ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন ও আমাদের করণীয়।

মোহাম্মদ আইয়াছুর রহমান আজিজ

যারা ইন্টারনেট ভিত্তিক (Internet Based) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছেন সবারই আইসিটি (ICT) আইন সম্পর্কে জানা দরকার। এর কারণ হচ্ছে নিজের অজান্তেই এমন কোনো ভুল করে বসেছেন কিনা যার মাধ্যমে হয়তো এই আইনের দ্বারা দোষী সাব্যস্ত হতে পারেন।
(একজন ব্যক্তি যদি কোনো ধরণের ডিজিটাল ডিভাইস সেটা মোবাইল বা কম্পিউটার হতে পারে এসব ব্যবহারের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি যদি আরেকজন ব্যক্তি সম্পর্কে মানহানিকর কিছু বলে বা যেকোনো বিষয়ে তিনি কোনো ধরণের গুজব রটনা করেন কোনো বানোয়াট তথ্য যদি তিনি শেয়ার করেন যার ফলে দেশ বা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে এবং এটি অন্যের ক্ষতিকর হয় সেই ক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা যাবে।)

তাহলে আমাদের জানা দরকার কোন কোন বিষয় এই আইনের মধ্যে পড়েঃ

১. ডিজিটাল ডিভাইস ও কম্পিউটারে বেআইনি প্রবেশ: অপরাধ করার উদ্দেশ্যে কেউ যদি অনুমতি ছাড়া অন্যের ডিজিটাল ডিভাইসে প্রবেশ করে তাহলে এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ এই কাজ আপনি নিজে না করে বা অন্যকাউকে সহায়তা করেন একই ধরনের শাস্তি হবে।
শাস্তি হচ্ছে: সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড।

২. কম্পিউটার সিস্টেমের ক্ষতি করাঃ কম্পিউটার বা কম্পিউটার সিস্টেমের ইচ্ছেকৃত ক্ষতি করেন তাহলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দৃষ্টিতে আপনি অপরাধী হবেন। উদাহরণস্বরুপ- Malware (Malware is any software intentionally designed to cause damage to a computer, server, client, or computer network) বা ক্ষতিকর সফটওয়্যার প্রবেশ করানো কিংবা কারও তথ্যউপাত্ত তার অজান্তে সংগ্রহ করেন।
শাস্তি হচ্ছে: সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড অথবা ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা। অথা উভয় দন্ড।

৩. মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতির পিতার বিরুদ্ধে প্রোপাগাণ্ডাঃ এই বিষয়টি অতন্ত্য স্পর্শকাতর এবং সাজার মাত্রাও বেশী। মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা জাতির পিতার বিরুদ্ধে প্রোপাগাণ্ডা বা প্রচারণা চালানো হলে ডিজিটাল নিরাপত্তার আইননুসারে সাজা হবে।
শাস্তি হচ্ছে : সর্বোচ্চ সাজা ১৪ বছর বা সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ড।

৪. ডিজিটাল বা ইলেক্ট্রনিক জালিয়াতিঃ আইনে বলা আছে, কোনো ব্যক্তি যদি অনাধিকার চর্চার মাধ্যমে অন্যকোন কম্পিউটার বা মোবাইলের তথ্য পরিবর্তন বা মুছে ফেলে কিংবা অন্য কোনো অপরাধ করে তাহলে এটি হবে ডিজিটাল জালিয়াতি। যেমন: কোনো ব্যক্তি যদি আরেকজনের একাউন্ট হ্যাক করে তার তথ্য মুছে পেলে কিংবা নতুন কোনো তথ্য যুক্ত করে তাহলে এটা ডিজিটাল জালিয়াতি। এটি কারও ই-মেইলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে।
শাস্তি হচ্ছে: সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ড।

৫. পরিচয় প্রতারণা এবং ছদ্মনামধারণঃ আপনি যদি অন্য কারও নাম বা ছবি ব্যবহার করে ভুয়া ফেইসবুক, টুইটার বা ইন্টারনেট ভিত্তিক কোনো একাউন্ট খোলেন তাহলে এটি একধরনের প্রতারণা। এটি করা যাবে না আইননুসারে।
শাস্তি হচ্ছে: পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা।

৬. আক্রমনাত্মক, মিথ্যা বা ভয় দেখানোঃ যদি অনলাইনে এমন কোন তথ্য প্রকাশ বা প্রচার করেন যেটা মিথ্যা হওয়া স্বত্বেও কোনো ব্যক্তিকে বিরক্তি, অপমান বা হেও প্রতিপন্ন করার জন্য এটি করছেন এবং এটি যদি রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় তাহলে এটি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
শাস্তি হচ্ছে তিন বছরের কারাদণ্ড বা তিন লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ড হতে পারে।

৭. অনুমতি ছাড়া পরিচিত তথ্য ব্যবহারঃ এর মাধ্যমে বোঝানো হচ্ছে আপনি যদি কারও অনুমতি ছাড়া তার ছবি, ঠিকানা বা ডেবিট ক্রেডিট কার্ডের নাম্বার ইত্যাদি সংগ্রহ করেন এগুলো ইন্টারনেট ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেন তাহলে এটি অপরাধ। যদি কাউকে যৌন হয়রানির উদ্দেশ্যে কারও অজ্ঞাত শারীরিক তথ্য বা ছবি ধারণ কিংবা সেগুলো প্রকাশ করেন।
এর কারণে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ড হতে পারে।

৮. ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাতঃ যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত হানার জন্য ওয়েবসাইট বা ইন্টারনেটে প্রকাশ করে এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এরজন্য ৭ বছরের কারাদণ্ড বা দশ লক্ষ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ড হতে পারে।

৯. মানহানি তথ্য প্রকাশঃ যদি কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেক্ট্রনিক বিন্যাসে এই ধরনের কাজ করেন তাহলে এটি অপরাধ যদি করেন সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা তিন লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ড হতে পারে।

কিভাবে নিজেদের নিরাপদ রাখবেন…
১. যেকোনো তথ্য যখন আপনি শেয়ার করবেন এটি অত্যন্ত জরুরি যে সেটাকে যাচাই করা, এটি সত্য নাকি মিথ্যা।

২. আমরা নানা ধরনের মন্তব্য করে থাকি বিভিন্ন ধরনের সোশ্যাল মিডিয়ায় এধরণের মন্তব্য করার আগে চিন্তা করতে হবে এটি প্রতিহিংসামূলক কিনা বা মানসম্মান ক্ষুন্ন করছে কিনা কিংবা সেই মন্তব্যের কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা এই বিষয়ে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে।

Translated, Oral to Verbal from BBC News বাংলা।

অনুবাদেঃ মোহাম্মদ আইয়াছুর রহমান আজিজ
বিবিএ (হি:বি:), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply