আবারও করুণ ঘটনার স্বাক্ষী বিশ্ব! অসহায় বাবার বিলাপ!

চিকিৎসার নামে আবারো এক করুণ মৃত্যুর সাক্ষী হল বিশ্ব! ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন, বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণ চর। কিছুক্ষণ আগে কথা সিবিএল২৪ ডটকমের সাথে মুঠোফোনে কথা হয় নাসির উদ্দিনের। তার মুখ থেকে বেরিয়ে এল এক নির্মম কাহিনী।

মৃত্যুর পরক্ষণেই নাদিয়া

আমার নাম নাছির উদ্দিন ( ০১৮৩০৩৫৪৩৭০)। আমার মেয়ের নাম নাদিয়া ইসলাম, বয়স ০১ বছর । আমার বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা।

কিছুদিন আগে মেয়ের প্রথমে পাতলা পায়খানা বমি দুই দিন পর বুকে সমস্যা দেখা দিলে আমি প্রথমে নিয়ে যাই নোয়াখালী সদর হসপিটালে রাত ০১:০০ টায়। যখন সকাল ১০:০০ টা বাজে তখন ডাক্তার এসে বলে আপনার মেয়েকে ঢাকায় নিয়ে যান তার অবস্থা ভালো না, তাকে ICU তে রাখতে হবে।এই কথা শুনে আমি নোয়াখালীর আরো দুই জন ডাক্তার কে ডেকে নিয়ে আসলাম তারা কি বলে।তারা ও একই কথা বলে। পরে আমি তাকে নিয়ে যায় ঢাকা শিশু হসপিটালে তারা দেখে বলেন তার ICU সাপোর্ট লাগবে তবে আমরা দিতে পারবো না।তার করোনা ন্যাগেটিভ ছাড়া আপনারা অন্যান্য দিকে দেখেন কি করবো এত রিকোয়েস্ট করলাম কিছুই হলো না এই ফাঁকে অনেক প্রাইভেট হসপিটালে খবর নিলাম সবায় সেম কথা।

এখন আমি কি করবো মেয়েকে নিয়ে কোথায় যাবো?

তখন একটা হসপিটালের খবর ফেলাম।

ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হসপিটাল,৬৯ / ডি গ্রীণ রোড, পান্থপথ, পুরাতন গ্যাষ্টোলিভার ভবন,১২০৫ । ওখানে যাওয়ার পর তারা বলেন ঠিক আছে আমরা তাকে ICU সাপোর্ট দিবো এই কথা শুনে ভর্তি হলাম ঔ দিন আর আমাদের ঢুকতে দেইনি। পরের দিন ঢুকে দেখলাম মেয়ের হাত – পা বাধা মুখে মাক্স পরা । এইটা দেখে আমি হতবাক! পরে আমি খুঁজতে লাগলাম অন্য কোন হসপিটাল কেউ ভর্তি নিবে কিনা। নাদিয়া কে মনে হয় ৩০ টা হসপিটালে নিয়ে গেলাম। সবাই বলে করোনাভাইরাস ন্যাগেটিভ না হলে নিবে। পরে আমি বললাম তাহলে একটা লোক দিন আমি তার বেতন দিবো। আমার মেয়ে থেকে সেম্পল নিয়ে আসুক তারে আনা সম্ভব না। তাকে আনতে হলে ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হসপিটাল সিট কেটে আনতে হবে আবার আনলে তারাও ভর্তি নিবে না ! তিন দিন পর করোনা ন্যাগেটিভ ছাড়া , তখন আমি এই তিন দিন মেয়েকে নিয়ে কোথায় থাকবো।এর পরে দিন ল্যাবএইড থেকে একটা ছেলেকে নিয়ে এসে সেম্পল দিলাম রিপোর্ট আসতে তিন দিন লাগবে, আমি অনেক রিকোয়েস্ট করলাম কিছু হল না। এর পর বিকাল ০৫:০০ টায় মেয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলো। এখন মেয়ে কে নিয়ে আসবো এলাকায় কিন্তু যে লম্বা বিল ধরিয়ে দিল ৬০০০০ হাজার টাকা!!

এখন থেকে একটু আগে আমার মোবাইল এ মেসেজ আসলো নাদিয়া করোনাভাইরাস ন্যাগেটিভ । আমার মেয়ে মারা গেলো আমার কোন দুঃখ নাই কারণ আল্লাহ দিয়েছে আল্লাহ নিয়েছে।আল্লাহ চাইলে আরো অনেক নিয়ামত দিতে পারে।

আমি বিচার চাই টাকার জন্য যারা ICU নামের কসাই খানায় রেখে আমার মত আর কোন বাবার কোল খালি না করে। আর কত লোকের জীবন গেলে এই দেশের সরকারের টনক লড়বে আর কত লোক জীবন দিলে স্বাস্থ্য ব্যাবস্থা ভালো হবে। আপনারা সবাই শেয়ার করেন যেন জালিমের বিচার হয়।

এবং বেশি বেশি লেখেন ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হসপিটালের জালিমদের কথা যারা আমার মেয়েকে হাত পা বেঁধে মুখে মাক্স পরিয়ে মেরে ফেলেছে। আল্লাহ এদের বিচার করেন যেন আর কোন বাবার বুক খালি না হয়।

আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করব আপনারা প্রাইভেট ক্লিনিক গুলার দিকে একটু নজর দিয়ে দেখুন। ওরা কি করে? কি করতেছে? সরকারের কাছে প্রশ্ন রইল; আমরা যারা নিরীহ সাধারন মানুষ, আমাদের কি এই দেশে চিকিৎসা পাওয়ার কোনই অধিকার নাই ?

মুখ টেপ লাগানো নাদিয়া

এক পুলিশ ভাই এই করুণ ঘটনা সহ্য করতে না পেরে লিখেছেন……

তোমার হাত-পা বেঁধে রাখছে। আবার মুখে মাক্স লাগিয়ে রাখছে। তাও আবার টেপ দিয়ে। তোমার উপর এত নির্যাতন করল ওরা? তুমি নিজের জীবন নিজে দিয়েছো। আমি নিজের চোখে দেখেছি! করোনা সন্দেহে ওরা তোমায় ধরে নাই। তোমার কাছে যায় নাই। তোমায় চিকিৎসা দেয় নাই। মনকে বোঝাতে পারতেছি না কোনভাবে। আমি বলি তোমার মত এভাবে কারো জীবন যেন না যায়। কারো মায়ের বুক যেন আর খালি না হয়।

আই সি ইউ তে যখন তোমার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম তখন তুমি আসতে চেয়েছিলে আমার কোলে। কিন্তু ওরা তোমায় আসতে দেয় নাই। দুই দিনে ৬০ হাজার টাকা বিল করেছিল। আমি জানি ওরা তোমায় নিয়ে ব্যবসা করেছিল।তোমায় হত্যা করেছিল। ভুলটা মনে হয় আমাদেরই ছিল। আমরা ওদেরকে চিনতে পারি নাই। ওরা তো ডাক্তার না। ওরা শিশু হত্যাকারী। আমি চাই তোমার মতো আর কেউ যেন এই হত্যার শিকার না হয়।

ওরা বলেছিল তোমার জরুরী ভিত্তিতে রক্ত লাগবে। কিন্তু আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে আমার সাথে রক্তের গ্রুপটা মিলে গেল। রক্তও দিলাম। একদিন পরে শুনি তারা ঐ রক্ত তোমায় দিতে পারে নাই। তুমি আল্লাহর কাছে ওদের কথা বলে দিও। আর দয়া করে আমাদের ক্ষমা করে দিও। তোমায় সুচিকিৎসা দিতে পারি নাই।

আজ কোথায় তোমাদের মানবতা? কোথায় তোমাদের ন্যায়পরায়ণতা?

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply