ডাকাতের গুলিতে নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রহরী গুরুতর আহত

সিবিএল২৪ : গত বুধবার গভীর রাতে (৭ নভেম্বর) টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পে ডাকাতের গুলিতে মোহাম্মদ হামিদ (২০) নামে একজন রোহিঙ্গা গুরুতর আহত হয়েছে।

আহত ব্যক্তি হলেন, টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নুরালি পাড়া আই-টু ব্লকের মোহাম্মদ হাফেজের ছেলে মোঃ হামিদ।

টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডেভলপম্যান্ট কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম জানান,‘গুলিবিদ্ধ এক রোহিঙ্গাকে তার শিবিরের স্বাস্থ্যা কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরে তাকে কক্সবাজারে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রোহিঙ্গা জানান, পাহাড়ের তীরে এই ক্যাম্পে দিন দিন ‘ডাকাত’ দলের সংখ্যা বাড়ছে। সেখানে ইয়াবার আস্তানাও বাড়ছে। এতে প্রতিদিন মারামারিম ও গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এতে রোহিঙ্গাদের মাঝে ভায়ভীতি সৃষ্টি হচ্ছে।

কিছুদিন আগে টেকনাফ থানা পুলিশকে সহযোগিতা করায় শামলাপুরের হেডম্যান আবুল কালামের দুই কিশোরী মেয়েকে অপহরণের (তিনদিন পর মুক্ত) পর এবার রোহিঙ্গা যুবককে গুলি করে গুরুতর আহত করল রোহিঙ্গা ডাকাতরা। গুলিবাদ্ধ হামিদের বিরুদ্ধেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতার অভিযোগ আনে রোহিঙ্গা ডাকাতরা। গত বুধবার রাতে টেকনাফ হ্নীলা নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ঘটনাটি ঘটে।

এ ঘটনার পর টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর কাছাকাছি পাহাড়ী জঙ্গলে গড়ে ওঠা সশস্ত্র রোহিঙ্গা ডাকাতদলের খোঁজে র‌্যাব হেলিকপ্টার দিয়ে অভিযান চালিয়েছে। বুধবার বিকেল তিনটা পর্যন্ত টেকনাফের কয়েকটি দুর্গম পাহাড়ে এ অভিযান চালানো হয়।

সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা ডাকাতদলের প্রধান আবদুল হাকিম মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান বিদ্রোহী দল ‘আরসা’র সেকেন্ড ইন কমান্ড। তার কাছে রয়েছে ভারি অস্ত্রশস্ত্র, ওয়াকিটকি ও গোলাবারুদ। সাধারণ রোহিঙ্গারা জানায়, এখন কাটা ঘায়ে লবণের ছিটা পড়ছে দেখে ডাকাতরা গোস্সা (রাগ) করেছে। যাকে ইচ্ছে তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে, চাঁদা আদায় করছে। উখিয়া-টেকনাফের ৩২ ক্যাম্পে রয়েছে রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গ্রুপের ক্যাডাররা। যারা প্রত্যাবাসনের পক্ষে কথা বলে, তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি, অপহরণ, গুম ও হত্যা করা হচ্ছে। সশস্ত্র রোহিঙ্গা ক্যাডাররা গোয়েন্দাগিরি করে চলেছে প্রায় দেড় বছর ধরে। এমনকি স্থানীয়দের মধ্যে কেউ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে কাজ করলে তাকেও হত্যা করা হচ্ছে। সম্প্রতি টেকনাফের হ্নীলা যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুক প্রত্যাবাসনে সাধারণ রোহিঙ্গাদের উদ্বুদ্ধ করছে বলে খবর পেয়ে সন্ত্রাসী রোহিঙ্গারা তাকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর বাহারছড়ার দুই স্কুলছাত্রীকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে তিনদিন আটকে রাখে রোহিঙ্গা ডাকাতদল। নয়াপাড়া শালবন ক্যাম্পে দিনদুপুরে গুলি চালিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আসছিল রোহিঙ্গা ডাকাতদলের ক্যাডাররা। তারা দুইবার পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। এ অবস্থা থেকে স্থানীয়দের রক্ষা করতে গত কয়েকদিন ধরে র‌্যাব-১৫ এর সদস্যরা সশস্ত্র ডাকাতদলের ক্যাডারদের ধরতে পাহাড়ে অভিযান অব্যাহত রাখে। ড্রোনের সাহায্যে ডাকাতদলের আস্তানার খবর নেয় র‌্যাব। পরবর্তীতে ডাকাতদের আস্তানার খোঁজে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে র‌্যাব সদস্যরা। র‌্যাবকে সহযোগিতা করেছে বলে ওই প্রহরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে রোহিঙ্গা ডাকাতরা তাকে গুলি করে।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply