চড় দেওয়ার জের ধরেই ৩ জনকে হত্যা: ঘাতক দুলাভাইয়ের স্বীকারোক্তি

নিউজ নারায়ণগঞ্জ নেট:

নারায়ণগঞ্জে পারিবারিক তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মা ও দুই মেয়েকে গলাকেটে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আব্বাস মিয়া গ্রেপ্তার হয়েছেন। ১৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় সিদ্ধিরগঞ্জের পাওয়ার হাউজের সামনে থেকে তাকে ডিবির একটি টিম আটক করে। তিনিই মূল ঘাতক। একটি চাকু দিয়েই তিনজনকে হত্যা করেছে সে। তার আক্রমন থেকে রক্ষা পায়নি নিজের মেয়েও। তাকেও ছুরিকাঘাত করে জখম করে মৃত ভেবে ফেলে যায়।

রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইনে সংবাদ সম্মেলনে তিন খুনের ঘাতক আব্বাস মিয়াকে হাজির করা হয়। ওই সময়ে জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে জানান, ‘বৃহস্পতিবার সকালে হত্যাকা-ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুপুরে আব্বাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে ইতোমধ্যে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকা-ের দায় স্বীকার করেছে। ইতোমধ্যে সে জানিয়েছে ভায়রা তাকে একদিন চড় মারছে। এ কারণেই জিদ ছিল। প্রায়শই আব্বাসের স্ত্রী ও মেয়ে নাকি ভায়রা ও শ্যালিকার কাছে চলে আসে। এসব কারণেই জিদ করেই হত্যা করেছে। তাছাড়া আব্বাস নিজেও একজন ইয়াবা আসক্ত ব্যক্তি।

এসপি জানান, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে স্থান শনাক্ত করে সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার হাউসের পাশের একটি কমিউনিটি সেন্টারের পর্দা ঘেরা টেবিলের নিচ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে জানায় প্রথমে শ্যালিকাকে গলা কেটে হত্যা করে পরে একে একে শ্যালিকার দুই সন্তানকে হত্যা করে সে। সবার শেষে নিজের প্রতিবন্ধী মেয়েকে সামনে পেয়ে তাকেও কুপিয়ে জখম করে দ্রুত পালিয়ে যায় সে।

১৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের ১নং ওয়ার্ডের সিআই খোলা এলাকার বহুতল ভবনের ৬ তলার বাসা থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

নিহতরা হলো সুমন মিয়ার স্ত্রী নাসরিন বেগম (২৬), তাঁর মেয়ে নুসরাত (৮) ও খাদিজা (২)। নাসরিনের বোনের মেয়ে সুমাইয়াকে (১৫) ছুরিকাঘাত করা হয়। তাকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সুমাইয়া হাসপাতালে পুলিশকে বলেছেন, ‘আমার বাবা আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে। আমার বাবাই খালামনি নাসরিন বেগম ও তার দুই মেয়েকে হত্যা করেছে। বাবা মাদকাসক্ত ছিলেন। গতকালও আমাকে মারধর করেছে। সে কারণেই গতকাল আমি ও আমার মা খালামনির বাসায় চলে আসি।’

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply