ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে সাতক্ষীরায় হাজার হাজার বাড়িঘর বিধ্বস্ত

সিবিএল২৪ :

প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর আঘাতে রোববার ভোররাত থেকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় ভয়ংকর তাণ্ডব শুরু হয়েছে। এতে রাস্তাঘাটে গাছপালা ভেঙে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। কয়েকটি ইউনিয়নের ঘরবাড়িসহ ভেসে গেছে মাছের ঘের।

bulbul straik in satkhira
ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলের’ তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড সাতক্ষীরার শ্যামনগর -ছবি সংগৃহীত

শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভবতোষ মন্ডলের জানান, দুই হাজারের বেশি মাটির ঘর ছিল। ঝড়ে সবগুলোই মাটির সাথে মিশে গেছে। ঘরের নিচে অনেকে চাপা পড়ে থাকতে পারে। তাদেরকে খোঁজা হচ্ছে। তবে কারো মৃত্যুর খবর এখনো পাওয়া যায়নি।

উপজেলার নির্বাহী অফিসার এম কামরুজ্জামান ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বুড়িগোয়ালীনি, গাবুরা ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নে। এই তিন ইউনিয়ন উপকূলীয় অঞ্চলে হওয়ায় ঝড়ের তাণ্ডব বেশি হয়েছে।

তিনি বলেন, কাচামাটির ঘরগুলো সব নষ্ট হয়ে গেছে। কেউ নিহত বা আহত হয়েছে কিনা তা এখনো জানা যায়নি। ঝড়ের তাণ্ডব থামার পরই জানা যাবে। তখন অবস্থা বুঝে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

বুলবুলের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত বাড়ি-ঘর

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে ভয়ংকর তাণ্ডব এখনো চলছে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় কয়েকটি জেলায় কাচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। জলোচ্ছ্বাসের কারণে বেশ কয়েকটি জেলার উপকূলীয় বাঁধ বিধ্বস্ত হয়ে পানি মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে। এছাড়া উপকূলীয় শ্যামনগ‌র এলাকায় ক‌য়েক হাজার গাছগাছা‌লি উপ‌ড়ে প‌ড়ে‌ছে বলে জানা গেছে।ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানার আগেই  ১৮ লক্ষাধিক মানুষকে নিরাপদে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়।

ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রভাগ ভোর পাঁচটার দিকে সুন্দরবন অঞ্চল দিকে বাংলাদেশের খুলনা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করে। এরপর এটি ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়ছে।

জলোচ্ছ্বাস

উপকূলীয় দ্বীপ ইউনিয়ন, গাবুরা ও পদ্মপুকুরের ৮০ শতাংশ কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হ‌য়ে‌ছে। এছাড়া বৃ‌ষ্টির পা‌নি‌তে বি‌ভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃ‌ষ্টি হ‌য়ে‌ছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন শ্যামনগ‌র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান।

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলের’ তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড সাতক্ষীরার শ্যামনগর -ছবি সংগৃহীত

আবহাওয়ার বুলেটিনে জানানো হয়েছে, বুলবুল অতিক্রমের সময় উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ৮০-১০০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে হবে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ দেওয়ার আগ পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply