তৃণমূল নেতাদের সমালোচনায় নাছির – bdnews24.com

[ad_1]

শনিবার দুপুরে নগরীর এস এস খালেদ রোডের একটি কমিউনিটি সেন্টারে এই
বর্ধিত সভায় বক্তাদের আলোচনা জুড়ে ছিল আসন্ন সিটি নির্বাচন এবং কিছুদিন আগে অনুষ্ঠিত
চট্টগ্রাম-৮ আসনের নির্বাচন।

নগর আওয়ামী লীগের অধীন ওয়ার্ড, থানা ও ইউনিট কমিটিগুলোর অনৈক্য,
পাল্টাপাল্টি কমিটি ও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ আনেন গত পাঁচ বছর ধরে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে
থাকা নাছির।

সভায় তিনি বলেন, “আমরা চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ যেভাবে আমাদের
সুযোগ ছিল বা আছে, যদি নিজেরা নিজেদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করি.. যারা ইউনিট, ওয়ার্ড,
থানা কমিটিগুলোতে মূল দায়িত্ব পালন করছেন… মহানগর আওয়ামী লীগ তো আলাদা কিছু না। আপনাদের
নিয়েই মহানগর আওয়ামী লীগ।

“জানি না আমাদের (নগর কমিটির নেতৃবৃন্দ) সাফল্য-ব্যর্থতা কতটুকু
কী আছে, কিন্তু এতটুকু বলতে পারব আমরা আমাদের অবস্থান থেকে চেষ্টা করেছি। নিয়মিত সাংগঠনিক
সভা, বর্ধিত সভা করেছি। সংগঠনকে গতিশীল করতে যে সমস্ত ছোটখাটো দূরত্ব আছে সেগুলো গুছিয়ে
সবাইকে একত্রিত করে এক জায়গায় এনে সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছি।”

তৃণমূল নেতাদের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “এখানে আপনারা
যারা আছেন তাদের সাথে আমরা আলোচনা করতে পারি। সেটা কার্যকর করাটা নির্ভর করে যারা ইউনিটের
দায়িত্বে আছেন তাদের উপর।

“পুরো মহানগরীকে ১০টা অঞ্চলে ভাগ করে সাংগঠনিক কার্যক্রম বুঝিয়ে
দেয়া হয় অনেক আগে। কিন্তু সেটা হঠাৎ মুখ থুবড়ে পড়ে। এই কার্যক্রম যেভাবে করা উচিত কেন
জানি কেউ কেউ সেটা করছেন না। ঢালাওভাবে বলব না। না করার পেছনে যুক্তিটা কী এটাও কিন্তু
বোধগম্য নয়।”

মেয়র নাছির আরও বলেন, “অনেক ইউনিট কমিটি আছে, সেগুলো আদৌ আছে কিনা
আপনারা জানেন আর আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জানেন। একেক সময় একেক তালিকা দেন।

“আহ্বায়ক এক তালিকা দেয় তো যুগ্ম আহ্বায়ক আরেক রকম দেন। এটা কি গ্রহণযোগ্য?
ইউনিট আওয়ামী লীগে তো সম্মেলন হয়নি তাহলে নেতৃত্ব কিভাবে পরিবর্তন হল? এখন সামনে সিটি
নির্বাচন, এখন কিছু করার নেই।”

তিনি বলেন, “থানা আওয়ামী লীগও কয়েকটা বাদে দৃশ্যমান দেখা যায়নি।
অজুহাত দিতে পারবেন, অজুহাত দেখিয়ে লাভ নেই। দায়িত্ব পালনের ইচ্ছা থাকলে সেটা করা যায়।
আশা করি ইতিবাচক মনোভাবের পরিচয় দেবেন।”

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম-৮ আসনে ভোটার উপস্থিতি কম থাকায় ওই
আসনের অধীন সাংগঠনিক ইউনিটগুলোর ব্যর্থতাকে দায়ী করেন আসন্ন নির্বাচনে আবারও মেয়রপ্রার্থী
হতে ইচ্ছুক নাছির।

চট্টগ্রাম-৮ আসনের অধীন সাংগঠনিক ইউনিটগুলোকে নির্বাচনী কার্যক্রম
পরিচালনায় একাধিকবার বলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “ভোট কেন্দ্রের বাইরে আপনারা সবাই
উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ভোট কতটা পড়েছে সবাই জানেন। যদিভালো ভাবে কাজ করতে পারতাম, আস্থাটা
তৈরি করতে পারতাম তাহলে জনগণ বাঁধভাঙা জোয়ারের মত ছুটে আসত ভোট দেয়ার জন্য।”

নাছিরের বক্তব্যের আগে সভায় বক্তব্য দেয়া নগর কমিটির সদস্য শিক্ষা
উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, “চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ চট্টগ্রাম
জেলার সবথেকে শক্তিশালী সংগঠন। অনেকে অনেকভাবে বলে আরো এই করতে হবে, ওই করতে হবে..
উন্নতির কোনো সীমা নাই। উন্নতি আকাশের সীমার চাইতে বেশি করা যাবে।

“মুজিববর্ষের প্রাক্কালে
আমাদের সিটি নির্বাচন হওয়ার একটা সম্ভাবনা আছে। মুজিববর্ষ ও নির্বাচনকে মাথায় রেখে
অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব চট্টগ্রাম মহানগরের সর্বস্তরে আসতে যাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “থানা কমিটি ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। অনুরোধ
নির্বাচনের প্রাক্কালে কলিশন (সংঘাত) যেন না হয়। তফসিল ঘোষণা হয়ে যাবে, প্রচারণাও শুরু
হবে। আমরা যেন সংযত থাকি সব বিষয়ে।

“আমাদের মধ্যে অনেকে নির্বাচন করতে চাইবেন। কাউন্সিলর থেকে সর্বোচ্চ
পদে সেটা চাইবেন। আমরা যাতে ঐক্যবদ্ধভাবে বসে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা নিয়ে একটা সিদ্ধান্তে
আসতে পারি। তাহলে আমাদের মধ্যে ইনডিসিপ্লিন হবে না।”

নগর কমিটির সভাপতি
মাহতাব উদ্দীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় চট্টগ্রাম-৮ আসনের সাংসদ মোছলেম উদ্দিন আহমদ,
নগর কমিটির সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু ও সুনীল সরকার, সম্পাদকমণ্ডলীর
সদস্য এম এ রশিদ, মশিউর রহমান চৌধুরী, চন্দন ধর, ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, নোমান আল মাহমুদ
ও চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনীসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



[ad_2]

Source link

Share the post
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply