তীব্র যানজট এবং অভ্যন্তরীণ ও প্রধান সড়কের মৃত্যু ফাঁদে বিপন্ন কোটবাজারবাসীর পথচলার ছন্দ।

যানজটের কবলে কোটবাজার।

মোহাম্মদ হোসেন, উখিয়া :
উখিয়া উপজেলার সব চেয়ে ব্যস্ততম এলাকা কোটবাজার। প্রতিদিন লক্ষ মানুষের পদাচারণায় মুখরিত থাকে এলাকাটি। কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক এবং উখিয়া উপজেলার প্রায় মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত বলে এ এলাকার সাথে সোনার পাড়া, মরিচ্যা, ভালুকিয়া ও উখিয়া স্টেশনের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। যার দরুণ উখিয়ার সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা হিসেবে এটি অনেক আগেই স্বীকৃতি পেয়েছে।কক্সবাজার জেলার বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহি বাজারগুলোর মধ্যে কোটবাজার হল অন্যতম। দক্ষিণ কক্সবাজারের সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবেও এর রয়েছে যথেষ্ট সুনাম। উন্নত মানের পণ্য থেকে শুরু করে টাটকা মাছ, ইলেকট্রনিক সামগ্রীর অভাব নেই যা এখানে পাওয়া যায় না। তাই উখিয়া উপজেলার অধিকাংশ মানুষ কোটবাজার মুখী।
রোহিঙ্গাদের আগমনে এ অঞ্চলের জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি যানবাহনের সংখ্যাংও বৃদ্ধি পেয়েছে জ্যামিতিক হারে চলাচলের চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে আশঙ্কাজনক হারে। কোটবাজারের প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণে নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে এ সড়কে যাতায়াতকারী উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলাবাসীকে। পূর্বে উখিয়া স্টেশন থেকে কক্সবাজার শহরে আসতে যেখানে তিরশ থেকে চল্লিশ মিনিট সময় লাগতো সেখানে বর্তমানে সময় লাগে দেড় থেকে দু’ঘন্টা।

মহাসড়কে মৃত্যু ফাঁদ।

সরেজমিনে দেখা গেছে,রোহিঙ্গাদের ত্রাণবাহী বড় বড় ট্রাক, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বরত এনজিওগুলোর শত শত গাড়ির যাতায়াতের ফলে মহাসড়কের বেশিরভাগ অংশের ঢালায় উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোটবড় গর্তের যার দরুণ এখানে প্রায়ই লেগে থাকে দুর্ঘটনা।তাছাড়া যানবাহনের আধিক্যের কারণে সকাল-সন্ধ্যা এখানে লেগে থাকে তীব্র জ্যাম। ফলে স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রী, অফিসগামী চাকরিজীবীদের সঠিক সময়ে স্কুল ও অফিসে পৌঁছতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
কোটবাজার স্টেশনের প্রধান সড়কের উভয় পার্শ্ব, অলিগলি ও যত্রতত্র সিএনজি, অটোরিক্সার অবৈধ পার্কিং যানজটের পরিমাণকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

এ বিষয়ে এলাকার সচেতন মহলের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা এ বিপন্ন অবস্থা থেকে দ্রুত উত্তরণের জন্য ট্রাফিক আইন শতভাগ কার্যকর, সড়কে যাতায়াতকারী কাগজপত্র বিহীন সকল গাড়ি জাব্দকরণ, রাস্তাঘাট মেরামত ও প্রশস্তকরণ এবং জনসাধারণের মাঝে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির পরামর্শ দেন এবং প্রশাসনকে এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান।

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply