ডিজিটাল আইল্যান্ডের এনালগ সড়কের বেহাল দশা।

মহেশখালীর গোরকঘাটা জীপ ষ্টেশন সড়কের বেহলা দশা।

সমগ্র মহেশখালী উপজেলা তথা গোরকঘাটা বাজারের সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়ক গোরকঘাটা জীপ ষ্টেশন সড়ক। এই সড়ক দিয়ে দেশ বিদেশ হতে আগত সকল পর্যটক, সরকারী দায়িত্ব পালনের জন্য আগত বিভিন্ন অফিসার, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী, অত্র উপজেলার শান্তিপ্রিয় জনগণ সবাই চলাচল করে। অথচ সড়কটির প্রায় প্রতিটি অংশে ভাঙ্গনের কারণে চলাচলে সবাইকে কমবেশী দূর্ভোগ পোহাতে হয়। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে দূর্ঘটনা নিত্যদিনের খবর। তাছাড়া সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের গর্তে কাদা জমে ভরাট হয়ে যায়। তখন বুঝার উপায় থাকে না “কি রাস্তার উপর হাটছি? না কাদার উপর হাটছি?”

সাধারণ জনগণের কষ্টের কথা না হয় বাদই দিলাম, কিন্তু ছোট ছোট স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা কি করবে? একটু অসাবধানতা বশত রাস্তার ভাঙ্গা অংশে পড়ে গেলেই কাপড় চোপড় ময়লা আবর্জনায় ভর্তি হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় তার আর ক্লাসে যাওয়া হলো না।

রোগী তথা গর্ভবতী মহিলাদের অবস্থাতো আরো করুন। এইতো কিছুদিন আগে এক গর্ভবতী মহিলা কক্সবাজার যাওয়ার উদ্দেশ্যে এই সড়ক দিয়ে অটো রিকশা নিয়ে চলাচলের সময় বেকায়দায় পড়ে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করে ফেলে।

পর্যটকরা অনেক আশা নিয়ে মহেশখালীর দর্শনীয় স্থানগুলো দেখতে আসে, কিন্তু রাস্তায় গাড়ীর ঝাকুনিতে তাদের আশা অনেকাংশে দূরাশায় পরিনত হয়। মহেশখালী সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করতে তাদের মুখে বাধে না।

উচ্চ লেভেলের অনেকে বলে রাস্তাটির জন্য টেন্ডার হয়েছে, বাজেট হয়েছে, এইতো মাস খানেক লাগবে। কিন্তু কই? এ যেন খোকাকে শুনানো চাদের বুড়ির গল্পের মতো।

মাঝে মধ্যে বড় কোন মন্ত্রি কিংবা অফিসার আসলে রাস্তায় কংকর ও বালি দিয়ে লেভেল করা হয়। তাতে কিছুদিন রাস্তা ঠিক থাকে, পুনরায় খানাখ্ন্দ অবস্থার সৃষ্টি হয়।

আসলে কাকে কি বলব? বিষয়গুলি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সব সময় প্রকাশিত হচ্ছে, পথচারীরা সব সময় দূর্ভোগ পোহাচ্ছে। কিন্তু যাদের এ বিষয়ে মাথা ঘামালে সবচেয়ে ভাল হতো তারাতো আর এই রাস্তায় পায়ে হেটে যায় না। তারা বড় বড় চাকাওয়ালা গাড়ীতে বসে চোখে চশমা লাগিয়ে চলাফেরা করে তা তাদের চোখে এগুলো পড়ে না এবং পড়লেও পায়ে হাটতে হয় না বলে তাদের চলতে ফিরতে তেমন অসুবিধা হয় না।
লেখক- Saifuddin Jibon

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply