জিয়াউর রহমান আমার বিছানায় বুটসহ পা তুলে দিয়ে বলেন ‘সাইন ইট’

পরিতোষ বড়ুয়া পবন :

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ৬ নভেম্বর খালেদ মোশাররফ প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে। জিয়াউর রহমান ৭ নভেম্বরের ক্যু এর মাধ্যমে ক্ষমতার কেন্দ্রে এলেও রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে বহাল রাখেন বিচারপতি সায়েমকে। বঙ্গভবনের দিনগুলো নিয়ে বিচারপতি সায়েম একটি বই লিখেছিলেন যে বইটির শিরোনামে ছিল, ‘অ্যাট বঙ্গভবন: লাস্ট ফেজ’। ১৯৮৮ সালে বইটি প্রকাশিত হয়। ২৭৩ পৃষ্ঠার ঐ বইয়ের পাতায় পাতায় আছে তৎকালীন সেনা প্রধানের স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার ৭ দিনের মধ্যে বইটি বাজেয়াপ্ত এবং নিষিদ্ধ হয়।

বইটির ২৩ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, ‘সংবিধানের ৪ টি মূল স্তম্ভ বাতিল সংক্রান্ত একটি সামরিক ফরমান আমার কাছে স্বাক্ষরের জন্য আসে।… আমি ঐ ফরমানে স্বাক্ষর না করে, তা রেখে দেই। … পরদিন রাত ১১ টায় বুটের শব্দে আমার ঘুম ভাঙ্গে। সেনাপ্রধান জিয়া অস্ত্রশস্ত্রসহ বঙ্গভবনে আমার শয়ন কক্ষে প্রবেশ করে। … জিয়াউর রহমান আমার বিছানায় তাঁর বুটসহ পা তুলে দিয়ে বলেন, সাইন ইট। তাঁর একহাতে ছিল স্টিক, অন্য হাতে রিভলভার’…

বইটির শেষ অধ্যায় নাটকীয়। শেষ অধ্যায়ে লিখা হয়েছে …

“জেনারেল জিয়া বঙ্গভবনে আসতেন মধ্যরাতে। অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে। তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা অস্ত্র উঁচিয়ে রাখতো… আমি প্রায়ই মনে করতাম এটাই বোধহয় আমার শেষ রাত। … এক রাতে তিনি এসে একটি কাগজ আমার বিছানায় ছুড়ে দিয়ে বললেন, সাইন ইট… আমি কাগজটা পড়লাম। আমার পদত্যাগ পত্র। যাতে লেখা আছে, ‘অসুস্থতার কারণে আমি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করলাম।’ আমি জিয়াউর রহমানের দিকে তাকালাম। ততক্ষণে আট দশজন অস্ত্রধারী আমার বিছানার চারপাশে অস্ত্র উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। জিয়া আবার আমার বিছানায় পা তুলে আমার বুকের সামনে অস্ত্র উঁচিয়ে বললেন, ‘সাইন ইট’। আমি কোনোমতে সই করে বাঁচলাম…।”

তথ্যসূত্র: ‘অ্যাট বঙ্গভবন: লাস্ট ফেজ’
বইটি লিখেছেন: আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply