টানা বর্ষণে কক্সবাজারের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

পরিতোষ বড়ুয়া পবন:

গত তিনদিন ধরে কক্সবাজারের সর্বত্র ভারি বর্ষণ চলছে। অতিবৃষ্টির ফলে জেলার মিঠাপানির তিন নদী চকরিয়ার মাতামুহুরি, ঈদগাঁওয়ের ফুলেশ্বরী ও কক্সবাজারের বাঁকখালীতে নেমেছে পাহাড়ি ঢল। ঢলের তীব্রতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঈদগাঁওয়ের নদীর বাঁশঘাটা ও পোকখালী এলাকার বাঁধ। এতে প্লাবিত হচ্ছে বৃহত্তর ঈদগাঁওয়ের পোকখালী ও ইসলামাবাদ এলাকার বেশ কিছু গ্রামের রাস্তা-ঘাট, বাসা-বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলের মাঠ।

ভাঙনের কবলে পড়েছে অভ্যন্তরীণ সড়কও। প্লাবিত হয়েছে জালালাবাদ, ঈদগাঁও, চৌফলদন্ডী ও কালিরছরা এলাকার বিস্তৃর্ণ এলাকা। কক্সবাজার শহর, চকরিয়া, পেকুয়া, উখিয়াসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চলে একই অবস্থা বিরাজ করছে। গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে শতশত মানুষ।

কয়েকদিনের টানা বর্ষণে ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বাঁকখালী নদীর পানি বেড়ে কক্সবাজার শহরসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, ফসলি জমি। ফলে প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। বন্যায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।

টানা বৃষ্টিতে সদরের পৌর শহর, ঝিলংজা, রামুর গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, মিঠাছড়ি, কাউয়ারখোপ, ফঁতেখারকুল, চাকমারকুলসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। এছাড়া কক্সবাজারের ৮ উপজেলার নিচু এলাকায় বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কিছু কিছু এলাকার মাছের ঘের পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

ভয়াবহ বন্যার পানিতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন রামু উপজেলার মানুষ। টানা বৃষ্টিতে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় সবগুলোই প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, কাউয়ারখোপসহ চার-পাঁচটি ইউনিয়নের অবস্থা ভয়াবহ। এসব এলাকায় চার থেকে পাঁচ ফুট পানি উঠেছে। বাঁকখালী নদীর পানি বিপদসীমার দেড় মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বর্ষণে বাঁকখালী নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ডুবে গেছে ফসলি জমি ও সড়ক। পানিতে তলিয়ে গেছে আউশ ধানের বিস্তীর্ণ বীজতলা। পানিবন্দি মানুষ গবাদি পশু আর আসবাপত্র নিয়ে বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে ঝুপড়ি ঘর তুলে রাত যাপন করছেন তারা। এছাড়া পানি উঠে পড়ায় রামুর সাথে গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি সড়ক দিয়ে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে, তলিয়ে গেছে অনেক ফসলি জমি।

এসব এলাকায় স্থানীয়দের অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে শহরে ও আশাপাশের উপজেলার আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় খাবার এবং পানীয় জলের অভাব দেখা দিয়েছে ওই এলাকায়। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় নৌকা দিয়ে পারাপার হচ্ছে মানুষ। ফসলের ক্ষেত, গোলার ধান, মৎস্য খামার, পশু ও বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে গবাদিপশুর।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply