জাল নোট ঠেকাতে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের ক্ষমতা

জাল নোট ঠেকাতে সন্দেহজনক যেকোনো স্থানে বিনা পরোয়ানায় তল্লাশি করার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে পুলিশকে। জাল নোট তৈরিতে সম্পৃক্ত থাকতে পারে, এমন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করতে পারবে পুলিশ। ‘জাল মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ আইন, ২০২০’-এর খসড়ায় এসব ধারা রাখা হয়েছে।

এরই মধ্যে এই খসড়া চূড়ান্ত করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কিংবা এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাল নোটসংক্রান্ত অপরাধের বিচারের জন্য আলাদা কোনো আইন দেশে নেই। ফলে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৮৯ (ক) থেকে (ঘ) ধারা এবং বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪-এর ২৫ (ক) ধারা অনুযায়ী জাল মুদ্রাসংক্রান্ত অপরাধের বিচার চলছে। কিন্তু এসব আইনে বিচার করতে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়।

প্রস্তাবিত খসড়া আইনে বলা হয়েছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কিংবা সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা জাল নোট তৈরি করা হয় এমন কোনো সন্দেহজনক স্থানে প্রবেশ, পরিদর্শন কিংবা বিনা পরোয়ানায় তল্লাশি চালাতে পারবেন। তল্লাশির সময় সন্দেহভাজন কাউকে আটকও করা যাবে।

খসড়া আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে যত বেশি নকল মুদ্রা তৈরি বা সরবরাহের অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তার দণ্ড তত বেশি হবে। আইনের খসড়া অনুযায়ী, যেকোনো মূল্যের ১০০টির কম জাল মুদ্রা পাওয়া গেলে দুই বছর কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। জাল মুদ্রার সংখ্যা ১০০টির বেশি কিংবা ৫০০টির কম হলে পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

কোনো ব্যক্তি এই আইনে দ্বিতীয়বার অপরাধ করলে দণ্ড বেড়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে ১০০টির কম জাল মুদ্রার জন্য পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। জাল মুদ্রার সংখ্যা ১০০টির বেশি কিংবা ৫০০টির কম হলে সাত বছর কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। আর ৫০০টির বেশি হলে ১২ বছর কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

কোনো ব্যক্তি এই আইনের ধারায় তৃতীয়বার বা তার চেয়ে বেশিবার অপরাধী প্রমাণিত হলে শাস্তি আরো বেড়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে ১০০টির কম জাল নোটের জন্য ১০ বছর কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। জাল নোটের সংখ্যা ১০০টির বেশি কিংবা ৫০০টির মধ্যে থাকলে ১২ বছর কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ৫০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। আর ৫০০টির বেশি জাল মুদ্রার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব এক কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। 

জাল নোটের ব্যাপারে তথ্য দিলে পুরস্কারের কথাও উল্লেখ আছে খসড়া আইনে। এতে বলা হয়েছে, জাল মুদ্রা প্রস্তুত, ধারণ, বহন, সরবরাহ, আমদানি-রপ্তানি এবং মুদ্রা প্রস্তুতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিসহ আনুষঙ্গিক দ্রব্যাদি সম্পর্কে তথ্য দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সরকার পুরস্কৃত করবে।

খবরঃ কালের কণ্ঠ

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply