ফাইল দেন তাদের জন্য বকেয়া থাকা জমির খাজনার সুদ মওকুফ, আর যারা জয়নাল আবেদীনকে ফাইল প্রদান করেনা তাদের কাছ থেকে সুদসহ বহুগুণ খাজনা আদায় করেন। ধৃত আসামী জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী রােকেয়া বেগমের ন্যাশনাল ব্যাংক কক্সবাজার শাখা একাউন্ট নং-১০৬৪০০০৫৩০৩২৫ এ গত ০৭/০৮/২০১৮ ইং তারিখ ২,৬৬,১০৩/-টাকা, ১২/০২/২০১৯ ইং তারিখ ৬,২২,৪৫০/-টাকা, ০৯/০১/২০২০ ইং তারিখ: ৫,২১,৯৮৯/- সর্বমােট ১৪,১০,৫৪২/-টাকা সম্পূর্ণ অবৈধ লেনদেনের এখানে প্রত্যেকটি লেনদেন হচ্ছে বিশেষ করে ২০১৮ ইং হতে ফেব্রুয়ারী ২০২০ ইং পর্যন্ত ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত এবং সিন্ডিকেটের লােক এবং ভূমি অগ্রিহণের অবৈধ ঘুষ বাণিজ্যের সাথে জড়িত লেনদেন। ভূমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার পর তাদের কাছ থেকে নগদে উত্তোলন করে উক্ত টাকা হতে ধৃত আসামী জয়নাল আবেদীন নিজ অংশ রেখে বাকী টাকা ঘুষ বাবদ সার্ভেয়ারসহ ভূমি অধিগ্রহণ | শাথায় অন্যান্য কর্মকর্তার নিজস্ব মানুষের একাউন্ট এর মাধ্যমে পাচার করে দিতেন।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply