ছোট মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধন নিয়ে বাণিজ্য

এস. এম. রুবেল, মহেশখালীঃ
“অনলাইনে জন্মনিবন্ধনের সার্ভার খুলে দেয়ার খবর শুনে খালেদা বেগম ছেলে মেয়েদের জন্মনিবন্ধন সনদ তুলতে গিয়েছিলেন স্থানীয় ছোট মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদে। এসময় দায়িত্বরত ব্যক্তি দুই দফায় ২ হাজার টাকা নিয়ে চারটি জন্মনিবন্ধন সনদ প্রদান করেন।” মহেশখালী উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের খালেদা বেগম নামের এক গৃহিনী প্রতিবেদককে এসব তথ্য জানান।

জন্মনিবন্ধন সনদের সরকার নির্ধারিত ফি আছে এবং তা রিসিভ প্রদানের মাধ্যমে গ্রহণ করার নিয়ম রয়েছে, এ তথ্য জেনে ঐ গৃহিনী আরো বলেন, “আমার কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করলেও কোন ধরণের রিসিভ দেয়া হয়নি। ২/৩ দিন ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার পর গতকাল (১১নভেম্বর) চারটি জন্মসনদ প্রদান করে তারা। আমরা অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় জন্মসনদের টাকা গুলো ধার নিয়ে প্রদান করি।”

অনুসন্ধানে জানা যায়, রোহিঙ্গা ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার জেলায় জন্মনিবন্ধনের অনলাইন সার্ভার বন্ধ থাকায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী জন্মসনদ নিয়ে নানান হয়রানীর শিকার হন। আর সেই সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে ছোট মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের সমন্বয়ে গঠিত একটি সিন্ডিকেট। যারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীদের ঠকিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করছে। ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা, চেয়ারম্যানের স্নেহভাজন ও সমর্থকদের নিয়ে এ সিন্ডিকেটটি পরিচালিত হয়। সেবা গ্রহীতারা জন্মনিবন্ধন সহ অন্যান্য সেবার জন্য পরিষদে আসলে ফরম পূরণের টাকা, প্রিন্টের টাকা, ফরম লিখার টাকা, ফরম ফি ইত্যাদির অযুহাতে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে টাকা আদায় করছে তারা।

বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছোট মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে সাধারণ মানুষের লম্বা লাইন। মুখে মাস্ক নেই, নেই সামাজিক দুরত্বও। এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের স্থাপিত বেসিনেও নেই পানি ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা। যেখানে “নো মাস্ক, নো সার্ভিস” ঘোষনা দিয়ে সরকারী বিভিন্ন অফিসে সেবা দিচ্ছে, সেখানে করোনা ঝুঁকি নিয়েই ছোট মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদে জন্মনিবন্ধন সনদের জন্য ভূক্তভোগীদের লম্বা লাইন পড়ে আছে। আর দরজা বন্ধ করে চেয়ারম্যান সহ অন্যরা ভিতরে বসে আছেন।

এসময় জাফর আলম নামের এক ভুক্তভোগী জানান, ইউনিয়ন পরিষদে নিযুক্ত ব্যক্তিরা পরিবারের ৫জন সদস্যের জন্মনিবন্ধন ফি বাবদ ১৭ শত টাকা নিয়েছে। এসময় রিসিভ খুঁজলে রিসিভও দেয়া হয়নি। উল্টো ব্যস্ততা দেখিয়ে খারাপ আচরণ করা হয় তার সাথে।

লাইনে দাড়িয়ে থাকা মুদিরছড়ার ইমন হোসেন নামের অপর এক ভূক্তভোগী জানান, তার মা বাবা দুজনের জন্মনিবন্ধন সনদ তুলতে গেলে তার কাছ থেকে ৬শ টাকা নিয়ে নেয়। কিন্তু সারাদিন লাইনে দাড়ানোর পরেও জন্মসনদ না পাওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্বরত ব্যক্তিরা উল্টো খারাপ আচরণ করে। এসময় কেন দেরী হচ্ছে তা জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান জিহাদ বিন আলী তার সাথে খারাপ আচরণ করে এবং চেয়ারম্যানের সাথে থাকা এক ব্যক্তি থাকে মারতে তেড়ে আসেন।

এই বিষয়ে ছোট মহেশখালী ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা আনোয়ারের বক্তব্য নিতে বারবার ফোন করা হলেও ফোন ধরেননি।

অপরদিকে একই অবস্থা ইউপি চেয়ারম্যান জিহাদ বিন আলীর। অনেকবার ফোন দেয়ার পরেও ফোন না ধরায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, জন্মনিবন্ধনে অতিরিক্ত টাকা নেয়া ও সেবা প্রার্থীদের সাথে খারাপ আচরণ করার বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেয়া হবে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply