ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় কক্সবাজারে ব্যাপক প্রস্তুতি

পরিতোষ বড়ুয়া পবন :

বাংলাদেশের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসা সাইক্লোন বুলবুল আঘাত হানার পর সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে উপকূলীয় জেলাসমূহ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বাসিন্দাদের মাঝে সর্বোচ্চ প্রচারণা চালাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এদিকে পর্যটকদের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় স্থান সেন্টমার্টিনে বেড়াতে গিয়ে সেখানে আটকা পড়েছেন অনেকে।

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলের’ প্রভাবে কক্সবাজারে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থায় জেলার সব আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রাখার জন্য ইউএনওদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, কক্সবাজারে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন মিডিয়াকে জানান, উপকূলীয় এলাকার লোকজনের জন্য জেলার সব আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রাখতে ইউএনওদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপকূলীয় উপজেলা মহেশখালী ও কুতুবদিয়াসহ অন্যান্য উপজেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত যানবাহনসহ নৌকা ও স্প্রিডবোট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে সম্ভাব্য দুর্যোগকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারির ছুটি পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে এবং তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে সকলকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য জানানো হয়েছে। এছাড়া, জেলার প্রতিটি উপজেলায় প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেইসঙ্গে উপকূলীয় এলাকার জেলেদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব নিয়ে কক্সবাজারের উপকূলে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সাগর উত্তাল রয়েছে। জোয়ারে প্লাবিত হচ্ছে কক্সবাজারের নিম্নাঞ্চল। বুলবুলের তীব্রতা শুরু হলে উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ভূমিধস ও ঝুপড়ি ঘরগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঝড়ের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি রোধে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন।

কক্সবাজারের টেকনাফে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে বেড়াতে আসা হাজারও পর্যটক সর্তক সংকেত জারি এবং সাগর উত্তাল হওয়ায় আটকা পড়েছেন। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এসব পর্যটককে দেখভাল করছেন। বৃহস্পতিবার থেকে ‘বুলবুল’-এর প্রভাবে আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্কতা সংকেত জারি করলে এই নৌরুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ নুর আহমদ জানান, এই প্রবাল দ্বীপে ৮৪টি আবাসিক হোটেলে প্রায় ১ হাজার ২০০ মতো দেশি-বিদেশি পর্যটক আটকে আছে। সেন্টমার্টিনবাসীর পক্ষ থেকে আমরা প্রয়োজনীয় সব রকমের সহযোগিতা দিচ্ছি।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply